ফরিদগঞ্জ

ফরিদগঞ্জে স্কুলগামী শিশু শিক্ষার্থী ‘ধর্ষিত’

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে গুপ্টি পূর্ব ইউনিয়নের কালিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশু শিক্ষার্থীকে ‘ধর্ষণের’ অভিযোগ পাওয়া গেছে। আহত শিশুটিকে ফরিদগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে চাঁদপুর সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।

বুধবার (২৯ মার্চ) সকাল ৯টার সময় কালিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণিতে পড়ুয়া ৬ বছর বয়সের এক হিন্দু শিশু শিক্ষার্থী তার সহপাঠির সাথে বিদ্যালয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বের হলে পথিমধ্যে শিশুটি স্কুল সভাপতির ছেলে কর্তৃক ধর্ষণের শিকার হয়েছে বলে দাবি করেছে পরিবার।

এ বিষয়ে ফরিদগঞ্জ থানার ওসি মো. শাহ-আলম ধর্ষণের ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, এনিয়ে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। দুপুরে ফরিদগঞ্জ থানার এস আই মঞ্জুর তদন্তের জন্য ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। আসামী আটকের চেষ্টা চলছে।

ঘটনাস্থলে জানা যায়, স্কুলে আসার পথে সাকিব (১৫) নামের একটি ছেলে শিশুটির সাথে থাকা সহপাঠি আরেক শিশুকে চকলেট দিয়ে বিদায় করে পরে শিশুটিকে পাশের নির্জন বাগানে নিয়ে ধর্ষণ করে। সকাল ১০ টার সময় ধর্ষিত শিশুটি কাঁদতে কাঁদতে বাড়িতে গিয়ে তার মাকে ঘটনাটি জানায়।

এ সর্ম্পকে শিশুটির মা চাঁদপুর টাইমসকে জানান, ‘কেন সে কাঁদছে জিজ্ঞাসা করলে সে জানায় পাশের সাকিব নামের এক বখাটে তার মুখ ও গলা চেপে ধরে কি যেন করেছে। তার পরনে পোশাকটি ছিলো রক্তাক্ত। পরে তাকে স্থানীয় দু’জন পল্লী চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়া হলে তারা জানায় আমার শিশু মেয়েটির ওপর শারীরিক ও যৌন নির্যাতন করা হয়েছে। বিষয়টি স্থানীয় চেয়ারম্যানকে জানালে তিনি থানায় গিয়ে মামলা করার পরামর্শ দেন।

এক প্রশ্নের জবাবে শিশুটির মা জানান, ‘সাংবাদিক ভাই দেখেন আমার হাসি খুশি থাকা ছোট্ট মেয়েটির চোখে মুখে শুধুই আতঙ্ক বিরাজ করছে। সে শুধুই কাঁদছে। আমি একজন মা হিসাবে এ কষ্ট রাখবো কোথায়?’

এ সর্ম্পকে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো.মোশারফ হোসেন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ‘প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণির শিশুটি বিদ্যালয়ে আসার পথে বখাটে কর্তৃক যে ঘটনা ঘটেছে তা’আমি আমার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। আমি আর এ বিষয়ে আর কোনো কিছু বলতেও পারবো না।’

অপর এক প্রশ্নের জবাবে প্রধান শিক্ষক বিষয়টি তাদের নিজেদের পাশাপাশি বাড়ির বিষয় বলে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন
স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, অভিযুক্ত সাকিব ওই স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মো. শাহ আলমের ছেলে।

এ বিষয়ে সভাপতি কিংবা তার অভিযুক্ত ছেলে সাকিবের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষকরা এ বিষয়ে সর্ম্পকে মন্তব্য করতে রাজি হননি। এলাকার সচেতন জনগণ এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করছেন ।

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
আপডেট, বাংলাদেশ সময় ০৭: ১০ পিএম, ২৯ মার্চ ২০১৭, বুধবার
ডিএইচ

Share