কেবল ক্যালেন্ডারের পাতা উল্টেই নয়, নববর্ষ আসে উৎসবে-আনন্দে; আসে মানুষে মানুষে মিলনের বার্তা নিয়ে। আর সেটিই দৃশ্যমান হলো চাঁদপুর সাহিত্য একাডেমির বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে। যেখানে বয়স আর ধর্মের দেয়াল ভেঙে একটি দুপুর সবাই মেতেছিল ভ্রাতৃত্ব ও সম্প্রীতির জয়গানে। কথা, কবিতা, লোকজ গান আর একসাথে বসে পান্তা ভোজনের এই উৎসব জানান দেয়, নববর্ষ বাঙালির হাজার বছরের নিজস্ব সংস্কৃতি।চাঁদপুর সাহিত্য একাডেমি প্রতিষ্ঠার পর এবারই প্রথম এমন বর্ণাঢ্য পরিসরে বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এই আয়োজনের ভেতরে ছিল ভিন্নতা, নতুনত্ব আর এক ধরনের আন্তরিকতা। যেখানে আনুষ্ঠানিকতার চেয়ে বেশি জায়গা করে নিয়েছিল পরস্পরের হৃদয়ের স্পর্শ।
১৪ এপ্রিল (মঙ্গলবার) বেলা ১১টা, সাহিত্য একাডেমির মোহাম্মদ নাসীরউদ্দিন মিলনায়তন যেন ধীরে ধীরে পরিণত হয় এক উন্মুক্ত সাংস্কৃতিক মঞ্চে। বাইরে বৈশাখের রোদ, আর ভেতরে শব্দের উষ্ণতা। একে একে জড়ো হন সাহিত্য একাডেমির সদস্য, কর্মকর্তা, কবি লেখক, গল্পকার, এবং বিভিন্ন বয়সের সাহিত্যপ্রেমীরা। বেলা সাড়ে ১২টা বাজতেই আগতরা খুলে বসেন– কথা, কবিতা আর গানের ঝুলি। আড্ডা শুরু হয়, তারপর তা গড়িয়ে পড়ে কবিতার পঙ্ক্তিতে, আবৃত্তির আবেগে, আর গানের সুরে। প্রান্তিক সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সভাপতি কাজী রাসেল এবং তার দলের সংগীত পরিবেশনা মুহূর্তেই বদলে দেয় পুরো অনুষ্ঠানের রঙ। কখনো মাটির গন্ধ, কখনো ফোক, কাওয়ালী, বাউল, আবার কখনো শহুরে সুর। সব মিলিয়ে সাহিত্য একাডেমি হয়ে উঠে যেন এক বহমান বৈশাখী নদী।
সাহিত্য একাডেমির মহাপরিচালক কাদের পলাশের সভাপতিত্বে এবং পরিচালক ও বর্ষবরণ উদযাপন পরিষদের আহ্বায়ক আশিক বিন রহিমের প্রাণবন্ত সঞ্চালনায় প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন, চাঁদপুর সরকারি কলেজের সহযোগী অধ্যাপক সাইদুজ্জামান। তার কথায় উঠে আসে বর্ষবরণ উৎসবের ইতিকথা, সাহিত্য ও সংস্কৃতির ধারাবাহিকতা, নতুন প্রজন্মের দায়বদ্ধতা এবং বৈশাখের অন্তর্নিহিত চেতনা।
কথা, কবিতা পাঠ এবং শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন, সাহিত্য একাডেমির পরিচালক (গবেষণা) মুহাম্মদ ফরিদ হাসান, পরিচালক (সাহিত্য) মাইনুল ইসলাম মানিক, নির্বাহী সদস্য নুরুন্নাহার মুন্নি, মুখলেছুর রহমান ভূঁইয়া, কবির হোসেন মিজি, উজ্জ্বল হোসাইন, শেখ মহিউদ্দিন রাসেল। তাদের কথায় ফুটে ওঠে এই আয়োজনের প্রতি ভালোবাসা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার ইঙ্গিত। এসময় আরো বক্তব্য রাখেন, একাডেমির সাধারণ সদস্য ও সংগঠক লায়ন মাহমুদ হাসান খান, আবদুল গনিসহ আগত লেখকবৃন্দ। সংগীত পরিবেশন করেন তানজিদ কোতোয়াল।
দুপুরে রোদের তীব্রতা বাড়ার সাথে সাথে, ধীরে ধীরে স্তিমিত হয় শব্দ। তখন সবাই একসঙ্গে বসেন পান্তা ভোজনের আয়োজনে। যেখানে কোন দয়াল নেই, খাবারের প্লেটের ভিন্নতা নেই, কিংবা নেই কোন অতিথি। ধর্ম-জাত কিংবা বয়সের দেয়াল ভেঙ সবাই একসঙ্গে বসে অংশ নেয় পান্তা ভোজনে। আপ্যায়নের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন, নববর্ষ উদযাপন পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুনাহার মুন্নি, মোখলেছুর রহমান ভূঁইয়া, সদস্য সচিব মুহাম্মদ হানিফ, সদস্য এএম সাদ্দাম হোসেন, আরিফুল ইসলাম শান্ত ও ইমরান শাকির ইমরু।
এসময় উপস্থিত ছিলেন, কবি ও লেখক ম. নূরে আলম পাটওয়ারী, মোঃ আউয়াল হোসাইন লিটন, মুহাম্মদ কাউসার আলম রুবি, খাইরুল আলম, জান্নাত আক্তার, শেখ আরিফ মহিউদ্দীন, তানিয়া ইসলাম, হযরত আলী রনি প্রমুখ।
স্টাফ রিপোর্টার/
১৫ এপ্রিল ২০২৬
Chandpur Times | চাঁদপুর টাইমস Top Newspaper in Chandpur