হাইমচরে যৌতুকের দাবিতে গৃহবধূকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ, আটক ৩
চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলায় যৌতুকের দাবিতে নূর নাহার (১৮) নামের এক গৃহবধূকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামী ও শ্বশুর-শাশুড়ির বিরুদ্ধে।
মঙ্গলবার (৯ জুন) রাতে হাইমচরের উত্তর আলগী গ্রামের ভূঁইয়া বাড়ীতে এই মর্মোদয়ক ঘটনাটি ঘটে।
এই ঘটনায় নিহতের পিতা মোঃ নুরুন নবী বাদী হয়ে হাইমচর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ (এজাহার) দায়ের করেছেন।
নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার লুধুয়া গ্রামের মোঃ নুরুন নবীর মেয়ে নূর নাহারের সাথে গত বছরের এপ্রিল মাসে প্রেমের সম্পর্কের জেরে বিয়ে হয় হাইমচরের উত্তর আলগী গ্রামের ইউনুছ ভূঁইয়ার ছেলে রনি ভূঁইয়া ওরফে নিরবের (২২)। পরবর্তীতে পারিবারিকভাবে বিষয়টি মেনে নেওয়া হয়। তাদের সংসারে ৬ মাস বয়সী একটি কন্যাসন্তানও রয়েছে।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই বিদেশ যাওয়া এবং অটোরিকশা কেনার অজুহাতে রনি ভূঁইয়া তার শ্বশুরবাড়ির কাছে ৪ লক্ষ টাকা যৌতুক দাবী করে। মেয়ের সুখের কথা চিন্তা করে দিনমজুর পিতা বিভিন্ন সময়ে ২ লক্ষ টাকা পরিশোধও করেন। কিন্তু অবশিষ্ট ২ লক্ষ টাকার জন্য রনি তার মা-বাবার প্ররোচনায় নূর নাহারের ওপর প্রতিনিয়ত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাতে থাকে।
নিহতের পিতা নুরুন নবী জানান, টাকা দিতে না পারায় ওরা আমার মেয়েটাকে প্রায়ই মারধর করত। গত মঙ্গলবার রাত দেড়টায় বিবাদীরা আমাকে ফোন করে বলে নূর নাহার অসুস্থ, তাকে হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে। পরদিন সকালে আমি স্বজনদের নিয়ে হাইমচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এসে জানতে পারি আমার মেয়ের লাশ থানায় রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার রাত আনুমানিক ১১:৩০ ঘটিকায় বিবাদীদের ঘর থেকে চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা এগিয়ে যান। তারা ঘরের ভেতর স্বামী রনি ভূঁইয়ার কোলে নূর নাহারের নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখেন। বিবাদী পক্ষ ঘটনাটি ‘অসুস্থতা’ বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে এবং হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক নূর নাহারকে মৃত ঘোষণা করেন।
খবর পেয়ে হাইমচর থানা পুলিশ হাসপাতাল থেকে লাশ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে। নিহতের পরিবারের দাবি, যৌতুকের টাকা না পেয়ে নূর নাহারকে শ্বাসরোধ করে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে।
হাইমচর থানা অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ নাজমুল হাসান জানান, লাশের সুরতহাল সম্পন্ন করে ময়নাতদন্তের জন্য চাঁদপুর সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিহতের পিতার লিখিত অভিযোগটি আমলে নেওয়া হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট অনুযায়ী মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে এবং ইতি মধ্যে ৩ জন কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ঘটনার পর থেকে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় এলাকাবাসী ও নিহতের পরিবার এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
প্রতিবেদক: মোঃ আলমগীর হোসেন (আসিফ)/
১০ জুলাই ২০২৬