বিনোদন

এ বছর বিনোদন জগত হারাল যাদের

শেষ হতে চলেছে ২০২০ সাল। দরজায় কড়া নাড়ছে ২০২১। আরও একটি নতুন বছর। কিন্তু বিদায়ী এই বছরকে ভুলবে না বাংলাদেশের বিনোদন দুনিয়া। কারণ, ২০২০ সালেই রেকর্ড পরিমাণ তারকা ও গুণী মানুষদের হারিয়েছে বাংলা শোবিজ। যাদের অধিকাংশই মারা গেছেন প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে। তবে দেখে নেয়া যাক, ২০২০ সালে কোন কোন তারকাদের হারালাম আমরা।

সুরের যাদুকর আলাউদ্দীন আলী

একাধিক জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার প্রাপ্ত বরেণ্য সংগীতব্যক্তিত্ব আলাউদ্দীন আলী মারা যান গত ৯ আগস্ট। এদিন বিকাল প্রায় ৬টার দিকে মহাখালীর ইউনিভার্সেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ফুসফুসের প্রদাহ ও রক্তে সংক্রমণ জনিত সমস্যায় ভুগছিলেন। পাশাপাশি তার ক্যানসারও ছিল। এর কারণে ২০১৫ সালে তাকে ব্যাংককেও নিতে হয়েছিল।

মঞ্চ ও নাট্য জগতের কিংবদন্তি আলী যাকের

ক্যানসারে ভুগে এবং শেষ বেলায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যান বিশিষ্ট অভিনেতা ও নাট্য নির্দেশক আলী যাকের। গত ২৭ নভেম্বর পৌনে সাতটার দিকে ঢাকার ইউনাইটেড হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে আলী যাকেরের বয়স হযেছিল ৭৬ বছর। তার মৃত্যুতে শোক জানান প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতি।

প্লেব্যাক সম্রাট এন্ড্রু কিশোরের বিদায়

এ বছরই ক্যানসারে ভুগে না ফেরার দেশে চলে গেছেন বাংলা চলচ্চিত্রের ‘প্লেব্যাক সম্রাট’ এন্ড্রু কিশোর। গত ৬ জুলাই সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে রাজশাহীর মহিষবাথান এলাকায় তার বোন ডা. শিখা বিশ্বাসের বাড়িতে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে এন্ড্রু কিশোরের বয়স হয়েছিল ৬৫ বছর। দীর্ঘদিন ধরে তিনি ব্লাড ক্যানসারে ভুগছিলেন। উন্নত চিকিৎসার জন্য তিনি সিঙ্গাপুরেও গিয়েছিলেন। কিন্তু সেখান থেকে চিকিৎসা শেষ করে দেশে ফেরার কয়েকদিন পরেই তিনি মারা যান।

করোনায় মারা যান সাদেক বাচ্চু

কে এস ফিরোজের শোক মুছতে না মুছতেই খবর আসে আরও এক প্রতাপশালী অভিনেতার মৃত্যুর। ১৪ সেপ্টেম্বর করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যান নন্দিত অভিনেতা সাদেক বাচ্চু। এদিন দুপুর ১২টা ৫ মিনিটে রাজধানীর ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। ৬৬ বছর বয়সী এ অভিনেতা দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগ, ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন।

‘ইত্যাদি’র অভিনেতা মহিউদ্দিন বাহার

সাদেক বাচ্চুর দিনে চলে যান জনপ্রিয় ম্যাগজিন অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদি’র নিয়মিত শিল্পী মহিউদ্দিন বাহার। তিনি অনেক দিন ধরে হার্ট ও কিডনিসহ নানা শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন। গত ১৮ সেপ্টেম্বর তিনি দয়াগঞ্জে নিজ বাসায় অসুস্থ হয়ে পড়েন। এরপর দ্রুত বারডেম হাসপাতালে আনা হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষনা করেন।

‘বদি ভাই’ খ্যাত অভিনেতা আবদুল কাদের

২০২০ সালে বিনোদন দুনিয়ায় শেষ ধাক্কাটা লাগে ‘বদি’ খ্যাত অভিনেতা আবদুল কাদেরের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে। ২৬ ডিসেম্বর সকাল সাড়ে ৮টার দিকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তিনি ক্যানসারে ভুগছিলেন। পাশাপাশি করোনায়ও আক্রান্ত হয়েছিলেন।

প্রযোজক মতিউর রহমান পানু

বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি আয় করা সিনেমা ‘বেদের মেয়ে জোছনা’র প্রযোজক, পরিচালক মতিউর রহমান পানু মারা যান ২৪ মার্চ রাত সাড়ে ১১টার দিকে। তিনি রাজধানীর উত্তরায় নিজ বাসায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মতিউর রহমান পানু দীর্ঘদিন ধরেই বার্ধক্যজনিত নানা রোগে ভুগছিলেন।

একসময়ের জনপ্রিয় চিত্রনায়ক রানা হামিদ

‘গ্যাং লিডার’ খ্যাত নব্বইয়ের দশকের নায়ক রানা হামিদ মারা গত ৯ মে রাত সাড়ে ১১টায়। রাজধানীর শ্যামলীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি পাকস্থলির ক্যানসার ও কিডনির সমস্যায় ভুগছিলেন। রানা হামিদ বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সেন্সর বোর্ডের সদস্য ছিলেন।

