বিশেষ সংবাদ

দাবিকৃত আসনে মনোনয়ন না পেলেও ছাড় দেবে না জামায়াত

৪৩ আসনে প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে জামায়াত ।

নির্বাচন কমিশন থেকে নিবন্ধন না থাকলেও এবং সর্বোচ্চ আদালতের রায়ে দলীয় প্রতীক হারালেও আগামী একাদশ নির্বাচনের প্রস্তুতি থেমে নেই জামায়াতে ইসলামীর। দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন না করার ঘোষণা দিলেও আগেই নির্বাচনী প্রস্তুতি শুরু করেছে দলটি। গত নির্বাচনে ৩৯টি আসনে নির্বাচন করলেও আগামী নির্বাচনে অন্তত ৫০ থেকে ৬০টি আসনে ২০ দলীয় জোটের মনোনয়ন চাইবে দলটি। তবে জামায়াত সূত্র নিশ্চিত করেছে, ৪৩ আসনে প্রার্থী চূড়ান্ত।

জামায়াতের নীতি নির্ধারক পর্যায়ের এক নেতা পূর্বপশ্চিমকে বলেন, অন্তত ৬০ আসনে জোটের মনোনয়ন চাইবেন তারা। দলের প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় সারির নেতাদের বেশিরভাগই কারাগারে। বাকিরা পলাতক। দলীয় নিবন্ধন আদালতের রায়ে অবৈধ ঘোষিত হয়েছে। এরপরও বিএনপি জামায়াতকে এতগুলো আসনে ছাড় দেবে কি না এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আন্দোলনে জামায়াত সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেছে। জান ও মাল দিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই করেছে। নির্দলীয় সরকারের দাবিতে আগামী দিনের আন্দোলনেও জামায়াত সর্বোচ্চ ভূমিকা পালন করবে। ত্যাগের বিবেচনায় ৬০ আসন কিছুই নয়।’

সর্বশেষ ২০০৮ সালের নির্বাচনে ৩৯টি আসনে নির্বাচন করে জামায়াত। এর মধ্যে ৩৪টিতে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোটের মনোনয়ন পান জামায়াত প্রার্থীরা। চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩, রাজশাহী-৩, সিরাজগঞ্জ-৪ ও মেহেরপুর-১ আসনে বিএনপি-জামায়াত দু’দলই প্রার্থী দেয়। বরগুনা-২ আসনে প্রার্থী দিয়েও নির্বাচনের চার দিন আগে বিএনপির সঙ্গে সমঝোতায় সরে দাঁড়ায়। ২০০১ সালের নির্বাচনে ৩০টি আসনে জোটের মনোনয়ন পায় জামায়াত। আর চট্টগ্রাম-১৪ আসনে বিএনপি-জামায়াত দু’দলেরই প্রার্থী ছিল। এবারও দাবি করা আসনে জোটের মনোনয়ন না পেলে ছাড় দেবে না জামায়াত।

জামায়াত সূত্রগুলো নিশ্চিত করে, ৪৩টি আসনে তাদের প্রার্থী চূড়ান্ত। তারা হলেন এম এ হাকিম ঠাকুরগাঁও-২, মোহাম্মদ হানিফ দিনাজপুর-১, আনোয়ারুল ইসলাম দিনাজপুর-৬, মনিরুজ্জামান মন্টু নীলফামারী-২, আজিজুল ইসলাম নীলফামারী-৩, হাবিবুর রহমান লালমনিরহাট-১, শাহ হাফিজুর রহমান রংপুর-৫, নূর আলম মুকুল কুড়িগ্রাম-৪, আবদুল আজিজ গাইবান্ধা-১, নজরুল ইসলাম গাইবান্ধা-৩, আবদুর রহিম সরকার গাইবান্ধা-৪, নুরুল ইসলাম বুলবুল চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২, মো. লতিফুর রহমান চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩, আতাউর রহমান রাজশাহী-৩, রফিকুল ইসলাম খান সিরাজগঞ্জ-৪, আলী আলম সিরাজগঞ্জ-৫, মতিউর রহমান নিজামীর পরিবারের কোনো সদস্য পাবনা-১, মাওলানা আবদুস সোবহান পাবনা-৫, ছমিরউদ্দিন মেহেরপুর-১, মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান চুয়াডাঙ্গা-২, মতিয়ার রহমান ঝিনাইদহ-৩, আজিজুর রহমান যশোর-১, আবু সাইদ মুহাম্মদ সাদাত হোসাইন যশোর-২, অ্যাডভোকেট আবদুল ওয়াদুদ বাগেরহাট-৩, শহীদুল ইসলাম বাগেরহাট-৪, মিয়া গোলাম পরওয়ার খুলনা-৫, শাহ মুহাম্মদ রুহুল কুদ্দুছ খুলনা-৬, ইজ্জতউল্লাহ সাতক্ষীরা-১, আবদুল খালেক মণ্ডল সাতক্ষীরা-২, মুফতি রবিউল বাশার সাতক্ষীরা-৩, গাজী নজরুল ইসলাম সাতক্ষীরা-৪, দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী অথবা তার দুই ছেলে পিরোজপুর-১ ও ২, শফিকুল ইসলাম মাসুদ পটুয়াখালী-২, মুহাম্মদ কামারুজ্জামানের ছেলে শেরপুর-১, অধ্যাপক জসিমউদ্দিন ময়মনসিংহ-৬, ফরীদউদ্দিন সিলেট-৫, মাওলানা হাবিবুর রহমান সিলেট-৬, ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের কুমিল্লা-১১, শামসুল ইসলাম চট্টগ্রাম-১৪, হামিদুর রহমান আযাদ কক্সবাজার-২ ও শাহজালাল চৌধুরী কক্সবাজার-৪। এ আসনগুলোর মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২, সিরাজগঞ্জ-৫, ময়মনসিংহ-৬, সাতক্ষীরা-১, পটুয়াখালী-২, কক্সবাজার-৪ এই ছয়টি আসনে জামায়াত নতুন করে লড়তে যাচ্ছে। গত নির্বাচনে এ আসনগুলোতে জামায়াতের প্রার্থী ছিল না। তবে ময়মনসিংহ-৬ আসনে ২০০১ সালে জামায়াত প্রার্থী জোটের মনোনয়ন পেয়েও পরাজিত হন। সিরাজগঞ্জ-৫ ও কক্সবাজার-৪ আসনে জামায়াতের সম্ভাব্য প্রার্থীরা বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান। এ কারণেই আসন দুটিতে ছাড় দিতে নারাজ তারা।

নিউজ ডেস্ক : আপডেট, বাংলাদেশ সময়০৯:৩০ এ.এম, ১৯ মার্চ ২০১৭,রবিবার
ইব্রাহীম জুয়েল

Share