ছয় মাসে ৭৬,৩৪৯ জনকে বিনামূল্যে ডিবিএলএ’র আইনি সহায়তা

আইনগত সেবা গ্রহণের সামর্থ্য নেই এমন জনগোষ্ঠীর ন্যায়বিচারে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে চলতি বছরের মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত সারা দেশে ৭৬ হাজার ৩৪৯ জনকে বিনামূল্যে আইনি পরামর্শ ও পরামর্শক সেবা দিয়েছে বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তর।

বাসস-এর সঙ্গে আলাপকালে ডিবিএলএ মহাপরিচালক মো.মঞ্জুরুল হোসেন বলেন, সেবাগ্রহীতাদের মধ্যে ৪৪ হাজার ৬৯৪ জন নারী, ৫৬ জন শিশু এবং ১২ জন তৃতীয় লিঙ্গের সদস্য রয়েছেন। এছাড়া, এ সময়ে ৬ হাজার ৪০২ জন কারাবন্দিও বিনামূল্যে আইনি সহায়তা পেয়েছেন।

মঞ্জুরুল হোসেন বলেন,ছয় মাসে সুবিধাবঞ্চিত, দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে তৃণমূল পর্যায়ে সরকারি বিনামূল্যের আইনি সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। একইসঙ্গে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি এবং অনলাইন বিরোধ নিষ্পত্তি কার্যক্রমেও অগ্রগতি হয়েছে।

ডিবিএলএ মহাপরিচালক বলেন, এই ছয় মাসে ডিবিএলএ মামলা-পূর্ব এবং মামলা-পরবর্তী মধ্যস্থতার মাধ্যমে বিচারপ্রার্থীদের পক্ষে ৬৬ কোটি ১৭ লাখ ২৫ হাজার ৩৫৭ টাকা আদায় করেছে। সংস্থাটি মামলা-পূর্ব মধ্যস্থতায় ৭২.৪৩ শতাংশ সাফল্যের হার অর্জন করেছে। যেখানে ৫৮ হাজার ৬৭১টি বিরোধের মধ্যে ৪২ হাজার ৪৯৫টি নিষ্পত্তি করা হয়েছে। এছাড়া মামলা-পরবর্তী মধ্যস্থতায় সাফল্যের হার ছিল ৯৩.৭০ শতাংশ; এক্ষেত্রে ৩ হাজার ৪৯২টি বিরোধের মধ্যে ৩ হাজার ২৭২টি নিষ্পত্তি করা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, আদালতে মামলা পরিচালনার জন্য বিনামূল্যে আইনি প্রতিনিধিত্ব চেয়ে এ সময়ে ২২ হাজার ৩০৬টি আবেদন পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ২২ হাজার ২২৫টি আবেদন অনুমোদন করা হয়েছে। এসব সুবিধাভোগীর মধ্যে ৯ হাজার ৯৫৪ জন নারী ও ১০৯ জন শিশু রয়েছেন।

তিনি বলেন, আমরা ভার্চুয়াল মধ্যস্থতার জন্যও ২৬৯টি আবেদন পেয়েছিলাম, যার মধ্যে ২২৮টি আবেদনই ছিল প্রবাসীদের কাছ থেকে। ওই আবেদনগুলোর মধ্যে ১৪২টি ভার্চুয়াল নিষ্পত্তির মাধ্যমে সুরাহা করা হয়েছে, যার মধ্যে ১২৬টিই ছিল প্রবাসীদের সাথে সম্পর্কিত।

এদিকে, বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির একজন শক্তিশালী প্রবক্তা— আইন,বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো.আসাদুজ্জামান বিভিন্ন সময়ে বলেছেন,আইনগত সহায়তার আওতায় আপসযোগ্য মামলাগুলো মধ্যস্থতার মাধ্যমে দ্রুত নিষ্পত্তি করা উচিত।

তিনি এর আগে বলেছিলেন, একটি ছোট মামলা যদি বছরের পর বছর ঝুলে থাকে, তাহলে এতে সরকারের বিপুল অর্থ ব্যয় হয়। অন্যদিকে, গুরুতর অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা অনেক সময় শাস্তি এড়িয়ে যেতে সক্ষম হন।

তিনি বলেন, সংস্থাটি দেশে নতুন মামলা দায়েরের হার কমাতে সক্ষম হয়েছে এবং বিদ্যমান মামলার জটও উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়েছে।

উল্লেখ্য,আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীন‘বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তর’-এর দায়িত্ব হলো— এমন সব মানুষের জন্য আইনি সহায়তা প্রাপ্তির সুযোগ নিশ্চিত করা, যারা আর্থিক বা অন্য কোনো ধরনের সীমাবদ্ধতার কারণে আইনি সেবা পেতে অক্ষম। বাসস

১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
এ জি