তিন মাস ধরে নেই চক্ষু ও নাক-কান-গলার চিকিৎসক, দুর্ভোগে রোগীরা
চাঁদপুর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সরকারি জেনারেল হাসপাতালে প্রায় তিন মাস ধরে নাক-কান-গলা (ইএনটি) ও চক্ষু বিভাগের চিকিৎসক না থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন চিকিৎসা নিতে আসা সাধারণ রোগীরা। প্রতিদিন জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও আশপাশের এলাকা থেকে শত শত রোগী হাসপাতালে এসে কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসাসেবা না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে চক্ষু ও নাক-কান-গলা বিভাগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পদ শূন্য থাকায় সংশ্লিষ্ট বিভাগের বহির্বিভাগ কার্যক্রম কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। ফলে চোখের বিভিন্ন সমস্যা, দৃষ্টিশক্তি সংক্রান্ত জটিলতা, ছানি, কানের ব্যথা, শ্রবণ সমস্যা, নাক ও গলার বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত রোগীরা চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
প্রতিদিন চিকিৎসার আশায় হাসপাতালে আসা রোগীদের অনেকেই জানতে পারেন যে সংশ্লিষ্ট বিভাগের কোনো চিকিৎসক বর্তমানে কর্মরত নেই। এতে দূর-দূরান্ত থেকে আসা রোগীদের সময় ও অর্থ দুটোই অপচয় হচ্ছে। অনেকে বাধ্য হয়ে বেসরকারি ক্লিনিক কিংবা জেলা শহরের বাইরে চিকিৎসাসেবা নিতে যাচ্ছেন, যা নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি করছে। হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা কয়েকজন রোগী জানান, সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার আশায় এসে চিকিৎসক না পেয়ে ফিরে যেতে হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অভাবে সাধারণ রোগীরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। দ্রুত শূন্য পদগুলো পূরণ করে চিকিৎসাসেবা স্বাভাবিক করার দাবি জানান তারা।সচেতন নাগরিকরাও বলছেন, চাঁদপুরের একমাত্র বৃহৎ সরকারি হাসপাতাল হওয়ায় এখানে প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক রোগী চিকিৎসাসেবা নিতে আসেন। এমন গুরুত্বপূর্ণ দুটি বিভাগের চিকিৎসক দীর্ঘদিন অনুপস্থিত থাকাটা অত্যন্ত দুঃখজনক। জনস্বার্থে দ্রুত চিকিৎসক নিয়োগের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।
এ বিষয়ে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. এ কে এম মাহাবুবুর রহমান বলেন, নাক-কান-গলা এবং চক্ষু বিভাগের চিকিৎসকের পদ শূন্য রয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আবেদন করা হয়েছে। আমরা দ্রুত চিকিৎসক পদায়নের জন্য নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি। আশা করছি শিগগিরই চিকিৎসক নিয়োগ হলে রোগীদের ভোগান্তি কমে আসবে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, জেলার লাখো মানুষের চিকিৎসাসেবার স্বার্থে শূন্য পদগুলো দ্রুত পূরণ করে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা হবে।
প্রতিবেদক: কবির হোসেন মিজি/
২০ জুন ২০২৬