চেয়ারম্যান আঃ রহমান মিয়াজী’র সংক্ষিপ্ত জীবনী

চেয়ারম্যান আঃ রহমান মিয়াজী সাহেব ১৯৫৪ সালের ২রা মার্চ চাঁদপুর জেলার হাইমচর উপজেলার মহজমপুর গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম আঃ আউয়াল মিয়াজী এবং মাতা মোসাম্মৎ মরিয়ম বেগম।

তিনি ২নং উত্তর আলগী ইউনিয়ন পরিষদের স্বর্ণপদকপ্রাপ্ত ২ বারের চেয়ারম্যান ছিলেন। চেয়ারম্যান থাকাকালীন অবস্থায় ২০০৮ সালে ৪ জুন অসুস্থ অবস্থায় চাঁদপুর সদর হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন। (ইন্না-লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে স্ত্রী মোসাম্মৎ সেতারা বেগম, বড় ছেলে মুহাম্মদ ইব্রাহিম খলিল শামীম ও একমাত্র মেয়ে শিরিনা আক্তার মুন্নিকে রেখে যান।
উনারা দুই ভাই ও পাঁচ বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন সবার বড়।

চেয়ারম্যান আবদুর রহমান মিয়াজী দূর্গাপুর উচ্চ বিদ্যালয় হতে এসএসসি পাশ করেন এবং ঢাকার সরকারি মিরপুর বা়ংলা কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করেন। এরপরে কিছুদিন তিনি চাকুরী করেন। পরবর্তীতে নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। ঢাকার গুলশান শাহজাদপুরে নিজের প্রতিষ্ঠিত ‘এ আর এন্ড সন্স’ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান, দোকান ও বাড়ি নির্মাণ করেন ।

চেয়ারম্যান আবদুর রহমান মিয়াজী ছিলেন “ঢাকাস্থ দক্ষিণ চাঁদপুর জনকল্যাণ সমিতি’র “অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা।
এছাড়া তিনি “হাইমচর থানা যুব কল্যাণ সমিতি’র” অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ও সাধারণ সম্পাদকসহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের দায়িত্ব সততা নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে পালন করেন।

তিনি ছিলেন একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। তিনি ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে হাইমচর উপজেলা ইউনিটে সক্রিয়ভাবে যোগদান করেন। এ সময় তিনি খাদ্য, গোলাবারুদ ও রসদ টিমের অধিনায়ক হিসেবে কাজ করেন । ১৯৭২ সালে তিনি বাংলাদেশ ছাত্রলীগ সরকারি বা়ংলা কলেজ শাখার সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে তিনি সাবেক উপ-প্রধানমন্ত্রী মো: মিজানুর রহমান চৌধুরীর রাজনৈতিক কর্মী, একান্ত আস্থাভাজন ও ঘনিষ্ঠ সহচর ছিলেন।

১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থানে এরশাদ সরকারের পতনের পর শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে চাঁদপুর সদর-হাইমচর আসনে তৎকালীন মাননীয় সংসদ সদস্য প্রফেসর মোঃ আব্দুল্লাহ সাহেবের পরামর্শে ও সাহচার্যে এসে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলে যোগদান করেন। উপজেলা বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৭-২০০৮ সালে মঈন উদ্দিন ও ফখরুদ্দীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে চেয়ারম্যান আবদুর রহমান মিয়াজী হাইমচর উপজেলা বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত সভাপতি’র দায়িত্ব পালন করেন। এ দায়িত্ব পালনকালে তৎকালীন গৃহবন্দী সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি’র চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া’র সাথে হাইমচর উপজেলার নেতা কর্মীদের নিয়ে টেলি-কনফারেন্স করেন। তিনি দলকে সবসময় সামনের সারিতে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন।

চেয়ারম্যান আবদুর রহমান মিয়াজী বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকলেও অন্য সকল রাজনৈতিক দলের নেতা কর্মী ও তাদের পরিবার পরিজনের সাথে ভ্রাতৃত্বপূর্ন সম্পর্ক বজায় রাখতেন। তিনি সুখেঃদুখে সকল মানুষের পাশে সবসময় নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন। স্কুল জীবন থেকেই তিনি বিভিন্ন খেলাধুলা, সামাজিক-সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সাথে নিয়মিত সম্পর্ক রেখেছেন । গ্রামের বিভিন্ন উন্নয়ন ও মানবিক কর্মকাণ্ডে নিয়মিত অংশগ্রহণ করতেন।

