কচুয়ায় সম্পত্তিগত বিরোধে মিথ্যা অপপ্রচারের প্রতিবাদে এলাকাবাসীর মানববন্ধন

চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার ৪নং পালাখাল মডেল ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি, সম্ভাব্য ইউপি চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ও শিক্ষামন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত কামাল হোসেন বাবুলকে নিয়ে সম্পত্তিগত বিরোধকে কেন্দ্র করে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি ও মারধরের ঘটনা সাজিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম (ফেসবুকে) মিথ্যা অপপ্রচার ও গুজব রটানোর অভিযোগ উঠেছে।

উপজেলার দহুলিয়া গ্রামের অধিবাসী মৃত শাহ আলম স্বপনের ২য় স্ত্রী শিউলি বেগম ও তার ৩ কন্যার পক্ষ নিয়ে কতিপয় লোকজন কামাল হোসেন বাবুলের বিরুদ্ধে এ অপপ্রচার চালাচ্ছেন বলে কামাল হোসেন বাবুল দাবি করেন।

এ ঘটনায় সুষ্ঠ তদন্তের মাধ্যমে ন্যায়-বিচার পাওয়ার দাবিতে মঙ্গলবার দুপুরে পালাখাল-গুলবাহার সড়কের দহুলিয়া মোড় এলাকায় প্রায় ঘন্টাব্যাপী মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা করা হয়। এতে বক্তব্যে, ভূক্তভোগী কামাল হোসেন বাবুল বলেন, আমরা ৩ ভাই ও ৪ বোন। আমার বড় ভাই শাহ আলম স্বপন ২০০৫ সালের ১৬ই এপ্রিল অসুস্থজনিত কারণে ঢাকায় একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মারা যান। জীবদ্দশায় তিনি ১ম স্ত্রী আছিয়া বেগম এর ছেলে সন্তান না হওয়ায় শিউলি বেগম নামের এক নারীকে ২য় বিয়ে করেন। তাদের গৃহে ৩ কন্যা সন্তান রয়েছে। পাশাপাশি আমার অপর ভাই মফিজুল ইসলামও মারা যান। তারও কোনো ছেলে নেই। বড় ভাই শাহ আলম স্বপন ২০০৫ সালে মারা যাওয়ার সময় বেশ কিছু জমিজামা এলাকাবাসীর কাছে পোষানী দিয়ে যান। তাছাড়া, তার চিকিৎসার খরচ বাবদ, গাড়ি ভাড়া ৪০ হাজার টাকা, খাবারের দেনা ২ লক্ষ ২৫ হাজার টাকা, পালাখাল জনতা ব্যাংকে ঋন বাবদ ১৭ হাজার টাকা ঋন করে যান। তিনি জীবদ্দশায় একই গ্রামের আব্দুর রহমান এর কাছে ৬২ শতাংশ জমি পোষানি বাবদ ১লক্ষ টাকা, হাজী অজিউল্লাহ এর ২ দাগে ১ লক্ষ টাকা, কেরামত আলীর কাছে ৩৫ হাজার টাকা, মৃত ফারুক হোসেন কাছে ২ দাগে দেড় লক্ষ টাকা, হুমায়ুন/সুলেমানের কাছে ৫০ হাজার টাকাসহ মোট ৪ লক্ষ ৩৫ হাজার টাকার জমি পোষানি দেয়াসহ অন্যান্য মোট ৯ লক্ষ ২৭ হাজার টাকা দেনা করে যান। তাছাড়া, ২০২০ সালে বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে জমিজমা নিষ্পত্তি বাবদ শাহ আলম স্বপনের ২য় স্ত্রী শিউলি বেগম ২ লক্ষ ১০ হাজার টাকা নিধে জমিজমা নিষ্পত্তি না করে মুন্সীগঞ্জে বাবার বাড়ি চলে যান। কিছুদিন পর তার বড় মেয়ে সুমাইয়া আক্তারকে দিয়ে জমিজমা বুঝিয়ে দেয়ার দাবি করে একটি মামলা দায়ের করেন।

ভুক্তভোগী মো: কামাল হোসেন বাবুল বলেন, আমি আমার ভাইয়ের স্ত্রী শিউলি বেগম ও মেয়েদের জায়গা আমি বুঝিয়ে দিতে চাই। তারা জায়গা নিতে রাজি। কিন্তু ভাইয়ের জীবিত থাকাবস্থায় দেনা ও চিকিৎসার খরচ বাবদ দেনা বহন করতে রাজি হচ্ছেনা। রেকর্ড মূলে আমার ভাইয়ের স্ত্রী শিউলি বেগম ৫.৯৩ শতাংশ, ১ম কন্যা ২১.১০ শতাংশ, ২য় কন্যা ২১.১০ শতাংশ ও ৩য় কন্যা ২১.১০ শতাংশসহ মোট ৬৯.২৩ শতাংশ ভূমি পান। আমি চাই তারা ৯ লক্ষ ২৭ হাজার টাকা দেনা দিয়ে জায়গা বুঝে নিয়ে যাক। কিন্তু তা না করে বর্তমানে উল্টো আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা ও ফেসবুকে অশালীন কথাবার্তা লিখে আমার মানসম্মান ক্ষুন্ন করছে। আমি প্রশাসনসহ সকলের কাছে ন্যায়-বিচার চাই।
স্থানীয় অধিবাসী আব্দুর রহমান, হাজী অজিউল্লাহ, কেরামত আলী, হুমায়ুন/সুলেমান গংরা বলেন, শাহ আলম স্বপন জীবিত থাকাবস্থায় তৎকালীন আমাদের কাছে জমি পোষানি দিয়েছেন। আমাদের টাকা বুঝিয়ে দিয়ে জমি নিয়ে গেলে আমাদের কোনো বাধা-বিপত্তি নেই। এদিকে মৃত: শাহ আলম স্বপনের বড় মেয়ে সুমাইয়া আক্তার বলেন, আমার বাবার কোনো ধার-দেনা আছে বলে আমাদের জানা নেই। তবে আমরা আমাদের জায়গা বুঝে পেতে চাই।

কচুয়া প্রতিনিধি/
২৮ জুলাই ২০২৬