Home / চাঁদপুর / নজরুলবর্ষ উপলক্ষে চাঁদপুরে মোহন বাঁশি স্মৃতি ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা
নজরুলবর্ষ

নজরুলবর্ষ উপলক্ষে চাঁদপুরে মোহন বাঁশি স্মৃতি ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ঘোষিত ‘নজরুলবর্ষ ২০২৬-২৭’ উদযাপনের অংশ হিসেবে চাঁদপুরে ‘চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

নতুন প্রজন্মের হৃদয়ে নজরুলের সাম্য, মানবতা, দ্রোহ ও সৌন্দর্যচেতনার বীজ রোপণের প্রত্যয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহন বাঁশি স্মৃতি ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের উদ্যোগে এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকালে চাঁদপুর শহরের আক্কাস আলী রেলওয়ে একাডেমিতে আয়োজিত অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করে।

সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি অজিত দত্তের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন আক্কাস আলী রেলওয়ে একাডেমির প্রধান শিক্ষক গোফরান হোসেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন সংগঠনের সহ-সভাপতি মো. আলমগীর হোসেন পাটোয়ারী এবং চাঁদপুর সাহিত্য একাডেমির পরিচালক ও সাহিত্য মঞ্চের সভাপতি আশিক বিন রহিম। এর আগে সকালে প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন আক্কাস আলী রেলওয়ে একাডেমির সহকারী শিক্ষক, কবি ও সাহিত্যিক ইমরান সাকির।

বক্তারা বলেন, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম কেবল বিদ্রোহের কবিই নন, তিনি সাম্য, মানবতা, অসাম্প্রদায়িকতা ও মুক্তচিন্তার এক অনন্য দিশারী। তাঁর সাহিত্য ও সংস্কৃতির চেতনাকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে এ ধরনের সাংস্কৃতিক আয়োজন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তারা শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল প্রতিভা বিকাশ, শিল্প-সাহিত্য ও সংস্কৃতিচর্চার প্রসার এবং মানবিক মূল্যবোধ গঠনে এমন উদ্যোগ ধারাবাহিকভাবে অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের দুটি বিভাগে ভাগ করা হয়। এতে ক- বিভাগে ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণির এবং খ- বিভাগে অষ্টম থেকে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়। ক্ষুদে শিল্পীরা রঙ-তুলি আর কল্পনার মেলবন্ধনে ক্যানভাসে ফুটিয়ে তোলে তাদের স্বপ্ন, অনুভূতি ও সৃজনশীলতার নান্দনিক প্রকাশ। পুরো আয়োজনে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ, যেখানে শিল্পের প্রতি শিশু-কিশোরদের ভালোবাসা স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার সার্বিক পরিচালনা, ফলাফল মূল্যায়ন ও বিজয়ী নির্বাচন কার্যক্রমে বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহন বাঁশি স্মৃতি ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সদস্য হাসান হাবীব ধ্রুব, অর্পিতা দত্ত, সিমান্ত সরকার, প্রিয়ন্তী দত্ত, শায়ন্তি দাস, পালকি কর্মকার ও শৈবাল মজুমদার।

প্রতিযোগিতা শেষে বিচারকদের মূল্যায়নের ভিত্তিতে দুই বিভাগের ৫ জন করে ১০ জন বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানের সমাপনী পর্বে আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন, এমন সৃজনশীল উদ্যোগের মধ্য দিয়ে নতুন প্রজন্ম জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের আদর্শ, সাহিত্য, শিল্পবোধ ও সংস্কৃতিচর্চায় আরও উদ্বুদ্ধ হবে এবং মানবিক, অসাম্প্রদায়িক ও সৃজনশীল বাংলাদেশ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

স্টাফ রিপোর্টার/
২৩ জুলাই ২০২৬