ফরিদগঞ্জে পৌর এলাকায় সড়ক নির্মাণকাজে ড্রেজার দিয়ে কাদা-মাটি ভরাট
চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ পৌর এলাকায় আইইউজিআইপি’র (IUGIP) সড়ক নির্মাণকাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। নিয়ম ভেঙে বালুর পরিবর্তে নদীর চর থেকে ড্রেজার দিয়ে কাদা-মাটি তুলে সড়কে ভরাট করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় এলাকাবাসী।
এ ঘটনায় চর থেকে মাটি বিক্রির জন্য প্রতি স্কয়ার ফিট ১৫ টাকা দরে চুক্তির কথা স্বীকার করেছেন এক যুবদল নেতা।
রোববার (১ নভেম্বর) শেষ বিকেলে পৌর এলাকার কেরোয়া গ্রামে গিয়ে এই ঘটনা দেখা যায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কেরোয়া গ্রামের গজারিয়া চরে একটি অবৈধ ড্রেজার স্থাপন করা হয় এবং প্রায় ছয় শ ফুট পাইপ সংযোগ দেওয়া হয়। ড্রেজার চালুর মাধ্যমে রাস্তা নির্মাণের জন্য বক্স কাটিং করা জমিতে চর থেকে ড্রেজারের মাধ্যমে কাদা-মাটি ও পানি তোলা শুরু হয়। এর ফলে পুরো রাস্তা কাদা-পানিতে সয়লাব হয়ে যায় এবং চরম দুর্ভোগে পড়েন স্থানীয় হাজারো মানুষ। জনবসতিপূর্ণ এলাকায় এভাবে রাস্তা বন্ধ করে কাজ করায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সড়কটির ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এসএস এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী রাকিবুল হাসান দীপু হলেও মাঠপর্যায়ে সাব-ঠিকাদার হিসেবে কাজটি পরিচালনা করছেন স্থানীয় বাসস্ট্যান্ড এলাকার মোঃ শাহজাহান।
তবে ঠিকাদার রাকিবুল হাসান দাবি করেন, শাহজাহান নামে কাউকে তিনি চেনেন না।
এদিকে ঘটনার সংবাদ সংগ্রহ করতে গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত হওয়ার প্রায় ৪০ মিনিট পর চর উন্নয়ন কমিটির কোষাধ্যক্ষ ও যুবদল নেতা আমিন মিজি মুঠোফোনে কথা বলেন।
তিনি জানান, চর উন্নয়ন কমিটির সভাপতি মজিবুর রহমান দুলাল এবং সাধারণ সম্পাদক আজাদ পাটোয়ারী। এ সময় চর থেকে ড্রেজার দিয়ে বালু বা মাটি নেওয়ার জন্য রাস্তার সাব-ঠিকাদার শাহজাহানের সঙ্গে প্রতি স্কয়ার ফিট ১৫ টাকা দরে চুক্তি হওয়ার কথা তিনি স্বীকার করেন। তবে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও চর কমিটির সভাপতি মজিবুর রহমান দুলাল ফোন রিসিভ করেননি।
এ বিষয়ে ফরিদগঞ্জ পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুল কাদির জানান, রাস্তাটি আইইউজিআইপি’র প্রকল্পের হলেও এর দেখভালের দায়িত্বে পৌর কর্তৃপক্ষ রয়েছে। তবে চর থেকে ড্রেজার দিয়ে মাটি বা কাদা এনে রাস্তার কাজে ব্যবহারের কোনো সুযোগ নেই এবং এটি সম্পূর্ণ অবৈধ।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আনিসুর রহমান জানান, অবৈধভাবে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করার বিষয়টি খতিয়ে দেখে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ঘটনার বিষয়ে ফরিদগঞ্জ পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মেহেদী হাসান মানিক জানিয়েছেন, এ ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
ফরিদগঞ্জ প্রতিনিধি/
২ নভেম্বর ২০২৬