কচুয়া

ভিসা জটিলতায় চিকিৎসা নিতে পারছেন না কচুয়ার ইঞ্জি. জহিরুল

‘ফ্যাসিও স্কপোলো হিউমেরাল মাসকুলার ডিস্ট্রোফি’ নামে বিরল রোগে আক্রান্ত কচুয়ার যুবক ইঞ্জি. মোঃ জহিরুল ইসলাম (২৬) উন্নত চিকিৎসার জন্য পথে পথে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। সে কচুয়া উপজেলার বেরকোটা গ্রামের অধিবাসী মোঃ আব্দুল মতিনের পুত্র।

ইঞ্জি. জহিরুল ইসলাম কচুয়ায় অবস্থিত চাঁদপুর পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট থেকে ২০১৪ সালে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং শেষ করে।

মেধাবী ছাত্র জহিরুল ইসলাম যে বয়সে বাবা-মায়ের দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে জীবন সংগ্রামে নামার কথা, সেই বয়সেই তাকে জটিল এক রোগের কারণে পরিবারের বোঝা হতে হয়েছে। জহিরুল ইসলামের পুরো শরীর শুকিয়ে প্রায় অর্ধেক বিকলাঙ্গ হতে বসেছে।

স্বাভাবিক চলাফেরা করতে কষ্ট হয়। অন্যের সাহায্য ছাড়া ঘরের বাহিরে বের হতে পারছেন না। গত ৮ বছর ধরে বাংলাদেশ ও ভারতে চিকিৎসা নিচ্ছেন। চিকিৎসা নিলেও কোন উন্নতি হচ্ছে না। দিন দিন মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন।

জহিরুল ইসলাম চাঁদপুর টাইমসকে বলেন, অন্যদের মতো আমিও বাঁচতে চাই। আমাকে বাঁচার শেষ চিকিৎসা সেবা নেয়ার সুযোগটুকু করে দিন প্লিজ। আমিও এ সুন্দর পৃথিবীর আলো বাতাসে বেঁচে থাকতে চাই।

তিনি কচুয়া প্রতিনিধি হিসেবে বেশ কয়েক বছর চাঁদপুরের স্থানীয় পত্রিকায় সাংবাদিকতা করেন ও কচুয়া প্রেসক্লাবের সদস্য ছিলেন।

ভারতের একাধিক চিকিৎসক জানিয়েছেন, তার এ বিরল রোগের চিকিৎসা আছে কেবল আমেরিকার বৃহত্তর চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান ‘ইউনিভার্সিটি অব রোসেষ্টোর মেডিকেল সেন্টারে নিয়োরো মাসকুলার রিচার্জে’। ওই প্রতিষ্ঠানের ডিরেক্টর অধ্যাপক ড. রাবি তাওয়াল এর সঙ্গে রোগি জহিরুল ইসলামের যোগাযোগ হয়েছে। তার চিকিৎসার ব্যয়ভার বহনের দায় নিতে পারবে এমন ব্যক্তিও যোগাড় হয়েছে আমেরিকায়। তবে বর্তমানে জহিরুল ইসলাম আমেরিকায় যাওয়ার জন্য ভিসা জটিলতায় আছেন। ৩ বার ভিসার জন্য এমবাসির মুখামুখি হয়েও সে আমেরিকায় চিকিৎসা নিতে যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছে না।

এ অবস্থায় অনেকটা ভেঙ্গে পড়েছেন জহিরুল ইসলাম। উন্নত চিকিৎসা ও সার্বিক সহযোগিতার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন ইঞ্জি. জহিরুল ইসলাম।

প্রতিবেদক- জিসান আহমেদ নান্নু
: আপডেট, বাংলাদেশ সময় ১০:০৩ পিএম, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, রোববার
ডিএইচ

Share