সংগীতঙ্গ আজাদ রহমান

গত ১৬ মে বার্ধক্যজনিত কারণে মারা যান জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারজয়ী সুরকার, সংগীত পরিচালক ও কণ্ঠশিল্পী আজাদ রহমান। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৬ বছর। ‘জন্ম আমার ধন্য হলো মা গো’, ‘ভালোবাসার মূল্য কত’, ‘ও চোখে চোখ পড়েছে যখনই’, ‘মনেরও রঙে রাঙাব’, ‘ডোরা কাটা দাগ দেখে বাঘ চেনা যায়’সহ বিখ্যাত সব গানের সুরকার তিনি।

অভিনেত্রী মিনু মমতাজ

বহুদিন ধরে কিডনি এবং চোখের সমস্যায় ভুগছিলেন অভিনেত্রী মিনু মমতাজ। অবশেষে না ফেরার দেশে পাড়ি জমান গত ২২ সেপ্টেম্বর দুপুর ১টায়। রাজধানীর গ্রীন লাইফ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। বর্ষীয়ান এই অভিনেত্রী করোনায় আক্রান্ত ছিলেন।

করোনায় হারিয়ে যান কে এস ফিরোজ

গত ৯ সেপ্টেম্বর ভোর ৬টা ২০ মিনিটে রাজধানীর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) মারা যান নাট্য ও মঞ্চ অভিনেতা কে এস ফিরোজ। করোনায় আক্রান্ত হয়ে তার মৃত্যু হয়।

সুরকার সেলিম আশরাফ

দেশের জনপ্রিয় সুরকার সেলিম আশরাফ মারা যান গত ২ মার্চ। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি শ্বাসকষ্ট ও কিডনির জটিলতায় ভুগছিলেন। ‘যে মাটির বুকে ঘুমিয়ে আছে লক্ষ মুক্তি সেনা’সহ একাধিক জনপ্রিয় গানের সুরকার তিনি।

নৃত্য পরিচালক হাসান ইমাম

টেলিভিশন নৃত্যশিল্পী সংস্থার সাবেক সভাপতি, দেশের সুপরিচিত নৃত্যশিল্পী এবং নৃত্য পরিচালক হাসান ইমাম মারা যান গত ১৫ মে সন্ধ্যায়। হঠাৎ অসুস্থ হয়ে তিনি না ফেরার পথে যাত্রা করেন।

পরিচালক নাসির উদ্দিন দিলু

গত ৩ নভেম্বর সকাল ১০টার দিকে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন দেশের নামজাদা চলচ্চিত্র প্রযোজক ও বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সেন্সর বোর্ডের সাবেক সদস্য নাসির উদ্দিন দিলু। দীর্ঘদিন ধরে হার্টের জটিলতাসহ বার্ধক্যজনিত নানা অসুখে ভুগছিলেন তিনি।

সংগীতার স্বত্বাধিকারী সেলিম খান

টানা ছয় দিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর গত ১০ ডিসেম্বর সকাল ৬টায় পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করেন দেশের ঐতিহ্যবাহী ও বৃহৎ অডিও প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান সংগীতার স্বত্বাধিকারী সেলিম খান। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৫৫ বছর।

চিত্রসম্পাদক আমিনুল ইসলাম মিন্টু

৮ বার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত চিত্রসম্পাদক আমিনুল ইসলাম মিন্টু মারা গেছেন ১৮ ডিসেম্বর দিবগত রাতে। তিনিও করোনায় আক্রান্ত ছিলেন বলে জানিয়েছিলেন তার পরিবার।

মৃত্যুর পর খোঁজ মেলে চিত্রনায়িকা জবার

সত্তর দশকের জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা জোবায়দা খাতুন ওরফে জবা ক্যারিয়ারের মধ্য গগণে থাকা অবস্থায় এক প্রযোজককে বিয়ে করে লাপাত্তা হয়ে যান। বেশ কয়েকটি সিনেমা করে সাড়া ফেলেও ছেড়ে দেন অভিনয়। হারিয়ে যাওয়া এই নায়িকার খোঁজ মেলে এ বছরের ৩ মে তার মৃত্যুর খবরের মধ্য দিয়ে। এদিন দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলায় নিজ বাড়িতে বার্ধক্যজনিত কারণে মারা যান জবা। সেখানেই তার দাফন হয়।

এছাড়া গত ২০ জানুয়ারি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান অভিনেত্রী, নির্দেশক ও আবৃত্তিশিল্পী ইশরাত নিশাত। ৩১ মে মারা যান চলচ্চিত্র প্রযোজক জনাব মোজাম্মেল হক সরকার। ৬ জুন মারা যান সহস্রাধিক সিনেমার নৃত্য পরিচালক এস আলম। ১০ জুলাই মারা যান অনুষ্ঠান পরিকল্পনাকারী, নাট্যশিল্পী স্বপন সিদ্দিকী।

করোনায় আক্রান্ত হয়ে চিত্রপরিচালক আফতাব খান টুলু মারা গেছেন গত ২৮ জুলাই। ২৩ অক্টোবর সকাল সাড়ে ১০টায় মারা যান বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রযোজক পরিবেশক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক শরীফউদ্দীন খান দীপুসহ নাম না জানা অনেকে।

বিনোদন ডেস্ক,২৭ ডিসেম্বর ২০২০

Share