চাঁদপুরের ১৬৫ প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধার সম্মানি ভাতা বন্ধ

যাচাই-বাছাইয়ের নামে তুচ্ছ কারণে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে চাঁদপুরের প্রকৃত ১৬৫ জন মুক্তিযোদ্ধার সম্মানী ভাতা। মুক্তিযুদ্ধকালে ন্যূনতম বয়স ১৩ না হওয়া, আবার কারো গেজেট কিংবা সনদ না থাকায় ভাতা বন্ধ হয়েছে।

‘সময়মতো কাগজপত্র জমা না দেওয়া’র অজুহাতে বন্ধ করে দেয়ার পর ৯ মাসেও আর তা চালু হয়নি। তিন দিনের মধ্যে এ ভাতা চালু করার জন্য মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী নির্দেশ দিলেও তা কাজে আসেনি।

আবার এই যাচাই-বাছাইয়ের অজুহাতে হয়রানিরও শিকার হচ্ছেন সম্মানী ভাতাভোগী মুক্তিযোদ্ধারা।

বন্ধ থাকা ভাতার বিষয়টি চলতি সপ্তাহের মধ্যে নিষ্পত্তি না হলে বিপুল পরিমাণ অর্থপ্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হবে মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবার। অর্থবছর শেষ হওয়ায় মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের এ টাকা ফেরত যাবে।

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বাজেট শাখার কর্মকর্তা উপসচিব মুহাম্মদ নূর আলম জানান, ‘প্রকৃত সম্মানী ভাতাভোগী মুক্তিযোদ্ধাদের যাচাই-বাছায়ের জন্য সরকার জেলা-উপজেলা কমিটি গঠন করে দিয়েছে। এ কমিটি যাচাই-বাছাই করে কিছু ভাতা বন্ধ করেছে। যাদের ভাতা বন্ধ করা হয়েছে তাদের ব্যাপারে কাগজপত্র পাঠাতে বলা হয়েছে। কেনো বন্ধ করা হলো আর কিভাবে আবার চালু করতে বলা হচ্ছে সে কাগজপত্র এখন মন্ত্রণালয়ে যাচাই-বাছাই করে দেখা হচ্ছে। ভাতা বন্ধ হওয়ার উপযুক্ত কারণ না থাকলে তা আবার চালু হয়ে যাবে।

এ যাচাইয়ে কালক্ষেপণের কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, লোকবল সংকটের কারণেই সময় বেশি লাগছে।

চাঁদপুর জেলার শাহরাস্তি উপজেলার মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ফারুক হোসেন জানান, ‘তার বাবা হাবিলদার ইলিয়াস মিয়া ইপিআরে কর্মরত অবস্থায় মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন। তিনি এখন প্রয়াত। ২০১৩ সাল থেকে তারা ভাতা পাচ্ছিলেন। গত সেপ্টেম্বর মাসে বয়সের প্রমাণ হিসেবে মৃত্যু সনদ জমা দিতে বলা হলে তিনি তা জমা দেন। কিন্তু তারা গত অক্টোবর থেকে আর ভাতা পাচ্ছেন না।

একই উপজেলার মুক্তিযোদ্ধা ওলিউল্লাহ হজ্ব পালন করতে যাওয়ায় যাচাই-বাছাই কমিটির চাহিদা মতো জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি জমা দিতে পারেননি। তাই বন্ধ হয়ে গেছে তার সম্মানী ভাতা। ৯ মাসেও তা আর চালু হয়নি।

একই উপজেলার ওলিউল্লাহ সেনাবাহিনীতে থাকা অবস্থায় মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। তিনি ২০০৫ সালে মারা যাওয়ার পর তার পরিবারের সদস্যরা ভাতা পাচ্ছিলো। সেপ্টেম্বর মাসে তার পরিবারকে মৃত্যুসনদ জমা দিতে বলা হলে তারা জমাও দেয়। কিন্তু এর পর থেকে তারাও আর ভাতা পাচ্ছে না।

এভাবে ঠুনকো অজুহাতে বন্ধ হয়ে গেছে শাহরাস্তি ১৩৪ জনসহ চাঁদপুরের ১৬৫ জন মুক্তিযোদ্ধার সম্মানী ভাতা।

তাদের পরিবারের সদস্যরা এখন মন্ত্রণালয়ের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও কোনো সমাধান পাচ্ছে না।

প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধা ওলিউল্লাহর ছেলে আলমগীর হোসেন শাহীন গত এপ্রিল মাসে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। মন্ত্রী সব কাগজপত্র দেখে বন্ধ হওয়া ভাতা তিন দিনের মধ্যে চালু করতে নির্দেশ দেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের। কিন্তু মন্ত্রীর সে নির্দেশ এখনো কার্যকর হয়নি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে চাঁদপুরের উপসমাজসেবা কর্মকর্তা রাশেদুজ্জামান বলেন, ‘চাঁদপুরের ১৬৫ জন মুক্তিযোদ্ধার ভাতা বন্ধ হয়েছে কিছুটা ভুল বোঝাবুঝির কারণে। তারা সবাই প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা। তাদের কাগজপত্রে কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু সেপ্টেম্বর মাসে যাচাই-বাছাইয়ের সময় তাদের সব কাগজপত্র হাতে এসে পৌঁছেনি। এ বিলম্বের কারণে অক্টোবর-পরবর্তী তিন মাসের ভাতার চাহিদাপত্রে তাদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তী চাহিদাপত্রে তাঁদের নাম যুক্ত করা হয়েছে। কিন্তু এ নিয়ে মন্ত্রণালয়ে ভুল বোঝাবুঝির কারণে তাঁদের ভাতা বন্ধ হয়েছে।’

শাহরাস্তির ১৩৪ জন ছাড়া চাঁদপুরের আরো ৪৯ জনের ভাতা ও বয়স, গেজেট কিংবা সদন সংক্রান্ত জটিলতায় বন্ধ হয়েছে বলে জানা গেছে।

একই রকম কারণে ভাতা বন্ধ আছে চাঁদপুর ছাড়া অন্যান্য জেলার কয়েক হাজার মুক্তিযোদ্ধারও। কারো এক বছর, করো ৯ মাস, কারো ছয় মাস থেকে ভাতা বন্ধ।

নিউজ ডেস্ক : আপডেট, বাংলাদেশ সময় ৮:৫০ পিএম, ২৯ জুন ২০১৬, বুধবার
ডিএইচ

Share