চাঁদপুর সদরে বিভিন্ন প্রকল্পে চলছে শত কোটি টাকার অবকাঠামো উন্নয়ন
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে চাঁদপুর সদর উপজেলায় ব্যাপক অবকাঠামোগত উন্নয়ন কর্মকাণ্ড এগিয়ে চলছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সড়ক নির্মাণ, উন্নয়ন, সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণসহ একাধিক প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়ন ও চলমান রয়েছে। এসব উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের ফলে উপজেলার গ্রামীণ সড়ক যোগাযোগব্যবস্থা আরও গতিশীল হওয়ার পাশাপাশি কৃষি, মৎস্য, ব্যবসা-বাণিজ্য ও স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) বাংলাদেশ সরকারের অন্যতম বৃহৎ প্রকৌশল সংস্থা। ষাটের দশকে পল্লীপূর্ত কর্মসূচি বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে কার্যক্রম শুরু হলেও সময়ের পরিক্রমায় এর কর্মপরিধি ব্যাপকভাবে বিস্তৃত হয়েছে। দেশের প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে শুরু করে শহর ও নগরাঞ্চলের অবকাঠামো উন্নয়নেও এলজিইডি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। গ্রামীণ সড়ক যোগাযোগ, হাট-বাজার ও গ্রোথ সেন্টার উন্নয়নের পাশাপাশি পৌরসভা ও সিটি করপোরেশনসহ নগর স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে কারিগরি সহায়তা প্রদান এবং এসব প্রতিষ্ঠানের পরিচালন ব্যবস্থা ও দক্ষতা উন্নয়নেও এলজিইডি কাজ করছে।
চাঁদপুর সদর উপজেলাতেও এলজিইডির আওতায় বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে ব্যাপক উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে জি.ও.বি. মেইনটেন্যান্সের আওতায় ৭টি কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং আরও ৪টি কাজ চলমান রয়েছে। এসব কাজের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৭ কোটি ৫১ লাখ ৪৯ হাজার ৬১১ টাকা। সিডব্লিউএসপি প্রকল্পের আওতায় ৬টি প্যাকেজ অনুমোদিত হয়েছে এবং সবগুলো প্যাকেজের কাজ বর্তমানে চলমান রয়েছে। এ প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ৩১ কোটি ৮৯ লাখ ৯৮ হাজার ২৪০ টাকা। এছাড়া একটি ভূমি অফিস নির্মাণের কাজও চলমান রয়েছে, যার ব্যয় ধরা হয়েছে ৯৬ লাখ ৯১ হাজার ৪৮৮ টাকা। আরসিআইপি প্রকল্পের আওতায় একটি কাজ চলমান রয়েছে, যার ব্যয় ধরা হয়েছে ১৫ কোটি ৪০ লাখ ৪০ হাজার টাকা। সিসিবি প্রকল্পের আওতায় ১১টি প্যাকেজের কাজ বর্তমানে চলমান রয়েছে। এসব কাজের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ২০ কোটি ৬৮ লাখ ৭৮ হাজার ৪০৯ টাকা। পাশাপাশি আরআইডিপি-৩ প্রকল্পের আওতায় দুটি প্যাকেজের কাজ চলমান রয়েছে, যার ব্যয় ধরা হয়েছে ১ কোটি ৫৬ লাখ ৩১ হাজার ২৫০ টাকা।
এলজিইডি চাঁদপুর সদর উপজেলা প্রকৌশলী মো. রাহাত আমিন পাটোয়ারী বলেন, গ্রামকে শহরের সুযোগ-সুবিধার সঙ্গে সংযুক্ত করতে এলজিইডি অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। স্থানীয় পর্যায়ে গ্রামীণ ও নগর অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি এসব অবকাঠামোর রক্ষণাবেক্ষণ এবং স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা দেওয়া এলজিইডির অন্যতম দায়িত্ব।
চাঁদপুরের সড়ক যোগাযোগব্যবস্থা নিরবচ্ছিন্ন রাখতে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের পাশাপাশি মোবাইল মেইনটেন্যান্স কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। এর ফলে তুলনামূলক কম খরচে দ্রুত সময়ের মধ্যে অধিক সংখ্যক সড়ক মেরামত করা সম্ভব হচ্ছে।
তিনি বলেন, এলজিইডি দেশের অন্যতম বৃহৎ প্রকৌশল সংস্থা হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে পল্লী অঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ, হাট-বাজার ও গ্রোথ সেন্টার উন্নয়নের মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতিকে গতিশীল করতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আসছে। প্রত্যন্ত পল্লীর মানুষের কাছে পাকা সড়ক যোগাযোগের সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি এসব অবকাঠামো মানুষের জীবনমান উন্নয়ন ও দারিদ্র্য বিমোচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। কৃষিপণ্য ও মৎস্য সহজে বাজারজাত ও পরিবহন করা সম্ভব হওয়ায় কৃষি ও মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধিতেও এলজিইডির অবকাঠামো উন্নয়ন কার্যক্রম ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে।
মো. রাহাত আমিন পাটোয়ারী আরও বলেন, দেশের বিভিন্ন এলাকায় ক্ষুদ্রাকার পানি সম্পদ উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে স্থানীয় অংশীজনদের অংশগ্রহণে প্রকল্প প্রণয়ন, বাস্তবায়ন, পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এর ফলে কৃষি ও মৎস্য উৎপাদনের পাশাপাশি নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে। একই সঙ্গে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজন অনুযায়ী কারিগরি সহায়তা দিয়ে থাকে এলজিইডি।
তিনি আরও বলেন, উন্নয়ন প্রকল্প প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে অবকাঠামোর তথ্যভান্ডার, ম্যাপ, কারিগরি বিনির্দেশনা, টেকনিক্যাল স্পেসিফিকেশন ও বিভিন্ন ম্যানুয়াল প্রণয়ন করা হয়। দক্ষ মানবসম্পদ সৃষ্টি এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কর্মদক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের জন্য নিয়মিত প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে উন্নয়ন প্রকল্পের মান ও বাস্তবায়ন সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে।
চাঁদপুর সদর উপজেলায় চলমান এসব উন্নয়ন প্রকল্প নির্ধারিত সময়ে ও মানসম্মতভাবে বাস্তবায়িত হলে উপজেলার যোগাযোগব্যবস্থা ও সামগ্রিক অবকাঠামো উন্নয়নে আরও গতি আসবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। সড়ক যোগাযোগ উন্নত হওয়ার ফলে গ্রামের মানুষের যাতায়াত সহজ হওয়ার পাশাপাশি কৃষি ও মৎস্যজাত পণ্য দ্রুত বাজারজাতকরণ, ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার এবং স্থানীয় অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করার সুযোগ তৈরি হবে। ফলে এলজিইডির এসব উন্নয়ন কর্মকাণ্ড চাঁদপুর সদর উপজেলার গ্রামীণ জনপদের জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
প্রতিবেদক: সাইদ হোসেন অপু চৌধুরী,
১৭ আগস্ট ২০২৬