নজরুল বর্ষ উপলক্ষে চাঁদপুর থিয়েটার ফোরামের আয়োজনে ১০ নাট্যোৎসবের সমাপনী অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার ২ সেপ্টেম্বর চাঁদপুর জেলা শিল্পকলা এবাডেমিতে নানা আয়োজন ও বর্ণিল সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে চাঁদপুরে শেষ হয়েছে এই ১০ দিনব্যাপী নাট্য ও সাংস্কৃতিক উৎসব।
সমাপনী দিনে বিকেল ৪টায় সপ্তসুর সংগীত একাডেমির মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দিনের আয়োজন শুরু হয়। এতে নৃত্য, একক ও দলীয় সংগীতসহ বিভিন্ন পরিবেশনা দর্শকদের মুগ্ধ করে। পরে অনুষ্ঠিত হয় সমাপনী ও সংবর্ধনা পর্ব।
সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চাঁদপুর সদর উপজেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম জামিউল হিকমা, বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের সেক্রেটারি জেনারেল কামাল বায়োজিদ, চাঁদপুর জেলা মহিলা দলের সভাপতি অ্যাডভোকেট মনির বেগম চৌধুরী এবং বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের অর্থ সম্পাদক রফিকুল্লাহ সেলিম।
অনুষ্ঠানে চাঁদপুরের প্রবীণ নাট্যচর্চায় বিশেষ অবদান রাখার জন্য দুজন গুণী নাট্যব্যক্তিত্বকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। সংবর্ধিত অতিথি ছিলেন প্রবীণ নাট্যকার, নাট্যাভিনেতা ও নির্দেশক আক্রাম খান এবং মো. হানিফ পাটওয়ারী।
সমাপনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চাঁদপুর থিয়েটার ফোরামের সভাপতি মো. হাবিবুর রহমান। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন চাঁদপুর থিয়েটার ফোরামের সাধারণ সম্পাদক এম আর ইসলাম বাবু।
১০ দিনব্যাপী এ উৎসবে চাঁদপুরের বিভিন্ন নাট্য, নৃত্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠন অংশ নেয়। সমাপনী পর্বে উৎসবে অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন নাট্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ নেতৃবৃন্দের হাতে শুভেচ্ছা স্মারক তুলে দেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমানসহ অন্যান্য অতিথিবৃন্দ।
এর পূর্বে রাত ৮টায় মঞ্চস্থ হয় অনন্যা নাট্যগোষ্ঠীর নাটক ‘জল রূপালী’। নাটকটি রচনা ও নির্দেশনা দিয়েছেন জসীম মেহেদী। সংগঠনের সদস্যরা নাটকটির বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেন।
গত ২২ আগস্ট উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এ উৎসবে প্রতিদিনই ছিল নৃত্য, আবৃত্তি, সংগীত, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও নাটক মঞ্চায়ন। চাঁদপুরের বিভিন্ন নাট্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের শিল্পী-কর্মীদের অংশগ্রহণে পুরো আয়োজনজুড়ে জেলা শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণ ছিল উৎসবমুখর।
নজরুল বর্ষকে সামনে রেখে আয়োজিত এ উৎসব চাঁদপুরের নাট্য ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের শিল্পী-কর্মীদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ ও সম্প্রীতি আরও দৃঢ় করার পাশাপাশি দর্শকদের মঞ্চনাটক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ সময় জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান বলেন, শিল্প-সংস্কৃতির চর্চাকে এগিয়ে নিতে এ ধরনের আয়োজন নিয়মিত করা প্রয়োজন। এর মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের মধ্যে সৃজনশীলতা ও মানবিক মূল্যবোধ গড়ে ওঠে। তিনি দর্শকদের উদ্দেশে বলেন, আপনারা নিয়মিত এ ধরনের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করুন এবং উপভোগ করুন। কারণ শিল্প-সংস্কৃতির সঙ্গে তরুণ প্রজন্মকে সম্পৃক্ত রাখা গেলে তাদের সৃজনশীল কাজে ব্যস্ত রাখা সম্ভব হয় এবং তারা মাদকসহ নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে থাকতে উৎসাহিত হয়।
প্রতিবেদক: কবির হোসেন মিজি /
৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Chandpur Times | চাঁদপুর টাইমস Top Newspaper in Chandpur