ফরিদগঞ্জে ছাত্রদলের কার্যালয়ে হামলা-ভাঙচুর, ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত ৬

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ ডিগ্রি কলেজে ছাত্রদের অভ্যন্তরীণ কথা কাটাকাটিকে কেন্দ্র করে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের দু’পক্ষের মধ্যে তীব্র সংঘাতের সৃষ্টি হয়েছে। সংঘর্ষের জের ধরে পৌর ছাত্রদলের দলীয় কার্যালয়ে হামলা ও ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়েছে। এ সময় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে পৌর ছাত্রদল নেতা মামুন তরফদার (২০) গুরুতর আহতসহ অন্তত ৬ জন আহত হয়েছেন।

গুরুতর আহত মামুন তরফদারের বুকে গুরুতর ক্ষত তৈরি হওয়ায় তাঁকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১৮টি সেলাই দিয়ে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চাঁদপুর জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাতে পৌর শহরের শহীদ মিনার ও ভান্ডারী মহল এলাকায় অবস্থিত পৌর ছাত্রদলের কার্যালয়ে দফায় দফায় এসব হামলার ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গত তিন দিন আগে ফরিদগঞ্জ ডিগ্রি কলেজে ছাত্রদল নেতা আশিকুর রহমানের অনুসারী রাহুল এবং ছাত্রদল নেতা তানজিল গাজীর অনুসারী হামজালা রাফির মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। এর জের ধরে শনিবার রাত সাড় ৮টার দিকে ফরিদগঞ্জ শহীদ মিনারের সামনে উভয় পক্ষের মধ্যে প্রথমে হাতাহাতি হয়। পরবর্তীতে রাত ১২টার দিকে ভান্ডারী মহল সংলগ্ন পৌর ছাত্রদলের কার্যালয়ে একদল সংঘবদ্ধ যুবক হামলা চালিয়ে আসবাবপত্র ভাঙচুর করে।

হামলাকালে বাধা দিতে গেলে পৌর সদর এলাকার কাছিয়াড়া তরফদার বাড়ির মোঃ খোরশেদ আলমের ছেলে পৌর ছাত্রদল নেতা মামুন তরফদারকে ছুরিকাঘাত করা হয়। এতে তাঁর বুকের বাম পাশে গভীর ক্ষত সৃষ্টি হয়।

এছাড়া হামলায় আহত অন্য ছাত্রদল নেতারা হলেন, তানজিল গাজী (২৫), জিসান আহমেদ (২৫), ইফাজ (২১), রাশেদ (২০) ও হামজালা রাফি (২১)। আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

হামলার বিষয়ে ছাত্রদল নেতা তানজিল গাজী অভিযোগ করে বলেন, আমরা রাত সাড়ে ১০টার দিকে ভান্ডারী মহলে দলীয় কার্যালয়ে অবস্থান করছিলাম। এ সময় আশিকুর রহমানের অনুসারী ৩০-৪০ জন ষ উচ্ছৃঙ্খল যুবক আমাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় এবং কার্যালয়ে ভাঙচুর করে। হামলাকারীরা আমাদের সহযোদ্ধা মামুন তরফদারকে হত্যার উদ্দেশ্যে বুকের বাম পাশে ধারালো ছুরি দিয়ে জখম করেছে। এ ঘটনায় আমরা থানায় লিখিত মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছি।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ছাত্রদল নেতা আশিকুর রহমান জানান, কলেজের ঘটনাটি নিয়ে উভয় পক্ষের শনিবার সন্ধ্যায় বসে মীমাংসা করার কথা ছিল। কিন্তু রাতে শহীদ মিনারের সামনে তাদের মধ্যে নতুন করে হাতাহাতি হয়। পরে সেখানে রাহুলের মা-বাবাসহ অনেকে হাজির হলে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করি। এর মধ্যে কিছু বহিরাগত ও পরিবারের সদস্যরা দলীয় কার্যালয়ের দিকে যায়। খবর পেয়ে আমরাও গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনি। তবে কে বা কারা মামুনকে আঘাত করেছে তা আমাদের জানা নেই।

এ বিষয়ে ফরিদগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ এরশাদ উল্যাহ বলেন, ছাত্রদলের দুই পক্ষের বিরোধ নিয়ে সংঘর্ষ ও ভাঙচুরের খবর পাওয়া মাত্রই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। জানা গেছে সংঘাত চলাকালে একজন ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আহত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে পৌর ছাত্রদল কার্যালয়ে হামলা ও রক্তাক্ত সহিংসতার ঘটনায় ফরিদগঞ্জ উপজেলা ও পৌর বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতৃবৃন্দ তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। অবিলম্বে সংঘর্ষে জড়িত দোষীদের সনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

প্রতিবেদক: শিমুল হাছান,
২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