উপজেলা সংবাদ

কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় মতলব উত্তরে গৃহবধূ নির্যাতন

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | আপডেট: ০৯:৪৪ অপরাহ্ণ, ৩০ আগস্ট ২০১৫, রোববার

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য কর্তৃক কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় শালিসী বৈঠকের নামে মাকসুদা (২৩) নামের এক গৃহবধূকে শারীরিক নির্যাতন করা হয়েছে। আঘাতের চিহ্ন গায়ে নিয়ে গৃহবধূ মাকসুদা বর্তমানে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। গত ২৯ আগস্ট শনিবার রাত ৯টায় মতলব উত্তর উপজেলা ফতেপুর ইউপি’র ৫নং ওয়ার্ডে এই ঘটনাটি ঘটে।

হাসপাতালে শয্যাশায়ী ৪ সন্তানের জননী মাকসুদা বেগম জানায়, আমার স্বামী ঢাকায় একটি গার্মেন্টে কাজ করায় বাড়িতে আমি একাই থাকি। বেশ ক’দিন যাবত তাদের বাড়ির একটি পানির পাইপ ভেঙ্গে বাড়ির উঠানে জমে থাকে। এই পানি জমে থাকাকে কেন্দ্র করে তার আপন জা রূপালী বেগমের সাথে কথা কাটাকাটি হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে জা রূপালী বেগম মাকসুদাকে মারধর করে।
পরে রূপালী বেগম নিজেদের বাচাঁতে আগেভাগেই তার ধর্মের ভাই ওই ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মঈন উদ্দিনের (৩৫) কাছে নালিশ করে। এতে করে ওই ইউপি সদস্য বিকেলে বাড়িতে এসে প্রথমে মাকসুদাকে শাসিয়ে যায়। পরে রাত ৯টায় স্থানীয় মুরব্বি শাহজাহান সরকার, সাত্তার বেপারী, মারুফ সরকারের উপস্থিতিতে মাঈন উদ্দিন শালিস বসায়। এসময় সবার উপস্থিতিতে ইউপি সদস্য মঈন উদ্দিন মাকসুদাকে বলে ‘তুমি আমাকে গালমন্দ করেছে কেনো’। ‘আমি গালাগাল করিনি’ এই কথা বলার সাথে সাথে ইউপি সদস্য মঈন উদ্দিন মাকসুদাকে একের পর এক চড়-থাপ্পড় দিতে থাকে।

উপস্থিত স্থানীয় মুরব্বিরা মঈন উদ্দিনকে থামানোর চেষ্টা করলে সে আরো বেশি ক্ষেপে গিয়ে মাকসুদাকে কাঁঠালের ডাল দিয়ে পায়ে এবং পিঠেসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারতে থাকে। এসময় মাকসুদা জ্ঞান হারিয়ে মাটিতে পড়ে গেলে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসে।

মাকসুদা বেগম আরো জানায়, অভিযুক্ত ইউপি সদস্য মঈন উদ্দিন তাকে বহুদিন ধরে কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিলে। বিষয়টি মাকসুদা তার স্বামীকে জানাবে বলে। মূলত ওই প্রস্তাবে সাড়া না দেয়ায় কারণেই তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মঈন উদ্দিন শালিসের নাম করে গৃহবধূ মাকসুদাকে মারধর করেছে বলে দাবি করেন, মাকসুদার গার্মেস শ্রমিক স্বামী তোফাজ্জল হোসেন। এ ব্যাপারে চাঁদপুর মডেল থানায় মামলা করার প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন মাকসুদার ভাই।

চাঁদপুর টাইমস : এবিআর/ এমআরআর/২০১৫

Share