জমি বিরোধে জেরে ‘মিথ্যা মামলা’-এজাহারে মারধরের অভিযোগ
চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে জমিজমা–সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে কয়েকটি পরিবারের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার গুপ্টি পশ্চিম ইউনিয়নের ষোলদানা গ্রামের মিজি বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
অভিযোগ রয়েছে, প্রয়াত মহসিন মিজির স্ত্রী সামছুন নাহার ও তাঁর ছেলে মো. ফয়সাল আহমেদ জমি–বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে হয়রানি করছেন। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা ও মামলার সাক্ষীদের বক্তব্যে মারধরের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ৮ মে সকালে বাড়ির জমিজমা নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে আলোচনা চলাকালে কথা–কাটাকাটি হয়। পরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা পরিস্থিতি শান্ত করেন এবং সবাই নিজ নিজ ঘরে চলে যান। তবে মামলার এজাহারে যাঁদের আসামি করা হয়েছে, তাঁদের মধ্যে ৩ নম্বর আসামি সোহেল মিজি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা।
প্রত্যক্ষদর্শী আব্দুল মান্নান মিজি ও আয়েশা বেগমসহ কয়েকজন বলেন, “সকালে জমি নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে কথা–কাটাকাটি হয়েছে। কিন্তু কোনো মারামারির ঘটনা ঘটেনি। মামলার ৩ নম্বর আসামি সোহেল মিজিও সেখানে ছিলেন না। এমনকি বাদী সামছুন নাহারও ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না এবং তারা এলাকার স্বীকৃত মামলাবাজ।”
মামলার এজাহারভুক্ত সাক্ষী হানিফ মিজি ও লতিফা বেগমও একই ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন। তাঁরা বলেন, ঘটনার দিন বাক্বিতণ্ডা হলেও কোনো হামলা বা মারধরের ঘটনা ঘটেনি।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে সামছুন নাহারের ছেলে ফয়সাল আহমেদ বলেন, “এজাহারে উল্লেখিত আসামিরা আমাদের জায়গা জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা করছিল। বাধা দিতে গেলে তারা আমার মা ও বোনদের মারধর করে। এতে আমার মা আহত হন। পরে তারা আমাদের ঘরে লুটপাট চালায়।”
মামলার সাক্ষীরা মারধরের ঘটনা অস্বীকার করেছেন—এ বিষয়ে জানতে চাইলে ফয়সাল আহমেদ সরাসরি কোনো মন্তব্য করেননি।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আক্তার হোসেন জিলন বলেন, “মিজি বাড়ির জমিজমা–সংক্রান্ত বিরোধ আগে আমরা মীমাংসা করে দিয়েছিলাম। তবে ৮ মে কোনো মারামারির ঘটনার বিষয়ে আমি অবগত নই। এছাড়া মহসিন মিজির পরিবারের সদস্যরা তাঁদের অংশের চেয়েও বেশি জমি ভোগদখলে রয়েছেন বলে জানা গেছে।”
নিজস্ব প্রতিবেদক/ ১৩ মে ২০২৬