অতিরিক্ত পরীক্ষা ফি নেয়াসহ নানা অনিয়মে ক্ষুদ্ধ অভিবাবকরা

চাঁদপুর শহরের পশ্চিম বিষ্ণুদী (রেজি) পৌর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত পরীক্ষার ফি নেয়াসহ বিভিন্ন অনিয়ম নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অভিবাবকরা। এ নিয়ে ২২ আগস্ট মঙ্গলবার সকালে শিক্ষার্থীদের অর্ধশত অভিবাবকরা ক্ষিপ্ত হয়ে বিদ্যালয়ে গিয়ে হট্টগোল করেন।

এসময় তারা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা ফারজানা আক্তার লাকীর বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলে ধরেন। তারা অভিযোগ করে বলেন, বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত পরীক্ষার ফিস, টিসিতে এবং ভর্তি বাবদ অতিরিক্ত টাকা আদায়, পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র না দিয়ে পরীক্ষা গ্রহন, টয়লেট ব্যবহার করতে না দেয়া, মাঠে খেলাধুলা করতে না দেয়া সহ বিভিন্ন অনিয়ম তুলে ধরে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেন। পরে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি এবং অন্যান্য সদস্যরা বিষয়টি সমাধান করবেন বলে অভিবাবকদের আশ্বাস প্রদান করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করেন।

স্থানীয় এলাকার শাহনাজ বেগম, পিংকি বেগম, সুইটি বেগম, চম্মা বেগম, শিল্পী বেগম, জোৎস্না বেগম, লাকি বেগম ও স্মৃতি বেগমসহ একাধিক ব্যাক্তি ও অভিবাবকরা জানান, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা দীর্ঘদিন ধরে অনেক অনিয়ম করে চলেছেন। তিনি পরীক্ষা ফিস বাবদ ৫০/৬০ টাকার পরিবর্তে শিশু শ্রেণী, ২য় এবং ৩য় শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ১০০ টাকা ও রোটিনের জন্য বাড়তি আরো ৫ টাকা করে নিয়েছেন। ৪র্থ এবং পঞ্চম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ১৫৫ টাকা করে গ্রহন করেন। একই সাথে মঙ্গলবার সকালে কোন প্রকার প্রশ্নপত্র ছাড়াই পরীক্ষা গ্রহন করেন।

অভিবাবকরা আরো জানান, প্রধান শিক্ষিকা ফারজানা আক্তার লাকী তার ইচ্ছে মতো বিদ্যালয় পরিচালনা করে থাকেন।

তারা অভিযোগ করে বলেন, বেলা ১২ টায় যেসকল শিক্ষার্থীরা স্কুলে যান। তাদেরকে গেট খুলে না দিয়ে বাহিরে সড়কে দাঁড় করিয়ে রাখেন। সকালের শিপটের শিক্ষার্থীদের ছুটি হলে তারপর গেট খুলে দেয়া হয়। যার কারনে শিক্ষার্থীরা সড়কে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে গিয়ে দুর্ঘটনার ঝুঁকিতে থাকেন।শুধু তাই নয়, বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদেরকে মাঠে খেলা ধুলা করতে না দেয়া এবং টয়লেট ব্যবহার করতে দেয়া হয়নি বলেও একাধিক অভিযোগ করেন তারা।

প্রধান শিক্ষিকার এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে অভিবাবকরা প্রতিবাদ করলে তাদের সন্তানদের টিসি দিয়ে স্কুল থেকে বিদায় দিয়ে দিবে বলে হুমকি দিয়ে থাকেন। যার কারনে অনেক অভিবাবকরা তাদের সন্তানদেরকে এই বিদ্যালয় থেকে শহরের অন্য বিদ্যালয়ে নিয়ে ভর্তি করিয়েছেন। বিদ্যালয়টির এমন নানা অনিয়মের বিষয়টি সমাধান করতে কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করছেন অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা।

এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা ফারজানা আক্তার লাকীর সাথে মুঠো ফোনে কথা হলে, তিনি বলেন, আমি ছুটিতে রয়েছি এই বিষয়ে তো আমি কিছুই জানিনা। তবে পরে আমি বিষয়টি শুনেছি। আমি কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে পরে জানাবো।

বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি শাহজালাল রাজু জানান, পরীক্ষার ফি সহ অন্যান্য কাগজ পত্রে যেসব ফি নেয়া হয়েছে। তাতে আমাদের কোন সাক্ষর নেই। আমরা এসব বিষয়ে কিছু জানিনা। তবে অভিবাবকদেরকে আমরা বুঝিয়ে বিদায় করেছি। প্রধান শিক্ষক ছুটিতে রয়েছে। তিনি আসলে আমরা কর্তৃপক্ষের সাথে আলাপ করে বিষয়টি সমাধান করবো।

প্রতিবেদক: কবির হোসেন মিজি, ২৩ আগস্ট ২০২৩

Share