তারই ধারাবাহিকতায় এলাকার সর্বস্তরের মানুষের ভালোবাসা ও অনুরোধে হাইমচর উপজেলার ২নং উত্তর আলগী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নির্বাচনে ১৯৮৭ সালে অংশগ্রহণ করেন। বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হওয়ার পরে বিরোধী পক্ষ গোলাগুলির মাধ্যমে বিজয় ছিনিয়ে নেয়। এরপর ১৯৯২ সালের ইউনিয়ন চেয়ারম্যান নির্বাচনে বিপুল ভোটে নির্বাচনী এলাকার জনগণ তাঁকে বিজয়ী করেন। তিনি ১৯৯৫ সালে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে চাঁদপুর জেলার শ্রেষ্ঠ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান হিসেবে স্বর্ণপদক লাভ করেন। সরকারের পক্ষ থেকে দেশে ও বিদেশে বিভিন্ন জায়গায় সভা সেমিনার ও ভ্রমণের সুযোগ লাভ করেন। ১৯৯৬ সালে ভোট চুরি করার মাধ্যমে তাঁকে ইউনিয়নের নির্বাচনে পরাজিত করানো হয়। ২০০১ সালের ২নং উত্তর আলগী ইউনিয়ন নির্বাচনে জনগণের স্বতঃস্ফূর্তভাবে সমর্থন ও উপজেলার সর্বস্তরের মানুষের দোয়া ও ভালোবাসা দিয়ে জনগণ তাঁকে বিপুল ভোটে বিজয়ী করেন।

চেয়ারম্যান আঃ রহমান মিয়াজী আমৃত্যু ২নং উত্তর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। জনশ্রুতি রয়েছে যে, এলাকার রাস্তাঘাট, মসজিদ, মাদ্রাসা, স্কুল, কলেজ, এমন কোনো বাড়ি, গ্রাম ও প্রতিষ্ঠান নেই যেখানে তার উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি।
তিনি হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনের নিয়মিত খোঁজখবর নিতেন, অসচ্ছল সুবিধাবঞ্চিতদের সাহায্য করতেন এবং
তাদের ধর্মীয় উৎসব ও অনুষ্ঠানে সার্বিক সহযোগিতা ও নিরাপত্তা বিষয়ে সবসময় আন্তরিক ছিলেন।

তিনি সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরে নিয়মিত যোগাযোগের মাধ্যমে ব্যাপক উন্নয়নরমূলক কাজ সম্পন্ন করেছেন। এর মধ্যে অন্যতম ছিল ইউনিয়ন পরিষদের দোতলা ভবন, ইউনিয়নের প্রতিটি রাস্তাঘাট পিস ঢালাই এবং ইটের তৈরি করা, ইউনিয়ন ভূমি অফিস, স্বাস্থ্য কেন্দ্র, মাদ্রাসা-এতিমখানা, মসজিদ, খাল খনন, বনায়ন, শতভাগ সেনিটেশন, ২০০৪ সালের হঠাৎ বন্যার সময় ত্রাণ/ বিশেষ বরাদ্দ/ নয়ানী লামচরীতে কাটাখালী সড়কে তাৎক্ষণিক বাধ দিয়ে পানি স্রোত ও ক্ষয়ক্ষতি থেকে মানুষকে রক্ষা করার চেষ্টা করেন।
অসচ্ছল ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পড়ালেখার সুবিধার্থে শিক্ষার বিনিময়ে খাদ্য কর্মসূচি তিনিই সর্বপ্রথম ২নং উত্তর আলগী ইউনিয়নে চালু করেন।

চেয়ারম্যান আঃ রহমান মিয়াজী’র জনকল্যাণ ও সমাজকল্যাণমূলক চিন্তা চেতনা ও কাজগুলোকে সাধারণ মানুষের মধ্যে উজ্জীবিত ও চলমান রাখার লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে চেয়ারম্যান আঃ রহমান মিয়াজী ফাউন্ডেশন। স্থাপিত হয় ২০২৪ সালের ২০ ডিসেম্বর,শুক্রবার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে।

প্রতিবেদক: মোঃ আলমগীর হোসেন আসিফ/
১৭ অক্টোবর ২০২৬