হাইমচর

চাঁদপুরে কথিত অনলাইন সাংবাদিক রুদ্র ইমরান আটক

‘চোরের দশ দিন, গিরস্তের এক দিন’। বহুল প্রচলিত এই প্রবাদবাক্যটি শতভাগ মিলে গেলো চাঁদপুরের কথিত এক অনলাইন সাংবাদিকের বেলায়। সাধারণ মানুষ থেকে রাজনৈতিক নেতা, জনপ্রতিনিধি কিংবা সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা- সবাইকে বোকা বানিয়ে নিজের স্বার্থ হাসিল করতো সে। অবশেষে পুলিশের হাতে আটক হয়ে বেরিয়ে বেরিয়ে এলো তার আসল রূপ।

নিজেকে কথিত অনলাইন প্রেসক্লাবের সদস্য এবং নামে-বেনামে বিভিন্ন অনলাইন নিউজ পোর্টালের সাংবাদিক পরিচয় দেয়া এই যুবকের নাম ইরমান। নিজেকে পরিচিত করে তোলেন নব্য আওয়ামী লীগ হিসেবে। আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের সাথে ছবি তুলে তা ফেইসবুকে পোস্ট করে নিজেকে আওয়ামী লীগার হিসেবে জাহির করে আসছিলো এই রুদ্র ইমরান। বাদ যায়নি এমপি-মন্ত্রীসহ প্রশাসনের এবং সরকারি উচ্চপদস্থ আমলারাও। তাদের সাথে ঘন ঘন দেখা করে ছবি তুলে তা প্রচার করতো সমাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।

সর্বশেষ ১ নভেম্বর চাঁদপুর জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদককে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়ে ফেইসবুকে পোস্ট করেছে। অবশেষে পুলিশের হাতে আটক হয়েছে ইমরান। চাঁদপুর আদালত হয়ে তার ঠিকানা এখন জেলা কারাগারে।

২০১৩ সালে ঢাকার পল্টন থানায় দায়েরকৃত সরকারবিরোধী জালাও-পোড়াও-নাশকতার মামলার (নং ২৬/২০১৩খ্রিঃ) ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি হিসেবে তাকে আটক করেছে হাইমচর থানা পুলিশ।

২ নভেম্বর সোমবার দুপুরে হাইমচর থানার এএসআই আব্দুল খালেক ও প্রাণকৃষ্ণের যৌথ অভিযানে হাইমচরের সদর আলগী বাজার থেকে তাকে আটক করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়,উপজেলার আলগী উত্তর ইউনিয়নের নয়ানী গ্রামের আনোয়ার হোসেনের পুত্র এই শিবির নেতা ইমরান হোসেন ওরফে রুদ্র ইমরান। সে দীর্ঘদিন জামায়াতে ইসলামীর অঙ্গ সংগঠন ছাত্রশিবিরের হাইমচর উপজেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করে।

হাইমচর উপজেলা ছাত্রলীগের সদ্যবিদায়ী সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম বলেন, ইমরান হোসেন ওরফে রুদ্র ইমরান উপজেলা ছাত্রশিবিরের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তিনি হাইমচর, চাঁদপুর ও ঢাকায় বিভিন্ন নাশকতায় জড়িত ছিলেন।

হাইমচর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জহিরুল ইসলাম খান বলেন, ২০১৩ সালে ঢাকায় পুলিশ এসল্ট ও দাঙ্গা-হাঙ্গামা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামী হিসেবে তাকে আটক করা হয়েছে। এরপর তাকে আদালতে সোপর্দ করলে আদালত তাকে কারাগারে প্রেরণ করেন।

স্টাফ করেসপন্ডেট

Share