আবদুল গনি
চাঁদপুর জেলার ৮ উপজেলায় ২০২৫-’২৬ বোরো মৌসুমে সরকারিভাবে ধান ও চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ১৫ হাজার ৫শ ৫ মে. টন। এর মধ্যে ধান হলো ৫ হাজার ৯শ ৩৯ মে.টন , আতপ চাল ৮শ মে. টন এবং সিদ্ধ চাল ৮ হাজার ৭শ ৬৬ মে.টন্। এ সব ধান-চাল ক্রয়ে সরকারিভাবে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এ নির্দেশনা দিয়ে খাদ্য মন্ত্রণালয় থেকে একটি পরিপত্রও জারি করা হয়েছিল।
প্রাপ্ত তথ্য মতে, চলতি বোরো মৌসুমে সরকার জেলার ৫টি উপজেলা থেকে এ্যাপসের মাধ্যমে বা সরাসরি উপজেলা কৃষি অফিসের তালিকাভূক্ত কৃষকের কাছ থেকে ৩৬ টাকা কেজি দরে ধান এবং জেলার অনুমোদিত ১৩ জন মিলারের কাছ থেকে ৪৯ টাকা কেজি দরে চাল ক্রয় করবে। ১৫ মে শুরু হয়েছে। যা ৩১ আগস্ট ২০২৬ সাল পর্যন্ত ক্রয় করার সর্বশেষ তারিখ।
চাঁদপুর জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় সূত্রে ৮ জুন এ তথ্য জানা গেছে ।
প্রাপ্ত তথ্য মতে- চাঁদপুর জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক অফিস জানায় ‘সরকারি নির্দেশিত নিয়মে জেলা-উপজেলা কমিটি সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে ধান এবং নিবন্ধিত মিলারের কাছ থেকে চাল সংগ্রহ করে থাকে।’ ৮ উপজেলায় আটটি উপজেলা কমিটি এবং চাঁদপুর জেলায় একটি জেলা কমিটি রয়েছে। উপজেলা কমিটি সরকারি নির্দেশনা মতে প্রতি বছরই ধান ও চাল সংগ্রহ করে থাকে ।
এদিকে চাঁদপুর দেশের অন্যত্তম কৃষিভিত্তিক অঞ্চল। চাঁদপুরের জরবায়ূ কৃষি উৎপাদনে সহায়ক। মেঘনা, ডাকাতিয়া, মেঘনা-ধনাগোদা ও পদ্মা নদী বিধৌত এ চাঁদপুর। চাঁদপুর জেলার অধিকাংশ মানুষ কৃষিজীবী। জেলার ৪টি উপজেলার ২০টি ইউনিয়ন নদীভাঙ্গনগ্রস্থ, নদীবিধৌত ও নদীসিকস্তি। চাঁদপুর সেচ প্রকল্প ও মেঘনা ধনাগোদা নামে দু’টি সেচ প্রকল্প রয়েছে।
চাঁদপুর খামার বাড়ি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সূত্রে জানা যায়, চলতি ২০২৫-২৬ বছরে চাঁদপুর জেলায় ৬৪ হাজার হেক্টর জমিতে চাষাবাদ এবং উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে ২ লাখ ৭৯ হাজার ২শ মে.টন চাল। এবার এককভাবে উন্নত ফলনশীল ৪৯ হাজার ৬ শ হেক্টর চাষাবাদ এবং হেক্টর প্রতি ৪১০ মে.টনে উৎপাদন নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৯ হাজার মে.টন। হাইব্রিড ১৪ হাজার ৩ শ হেক্টর চাষাবাদ এবং হেক্টর প্রতি ৪৯৫ মে.টনে উৎপাদন নির্ধারণ করা হয়েছে ৪২ হাজার ৮শ’ ৪৫ মে.টন ।
উৎপাদন বাড়াতে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে চাঁদপুরে ৮ উপজলোয় ৪ রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে ২৬৭ কোটি ৮৫ লাখ ৫৭ হাজার টাকা কৃষি ঋণ বিতরণের লক্ষ্যে সোনালী, অগ্রণী, জনতা ও বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ঠ ব্যাংকের এক তথ্যে জানা গেছে।
কৃষিবিভাগের একজন কর্মকর্তা দাবি করে বলেন, ‘ এবার চাঁদপুরে বাম্পার বোরো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। নিরব্চ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ব্যবস্থা সচল থাকায় এটা সম্ভব বলে ঐ কর্মকর্তা জানিয়েছেন।’ প্রসঙ্গত, চাঁদপর জেলা কৃষি পরিবেশ অঞ্চল ১০,১৬,১৭,১৯ এর আওতাভুক্ত। জেলার বর্তমান ফসলের নিবিরত ১৯১%। চাঁদপুর সেচ প্রকল্প ও মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্প নামে দুটি প্রকল্প জেলার ৪ উপজেলা সদর,ফরিদগঞ্জ,মতলব উত্তর, হাইমচরে ২৩ হাজার ৩শ’ ৯০ হেক্টর জমি রয়েছে। জেলার চারটি উপজেলা যথা- চাঁদপুর সদর,হাইমচর, ফরিদগঞ্জ, মতলব উত্তর ও দক্ষিণে প্রায় ২৩ হাজার ৩শ’ ৯০ হেক্টর জমি রয়েছে এ দুটোতে।
জেলার খাদ্যের প্রয়োজন ৪ লাখ ২২ হাজার ৯শ ৫৫ মে.টন। চাঁদপুরের ৮ উপজেলায় ২০২৪-’২৫ অর্থবছরে ইরি-বোরো চাষাবাদ ও উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ২ লাখ ৯০ হাজার মে.টন চাল নির্ধারণ করা হয়েছে বলে চাঁদপুর খামার বাড়ি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এ তথ্য জানিয়েছে। হাইব্রিড, স্থানীয় ও উন্নত ফলনশীল এ ৩ জাতের ইরি-বোরোর চাষাবাদ করে থাকে চাঁদপুরের কৃষকরা।
কম-বেশি সব উপজেলাই ইরি-বোরোর চাষাবাদ হয়ে থাকে। চাঁদপুর সেচ ও মেঘনা ধনাগোদা সেচ প্রকল্প, মতলব দক্ষিণ ও হাজীগঞ্জে ব্যাপক ইরি-বোরোর চাষাবাদ হয়। এদিকে সারা দেশে ৫ লাখ মেট্টিকটন ধান ও ১২ লাখ মেট্টিকটন সিদ্ধ চাল এবং ১ লাখ মেট্টিকটন আতপ চাল সংগ্রহ করার সিদ্ধান্ত রয়েছে।
১০ জুন ২০২৬
এ জি
Chandpur Times | চাঁদপুর টাইমস Top Newspaper in Chandpur