৪৩ গুণী শিল্পী স্মরণে ব্যতিক্রমী আয়োজন

প্রান্তিক লোকগীতি থেকে শহরের ব্যান্ড মিউজিক-বাংলার শিরায় শিরায় মিশে আছে সংগীত। এ তল্লাটে এসেছেন এমন এমন বিরল প্রতিভাবান মানুষ, যাঁদের সুরেলা জীবন সমৃদ্ধ করেছে বাংলাকে, সমৃদ্ধ করেছে বাঙালি ঐতিহ্যকে। তেমনই ৪৩ জন শিল্পীর স্মরণে ব্যতিক্রমী এক আয়োজন করছে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি। আজ থেকে শুরু হচ্ছে ১০ দিনব্যাপি এ আয়োজন, চলবে ২০ মে পর্যন্ত।

দীর্ঘ এ আয়োজনে যাঁদের স্মরণ করা হবে, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ওস্তাদ গুল মোহাম্মদ খাঁ, ওস্তাদ বারীণ মজুমদার, অতুলপ্রসাদ সেন, ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ, ওস্তাদ আলী আকবর খাঁ, আজম খান, ওস্তাদ আয়েত আলী খাঁ, সত্য সাহা, খান আতাউর রহমান, হাছন রাজা, বারী সিদ্দিকী, শাহ আব্দুল করিম, আবদুল আলীম, লাকী আখন্দ, আইয়ুব বাচ্চু, ফরিদা ইয়াসমিন, আব্দুল লতিফ, আব্দুর রহমান বয়াতি, ফকির আলমগীর, নিলুফার ইয়াসমিন, মাহমুদুন্নবী, উকিল মুন্সী, আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল, শাহনাজ রহমতউল্লাহ, শাফিন আহমেদসহ আরো অনেকে।

আয়োজনটি নিয়ে শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক শেখ রেজাউদ্দিন আহমেদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা একাডেমির পক্ষ থেকে আমাদের গুণীজনদের জীবন ও কর্ম নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে চাই। শিল্প-সংস্কৃতিতে তাঁদের কত অবদান, আমাদের অতীত ঐতিহ্য, সবকিছু সম্পর্কে যেন এ প্রজন্মের তরুণরা জানতে পারে। এরই মধ্যে আমরা বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানিয়েছি।

শিক্ষার্থীরা আসবে। পাঠ্যসূচির বাইরে তারা দেশের প্রকৃত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সম্পর্কে জানতে পারবে। জীবনে আরো বড় মানুষ হওয়ার উৎসাহ পাবে। বাংলার সংস্কৃতি হলো একদম গণমানুষের সংস্কৃতি।এটা সবার। এর ঐতিহাসিক মূল্য আছে। সেসব তুলে ধরতে চাই। এ চেষ্টায় গণমাধ্যমকেও পাশে চাই, তাঁরা যেন এসব খবরাখবর সবার কাছে পৌঁছে দেন।’ 

মহাপরিচালক আরো জানান, এ আয়োজনে শিল্পীদের পরিবারকেও জানানো হবে, তাঁরা আসবেন, তাঁদের সম্মাননাও দেওয়া হবে।

তাঁর ভাষ্য, ‘বেশ ভালো একটা আয়োজন হতে যাচ্ছে। সামনের বাজেটের পর শিল্পকলা একাডেমির কাজকর্ম আরো সমৃদ্ধ করতে চাই। ইচ্ছা আছে, যে গুণীর জন্ম যেই জেলায়, সেখানেই তাঁর স্মরণে বিশাল পরিসরে আয়োজন করব। এতে স্থানীয়রাও অংশ নিতে পারবেন।’ 

কিছুদিন পর একাডেমির পক্ষ থেকে বড় পরিসরে সাংস্কৃতিক উৎসবের আয়োজন করা হবে বলেও জানান তিনি। বলেন, ‘সাংস্কৃতিক উৎসবেও অনেক কিছু থাকবে। দেখুন, আমাদের সংস্কৃতি লোকনির্ভর, কৃষিনির্ভর। সেটা থেকে কেন তরুণরা বিচ্যুত হবে? কেন তারা এটা উপলব্ধি করবে না? ক্লাসের বাইরে তাদের পড়াশোনা, সংস্কৃতিচর্চা কেন থাকবে না? এগুলো নিয়ে আমরা বিস্তর পরিসরে কাজ করে যেতে চাই।’

প্রতিদিন নির্ধারিত সময়ে একাডেমির জাতীয় সংগীত ও নৃত্যকলা কেন্দ্র মিলনায়তনে বসবে এই আসর। পুরো আয়োজনটিতে শিল্পকলা একাডেমির সহযোগিতায় রয়েছে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়।

এদিকে শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে চার দিনব্যাপি রবীন্দ্র জয়ন্তীর আজ শেষ দিন। জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে সন্ধ্যা ৬টায় হবে সমাপনী আসর। এতে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক ও শিল্প মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত উপদেষ্টা রুহুল কবীর রিজভী। সভাপতিত্ব করবেন সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব কানিজ মওলা। আর স্বাগত বক্তব্য রাখবেন একাডেমির মহাপরিচালক রেজাউদ্দিন আহমেদ।

সবশেষে থাকবে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত নাটক ‘অচলায়তন’-এর প্রদর্শনী। আজাদ আবুল কালামের নির্দেশনায় এটি মঞ্চস্থ করবে ‘প্রাচ্যনাট’। এ ছাড়া দিনভর থাকবে শিল্পকর্ম প্রদর্শনী ‘রবির চিত্র-চিত্রের রবী’।

এতে দেশবরেণ্য শিল্পীদের চিত্রকর্মের সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের আঁকা চিত্রের অনুলিপিও থাকবে।

১১ মে ২০২৬

এ জি