ফরিদগঞ্জে গ্রীষ্মকালীন ফুটবল খেলায় দুদফা মারামারি, আহত ১২

চাঁদপুরের ফুরিদগঞ্জে ৫০তম গ্রীষ্মকালীন জাতীয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতা’র ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে মারামারি যেনো সঙ্গী হয়ে গেছে। জাতীয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় চির্কা চাঁদপুর স্কুল এন্ড কলেজ মাঠে গত রোববার ৩ সেপ্টেম্বর তুমুল মারপিটের ঘটনা ঘটেছে। সব মিলিয়ে অন্তত ১২জন আহত হয়েছে। গৃদকালিন্দিয়া স্কুলের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকগণ প্রায় দুই ঘন্টা অবরুদ্ধ ছিলেন একটি কক্ষে। তাদের অবরুদ্ধ করে রাখে চির্কার শিক্ষার্থীরা।

সোমবার ফরিদগঞ্জ এ.আর. হাই স্কুল মাঠের বাইরেও মারপিটের সৃষ্টি হয়। পুলিশ গতকাল এ.আর. হাই স্কুল এলাকা থেকে মেহেদি ইসলাম নামের নমব শ্রেণির ১জন শিক্ষার্থীকে আটক করে থানায় নিয়ে গেছে। সে পূর্ব বড়ালী কবির জুনিয়র উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। ক্রীড়া প্রতিযোগিতার ভেন্যু নির্ধারণ করা হয় চির্কা চাঁদপুর স্কুল এন্ড কলেজ মাঠে। সংঘর্ষের কারণে এ.আর. উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ভেন্যু পরিবর্তন করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার। এতেও শেষ রক্ষা হয়নি।

সোমবার ফরিদগঞ্জ এ.আর হাই স্কুলের গন্ডিতে মারপিটের সৃষ্টি হয়। এর পূর্বেও এই মাঠে ফুটবল খেলায় শোল্লা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা খামলার শিকার হয়। একই ঘটনার পুনরাবৃত্তির ফলে সরকারের সংশ্লিষ্টদের দায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ওইদিকে, বিচার না পেয়ে শোল্লা স্কুল এন্ড কলেজ গ্রীষ্মকালীন জাতীয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতার খেলা বর্জন করেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ৫০তম গ্রীষ্মকালীন জাতীয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতার অংশ হিসেবে আন্তস্কুল ফুটবল টুর্ণামেন্টের ভেন্যু নিধৃারণ করা হয় চির্কা চাঁদপুর স্কুল এন্ড কলেজ মাঠ। প্রথম দিন রোববার অন্তত সাতটি স্কুল পর্যায়ক্রমে খেলায় অংশ নেয়। বেলা এক ঘটিকার পর স্বাগতিক চির্কা চাঁদপুর স্কুল ও গৃদকালিন্দিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের মধ্যে খেলা শুরু হয়। খেলা চলাকালীন চির্কার টিম লিডার দ্বাদশ প্রথম বর্ষের এক শিক্ষার্থীকে খেলতে নামায়। এতে, আপত্তি করলে চির্কার শিক্ষার্থীরা গৃদকালিন্দিয়ার শিক্ষার্থীদের বেদমভাবে মারধর করে।
মারামারির খবর পেয়ে উপজেলা এ্যাকাডেমিক সুপারভাইজার আবদুল্লাহ আল মামুন মাঠে উপস্থিত হন। তিনি এলাকার লোকজনকে সাথে নিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে হিমশিম খান ও দীর্ঘ প্রায় দুই ঘন্টা পর অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে গৃদকালিন্দিয়ার টোটাল টিমকে নিরাপত্তা দিয়ে গাড়িতে তুলে দেন। ওই বিদ্যালয়ের ক্রীড়া শিক্ষক মো. ইউছুফ জানান, আমাদের অন্তত ১০ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়েছি। ঘটনার পর খেলা বন্ধ হয়ে যায়। চির্কার ক্রীড়া শিক্ষকসহ অন্যান্যদের দায়ী করেছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।

গৃদকালিন্দিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাহাঙ্গীর হোসেন জানিয়েছেন, রোববার সন্ধ্যার পর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কক্ষে বৈঠক হয়। এতে, সংঘর্ষ ও নিরাপত্তার কারণে খেলার ভেন্যু পরিবর্তন করে ফরিদগঞ্জ এ.আর. উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে নেয়া হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, বেলা পাঁচ ঘটিকা নাগাদ এ.আর. উচ্চ বিদ্যালয়ের রাস্তায় অন্তত ৬০-৭০ জন শিক্ষার্থীকে মারামারি করতে দেখা যায়। এ.আর. এর শিক্ষার্থীরা দাবী করে তাদের একজন শিক্ষার্থীকে মেরে রক্তাক্ত করেছে পূর্ব বড়ালী শাহজাহান কবির উচ্চ বিদ্যালয় এর শিক্ষার্থীরা। তারা হন্যে হয়ে কাউকে খঁুজছিল। ওই সময় কারও হাতে লাঠি দেখা যায়। কিছুক্ষণ পর লাঠি হাতে এগিয়ে যান এ.আর. এর প্রধান শিক্ষক রফিকুল আমিন কাজল। কিন্তু, শিক্ষার্থীরা দমে যায়নি। কিছুক্ষণের মধ্যে সেখান দিয়ে মোটরবাইকে যাওয়ার পথে দুজন পুলিশ নেমে পড়েন। তারা তাদের নিবৃত্ত করার চেষ্টা করেন। প্রায় ৩০ মিনিট পর একজন শিক্ষার্থীকে আটক করে রাখেন। পরে, খেলার পর তাদের থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

মারামারি ঘটনায় এ.আর. এর একজন শিক্ষার্থী আহত হওয়ার দাবীর বিষয়ে জানার জন্য প্রধান শিক্ষক রফিকুল আমিন কাজল ও ক্রিড়া শিক্ষক সুলতারা রাজিয়া দিপু’র মুঠোফোনে কল দিলে তারা রিসিভ করেননি। অপরদিকে, পূর্ব বড়ালী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নেছার আহম্মদ বলেছেন, আমার স্কুলর বাইরে কি হয়েছে তা আমার জানার প্রয়োজন নেই। দু’জন শিক্ষার্থীকে থানা থেকে ছুটিয়ে আনবে তাদের অভিভাবকরা।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার তাছলিমুন নেছা বলেন, চির্কা-চাঁদপুর স্কুলে মারপিটের ঘটনায় ভেন্যু পরিবর্তন করা হয়েছিল। গতকাল সোমবারও পরিবর্তিত ভেন্যুতে মারপিটের ঘটনা শুনেছেন বলে তিনি স্বীকার করেন। প্রতি বছর একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটছে ও চির্কা-চঁাদপুর স্কুলে পুলিশের নিরাপত্তা রাখা হয়নি কেনো- এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি প্রশ্ন করে বলেন আমি কত স্কুলে পুলিশ দেবো।

এ বিষয়ে ফরিদগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত অফিসার ইনচার্জ প্রদীপ মন্ডল জানান, খেলাকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে মারামারির ঘটনায় এক শিক্ষার্থীকে আটক করা হয়েছে এবং শিক্ষক অভিভাবকের জিম্বায় ছেড়ে দেওয়া হয়।

প্রতিবেদক: শিমুল হাছান, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৩

Share