চুরির অপবাদে এতিম এক কিশোরকে ঘুম থেকে তুলে এনে গাছে বেঁধে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলায়।
বুধবার রাতে এ ঘটনায় সফিক নামেরে একজনকে আটক করেছে বলে নিশ্চিত করেন মতলব দক্ষিণ থানা অফিসার ইনচার্জ হাফিজুর রহমান মানিক।
মঙ্গলবার ( ১১ আগস্ট) সকালে নারায়নপুর পৌরসভার গোবিন্দপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী তারেক হোসেন (১৬) পেশায় ঢাকার একটি ক্যান্টিনের শ্রমিক।
নির্যাতনের পর তারেককে রাতেই মতলব সরকারি হাসপাতালে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বাড়ীতে নিয়ে আসে। বাড়ীতে নিয়ে আসার পর তারেকের অবস্থা বেগতিক হওয়ায় বৃহস্পতিবার রাতে পূনরায় মতলব সরকারি হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করায় তার স্বজনরা।তার শরীরর বিভিন্ন জায়গায় আঘাতের চিহ্ন নিয়ে রয়েছে এবং হাসপাতালের বিছানায় কাতরাচ্ছে তারেক।
আহত তারেক ও এলাকাবাসী জানায়, রাতের বেলা একটি মানিব্যাগ ও মোবাইল চুরির সন্দেহে আল আমিন প্রধান ও সফিক প্রধানের নেতৃত্ব
তারেক ঢালীকে তার বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে যায় তাদের বাড়ীতে। সেখানে নিয়ে তাকে গাছের সাথে গামছা দিয়ে বেঁধে লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয়। নির্যাতনকারীরা তার চোখ-মুখ বেঁধে গরম পানি দেওয়ারও অভিযোগ করেন তারেক।
তারেক বলেন,চুরি দায় স্বীকারের জন্য শরীরে গরম পানি ঢেলে দেয় এবং নারিকেল গাছের ঢালা দিয়ে মারতে থাকে। জীবন বাঁচানোর জন্য চুরির কথা স্বীকার করেছি। আমি চুরি করিনি। নির্যাতনের সময় মা ছুটে গেলেও মায়ের কান্না তাদের হৃদয় স্পর্শ করেনি।মায়ের সামনেই আমাকে মারতে থাকে।
স্থানীয়রা জানান, তারেকের বাবা আগেই মারা গেছেন। মা ও ভাইবোনদের নিয়ে অভাবের সংসার। ঢাকা বিশ্ব বিদ্যালয়ের ক্যান্টিনে কাজ করে সংসার চালায় সে। এলাকাবাসী নুরুল্লাহ পাটোয়ারী বলেন, ‘ছেলেটা ভালো। এমন নির্যাতন আমরা ৫০ বছর বয়সেও দেখিনি। এরা আগেও অনেকের উপর জুলুম করেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা পুলিশকে খবর দিয়েছি। পুলিশ এসে তদন্ত করে গেছে।’
মতলব দক্ষিণ থানা অফিসার ইনচার্জ হাফিজুর রহমান মানিক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এ ঘটনায় জড়িতের মধ্যে সফিকুল ইসলাম নামে একজনকে আটক করা হয়েছে। তদন্ত চলছে। জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়রা দ্রুত বিচার ও নির্যাতনকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
প্রতিবেদক: মাহফুজ মল্লিক/
১৩ আগস্ট ২০২৬
Chandpur Times | চাঁদপুর টাইমস Top Newspaper in Chandpur