Home / সারাদেশ / ‘ভাবিকে ডেকেছিলাম, সে বলে সাইফুলের মরা মুখ দেখবে’
'ভাবিকে ডেকেছিলাম, সে বলে সাইফুলের মরা মুখ দেখবে'

‘ভাবিকে ডেকেছিলাম, সে বলে সাইফুলের মরা মুখ দেখবে’

দেড় যুগ আগে এক সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালককে হত্যার দায়ে ফাঁসি কার্যকর হওয়া ছিনতাইকারী মো. সাইফুল ওরফে শহীদের খালাতো বোন রুখসানার বক্তব্য, ‘সাইফুল ভালো ছিলেন, মো. শহীদুল্লাহ ওরফে শহীদের (ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত অপর আসামি) ফাঁদে পড়ে ছোটখাটো অপরাধে জড়িয়ে পড়েন তিনি।’

এই ছোটখাটো অপরাধ থেকে একেবারে খুন পর্যন্ত। অবশেষে সেই খুনের অপরাধে ফাঁসির দড়িতে ঝোলার মধ্যে দিয়েই সাঙ্গ হলো সাইফুলের জীবন যার পিতা একাত্তরের রণাঙ্গনের বীর যোদ্ধা। অবস্থা এমন হয়েছে, জীবিত সাইফুলকে শেষবারের মতো দেখতেও আসেননি তার স্ত্রী।

মঙ্গলবার দিনগত রাত দেড়টার দিকে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের মূল ফটকের বাইরে ভাইয়ের মরদেহের জন্য অপেক্ষা করছিলেন রুখসানা। সঙ্গে দুই শিশুকন্যা ও স্বামী।

এসময় রুখসানা বলেন, ‘আড়াই বছর বয়সে মা সালমাকে হারানো সাইফুল ভাই বড় হন আমার মা শেফালী বেগমের কাছে। আমি আমার মায়ের একমাত্র সন্তান। ছোটকাল থেকে আমাদের বাড়িতে থাকায় সাইফুলকে আমি আপন বড় ভাইয়ের মতো দেখতাম।’

সাইফুল সুষ্ঠু বিচার পায়নি দাবি করে রুখসানা বলেন, ‘আমার ভাই প্রায় ১০ বছর ধরে জেল খেটেছে। এতদিন জেল খাটার পরেও তার ফাঁসি হয়ে গেল। আমরা আমার ভাইয়ের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড আশা করেছিলাম। সেটা হলে মাঝে মাঝে এসে ভাইয়ের মুখটা হলেও দেখতে পারতাম। কিন্তু হলো না। আমরা গরীব। ছোটকালে মা হারানো সাইফুল ভাইকে আমার মা বড় করেছেন। এখন সাইফুল ভাইয়ের পঞ্চম শ্রেণি পড়ুয়া ১২ বছরের ছেলে সজিবকে আমাদেরই বড় করতে হবে। আমাদের জীবনটা যেনো একটা গল্পের বই।’

পরিবার সূত্র জানায়, সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালককে খুনের অপরাধে সাইফুল গ্রেফতার হওয়ার সময় তার ছেলে সজিবের বয়স মাত্র ১৪ মাস। সাইফুলের স্ত্রী বেশ কিছুদিন অপেক্ষা করলেও স্বামীর মুক্তির কোনো সম্ভাবনা না দেখে অভাব-অনটনে শ্বশুর বাড়ি ছেড়ে চলে আসেন নগরীতে। বর্তমানে তিনি আগ্রাবাদ এলাকায় একটি পোশাক কারখানায় কাজ করেন।

এদিকে সাইফুলের মরদেহ গ্রহণ করতে তার বাবা কামাল উদ্দিন, মা আছিয়া খাতুন, ছেলে সজিব, বোন রুখসানা, রুখসানার জামাই জসিম দুই সন্তানকে নিয়ে আসলেও সাইফুলের স্ত্রী আসেনি।

এ বিষয়ে রুখসানা বলেন, ‘আমরা ভাবিকে ডেকেছিলাম। কিন্তু সে আমাদের বলে সকালে (বুধবার) এসে সাইফুলের মরা মুখ দেখে যাবে।’

পরিবার সূত্র জানায়, মো. সাইফুল ওরফে শহীদের বাড়ি মিরসরাই উপজেলার জোরারগঞ্জ থানা এলাকায়।

মঙ্গলবার দিনগত রাত ১২টা ১ ‍মিনিটে ফাঁসি কার্যকরের পর সকল প্রক্রিয়া শেষে রাত ১টা ৫০ মিনিটে অ্যাম্বুলেন্সে করে মরদেহ কারাগার থেকে বের করে গ্রামের বাড়ির উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হয়। এসময় খুনের অপরাধে আরেক ফাঁসি কার্যকর হওয়া আসামি মো.শহীদুল্লাহ ওরফে শহীদের মরদেহও আরেকটি অ্যাম্বুলেন্সে করে বের করে আনা হয়। তবে তার মরদেহের সঙ্গে মাত্র দুজন ব্যক্তিকে দেখা গেছে। তাদের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তারা কোনো কথা বলতেও রাজি হননি।

সাইফুলের বাবা বাবা কামাল উদ্দিন মহান মুক্তিযুদ্ধের রণাঙ্গণের সৈনিক। ৭১ সালে এক নম্বর সেক্টরের হয়ে ফটিকছড়ির বাগানবাজার এলাকায় পাক হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রাণপন লড়েছেন।

খুনের অপরাধে ছেলে সাইফুলের এমন পরিণতির পর মুক্তিযোদ্ধা কামাল উদ্দিনকে দেখা গেছে বেশ বিপর্যস্ত-বিধ্বস্ত। (বাংলানিউজ)

নিউজ ডেস্ক : আপডেট, বাংলাদেশ সময় ৮:০০ এএম, ১৩ জুলাই ২০১৬, বুধবার
ডিএইচ

Leave a Reply