গ্রামের মানুষ উন্নত চিকিৎসার জন্য শহরমুখী হতে বাধ্য না হয় : স্বাস্থ্যমন্ত্রী
গ্রামীণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, গ্রামের মানুষ যেন উন্নত চিকিৎসার জন্য শহরমুখী হতে বাধ্য না হন, সে লক্ষ্যে স্থানীয় পর্যায়ে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
রোববার (৯ আগস্ট) বিকেলে চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স আকস্মিক পরিদর্শনকালে এসব কথা বলেন তিনি। এ সময় হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা, রোগীদের সুযোগ-সুবিধা, খাবারের মান ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতাসহ সার্বিক কার্যক্রম পরিদর্শন করে সন্তোষ প্রকাশ করেন মন্ত্রী।
পরিদর্শনকালে এক প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, মতলব দক্ষিণ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১০১ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে উন্নীত করা হবে। এ লক্ষ্যে হাসপাতালের জায়গা ও ভবনের বিষয়ে খোঁজখবর নেন তিনি। হাসপাতালের ক্ষতিগ্রস্ত দুটি ভবন পরিদর্শন করে সেগুলো ভেঙে ১০১ শয্যার হাসপাতাল নির্মাণের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সঙ্গে প্রয়োজনীয় আলোচনা করার কথা জানান।
এ সময় হাসপাতালের দুই স্বাস্থ্যকর্মী চিকিৎসক ডা. সিদ্দিকুর রহমান টুটুল ও নার্স রেহেনা আক্তারের অনুপস্থিতির বিষয়টি নজরে আসে মন্ত্রীর। পরে তাদের এক দিনের বেতন কর্তনের নির্দেশ দেন তিনি।
হাসপাতালের রোগীদের খাবারের মান ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা পরিদর্শন করে সন্তোষ প্রকাশ করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। একই সঙ্গে হাসপাতালের স্বাস্থ্যসেবার মান আরও উন্নত করতে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।
পরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কাছাকাছি অবস্থিত ‘সাকিব হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াবেটিস সেন্টার’ পরিদর্শন করেন। সেখানে তিনি হাসপাতালটির প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই করেন। এ সময় কর্তৃপক্ষ পরিবেশ ছাড়পত্র দেখাতে না পারায় এক মাসের সময়সীমা বেঁধে দেন মন্ত্রী। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পরিবেশ ছাড়পত্র সংগ্রহ করতে ব্যর্থ হলে হাসপাতালটির কার্যক্রম বন্ধ করে দিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন তিনি।
এ ছাড়া বেসরকারি ওই হাসপাতালে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক ফাতেমা আক্তার (গাইনি সার্জন ও অবস) সপ্তাহে তিন দিন রোগী দেখেন এ তথ্য জানতে পেরে ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। পরে তিনি ওই চিকিৎসকের রোগী দেখার রেজিস্টার নিয়ে যান এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রীর আকস্মিক পরিদর্শনকালে মতলব দক্ষিণ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কেএম ইশমামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিবেদক: মাহফুজ মল্লিক/
৯ আগস্ট ২০২৬