রাজনীতি

নিজামীর পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ : মৃত্য পরোয়ানা জারি

একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াতের আমির মাও. মতিউর রহমান নিজামীর দণ্ড কার্যকরের জন্য মৃত্যু পরোয়ানা জারি করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। মূলত এরমধ্যে দিয়েই তার দণ্ড কার্যকরের প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেলো।

ট্রাইবুনালের চেয়ারম্যান মো. আনোয়ারুল হকের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল মঙ্গলবার রাত ৯টায় পরোয়ানা জারি করেন। এরপর বিশেষ বার্তা বাহকের মাধ্যমে তা পৌঁছে দেয়া হয় কারাগারে। অনুলিপি পাঠানো হয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছেও।

সর্বোচ্চ আদালত মামলার রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এ পরোয়ানা জারি করা হলো।
জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর আপিলের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ হয়েছে। মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ মাওলানা নিজামীর মৃত্যুদণ্ড পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করেন।

এর আগে রায়ে স্বাক্ষর করেন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এসকে) সিনহা, বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন ও বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী। ১৫৩ পৃষ্ঠার রায়ে বিচারপতিদের স্বাক্ষরের পর সুপ্রিম কোর্টের ওয়েব সাইটে প্রকাশ করা হয়।

গত ৬ জানুয়ারি মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীকে ট্রাইব্যুনালের দেয়া মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছে রায় ঘোষণা করেন আপিল বিভাগ। ট্রাইব্যুনালের রায়ে মাওলানা নিজামীকে চারটি অভিযোগে মৃত্যুদ- দেয়া হয়েছিল।

আপিল বিভাগের রায়ে একটি বাদ দিয়ে তিন অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়। অপর একটি অভিযোগ থেকে তাকে অব্যাহতি দেয়া হয়। এছাড়া ট্রাইব্যুনালের রায়ে চারটি অভিযোগে মাওলানা নিজামীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়েছিল। আপিল বিভাগের ঘোষিত রায়ে দুটি অভিযোগে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বহাল রাখা হয়। এছাড়া অপর দুটি অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়।

রায়ে মাওলানা নিজামীর আপিল আংশিক গ্রহণ করে রাষ্ট্রপক্ষের দায়ের করা ২, ৬ ও ১৬ নম্বর অভিযোগে ট্রাইব্যুনালের দেয়া মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়। এছাড়া ৭ ও ৮ নম্বর অভিযোগে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডও বহাল রাখা হয়। নিজামীর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষে মোট ১৬টি মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়। এর মধ্যে আটটি অভিযোগ, অর্থাৎ ১, ২, ৩, ৪, ৬, ৭, ৮ ও ১৬ নম্বর অভিযোগে ট্রাইব্যুনাল তাকে সাজা দেয়। ২, ৪, ৬ ও ১৬ নম্বর অভিযোগে নিজামীকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিল ট্রাইব্যুনাল। এর মধ্যে ৪ নম্বর অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দিয়ে বাকি তিনটি অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন আপিল বিভাগ। এছাড়া ১ ও ৩ নম্বর অভিযোগে মাওলানা নিজামীকে যাবজ্জীবন কারাদ- দিয়েছিল ট্রাইব্যুনাল। আপিল বিভাগ এ দুটি অভিযোগ থেকেও তাঁকে অব্যাহতি দিয়েছে। তবে ৭ ও ৮ নম্বর অভিযোগে দেয়া যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বহাল রেখেছে আপিল বিভাগ। মাওলানা নিজামীর বিরুদ্ধে যে তিন অভিযোগে মুত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়েছে তা হল- ১৯৭১ সালে পাবনা জেলার সাঁথিয়া উপজেলার বাউশগাড়িসহ দু’টি গ্রামে প্রায় সাড়ে চারশ’ মানুষ গণহত্যা ও নারী ধর্ষণ, ধুলাউড়ি গ্রামে ৫২ জনকে গণহত্যা এবং বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ড ও সুপিরিয়র রেসপন্সিবিলিটি অভিযোগ।

এর মধ্যে ৪ নম্বর অভিযোগ- করমজা গ্রামে ১০ জনকে গণহত্যা, একজনকে ধর্ষণসহ বাড়ি-ঘরে লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ থেকে মাওলানা নিজামীকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। অপরদিকে বৃশালিখা গ্রামের সোহরাব আলী হত্যার ৭ নম্বর অভিযোগ এবং শহীদ জননী জাহানারা ইমামের ছেলে রুমী, বদি, জালালসহ সাত মুক্তিযোদ্ধা হত্যার প্ররোচনার ৮ নম্বর অভিযোগের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বহাল রেখেছে আপিল বিভাগ। ২০১৪ সালের ২৩ নভেম্বর মাওলানা নিজামীর খালাস চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় আপিল আবেদন দায়ের করেন তার আইনজীবীরা।

১২১ পৃষ্টার মূল আপিল আবেদনে ১৬৮টি যুক্ত দেখিয়ে মাওলানা নিজামীর খালাস চাওয়া হয়। আবেদনে ৬ হাজার ২৫২ পৃষ্ঠার দলিল দস্তাবেজ জমা দেয়া হয়। একই বছরের ২৯ অক্টোবর মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীকে মৃত্যুদণ্ড দেয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১।

মাওলানা নিজামীর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের দ্বায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মোট ১৬টি অভিযোগের মধ্যে ৮টিতে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। এর মধ্যে ৪টি অভিযোগে তাকে মৃত্যুদণ্ড এবং অপর ৪টি অভিযোগে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।

এছাড়া বাকি ৮টি অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় মাওলানা নিজামীকে অভিযোগগুলো থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়

 আপডেট ০২:২০ এএম, ১৬ মার্চ ২০১৬, বুধবার

ডিএইচ

Share