কচুয়ায় ঝড় ও টানা বৃষ্টিতে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি, তলিয়ে গেছে প্রায় ৮০ শতাংশ

চাঁদপুরের কচুয়ায় কালবৈশাখী ঝড়ে ও টানা ৩ দিনের বৃষ্টিতে ঘরবাড়ি, গাছপালা ও রাস্তা, বৈদ্যুতিক খুঁটির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি শত শত একর ফসলি জমি পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন প্রান্তিক কৃষকরা।

রোববার সন্ধ্যায় হঠাৎ কালবৈশাখী ঝড়ের তান্ডবে বিভিন্ন এলাকায় গাছ উপড়ে পড়ে,বসতঘর ক্ষতিগ্রস্থ হয় এবং বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে পড়ে। একই সঙ্গে সোমবার,মঙ্গলবার ও বুধবারের টানা বৃষ্টিতে মাঠের পাকা ও আধাপাকা ধান,ভুট্রা,তিলসহ বিভিন্ন ফসল পানির নিচে তলিয়ে গিয়ে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, সাচার ঘোগড়ার জলা, হরিপুর,ি শলাস্তান, আটমোর, জোয়ারীখোলা, বুধুন্ডা, বিতারা, জলাবিতারা, তেতৈয়া নিচু এলাকার বিস্তীর্ণ জমি জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। পানির উচ্চতা আরও বাড়ার আশঙ্কায় অনেক কৃষক দ্রুত আধাপাকা ধান কাটা শুরু করছেন। কিন্ত টানা বৃষ্টিতে এসব মাঠের প্রায় ৮০শতাংশ ফসল পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এভাবে বৃষ্টি চলতে থাকলে পুরো ফসল পানির নিচেই তলিয়ে থাকবে।

সাচার ঘোগড়ার বিলের ক্ষতিগ্রস্থ কৃষক শাহজালাল,মবিন ও রাসেল বলেন, ‘ধার দেনা করে ফসল চাষ করেছিলাম। এখন ধান,ভুট্রা পানির নিচে। ফসল পুরোপুরী নষ্ট হলে একদিকে ঝৃনের টাকা কিভাবে দিব অপর দিকে সংসার পরিচালনা করব কিভাবে বুঝতে পারছি না।’

এলাকার সচেতন মহল বলেন, ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকরা বর্তমানে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটছে। তাদের তালিকা করে সরকারি সহায়তা প্রদানের দাবি জানিয়েছেন।

কচুয়া উপজেলা কৃষি অফিসার তফু আহমেদ বলেন, কৃষকদের ফসল ধান অধিকাংশই পেকে গেছে। এখন ধান পানির নিচে থাকলেও ২/১দিন পরে পানি সরে যাবে। যারফলে তেমন ক্ষতি হয়নি। তিনি কৃষকদের পরামর্শ দিয়ে বলেন, সুযোগ পাইলেই যেন তাদের ধান মাঠ থেকে কেটে নিয়ে যায়। ভুট্রা নিয়ে তিনি বলেন, পানি সরে গেলে ভুট্রা গাছের গোড়ায় মাটি দেয়ার পরামর্শ দেন।

ছবির ক্যাপশন ঃ কচুয়ার সাচার ঘোগড়ার বিলের ফসল (ধান) এখন পানির নিচে।

-জিসান আহমেদ নান্নু/২৯ এপ্রিল ২০২৬