Home / জাতীয় / আজ পহেলা বৈশাখ বাংলা শুভ নববর্ষ

আজ পহেলা বৈশাখ বাংলা শুভ নববর্ষ

আজ শুক্রবার (১৪ এপ্রিল) ১৪২৬ বঙ্গাব্দ বাংলা শুভ নববর্ষ ‘পহেলা বৈশাখ’। আবহমান কাল থেকেই বাঙালীর অতীত ঐতিহ্যের সাথে সম্পৃক্ত বাংলা নববর্ষ । এটি বাঙালিদের একটি সর্বজনীন উৎসব। জাতীয় জীবনে এ গুরুত্বও অপরিসীম । বাংলা সনের প্রথম দিন, তথা বাংলা নববর্ষ। দিনটি আমাদের দেশে শুভ নববর্ষ হিসেবে বিশেষ উৎসবের সাথে পালিত হয়ে।

পহেলা বৈশাখ বাঙালী জাতির ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির ধারক হিসেবে আজও বাঙালীর হৃদয়ের মণিকোঠায় মিশে আছে। পহেলা বৈশাখে রমনীরা নানা সাজে সজ্জিত হয়ে ঘুরে বেড়ায় আপন মনে। রবীন্দ্রনাথ পহেলা বৈশাখ কে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন,”এসো হে বৈশাখ,এসো এসো ” গানটির মাধ্যমে।

সম্রাট আকবরের সময় থেকেই বাংলা নববর্ষ পহেলা বৈশাখের ধারা চলে চলছে। বিশেষ করে ব্যবসায়ীদের ব্যবসা-বাণিজ্যে একটি ইতিবাচক প্রভাব রয়েছে। তারা এ দিনে শুভ হালখাতা করে পুরানো হিসেব চুকিয়ে নতুনভাবে ও নতুন আঙ্গিকে পহেলা বৈশাখে যাত্রা শুরু করেন।

সম্ভবত ,তুর্কি বিজয়ের পর বঙ্গদেশে হিজরি সন চালু হয়েছিল। চন্দ্র হিসেবে হিজরি সন ধরা হয়। চন্দ্রবর্ষে দিন ও মাস প্রতি ৩৩ বছরে একবার করে আবর্তিত হয়। যেমন রমজান মাসের রোজা, শীত, গ্রীষ্ম, বর্ষা সব ঋতুতেই ঘুরে আসে। চান্দ্রমাস বা হিজরি সনের দিন ও মাস নির্দিষ্ট ঋতু বা ফসল তোলার মওসুমে স্থির না থাকায় খাজনা তোলার নির্দিষ্ট তারিখের সাথে ফসল তোলার সময়ে হেরফের হয়ে যায়।

তাই ৯৬৩ হিজরি সনে (১৫৫৬ খ্রিষ্টাব্দ) ভারতবর্ষে আকবরের শাসনামলে খাজনা আদায়ের লক্ষ্যে প্রজাদের ফসল তোলার সময়ের প্রতি দৃষ্টি রেখে ফসলি সন হিসেবে বাংলা বর্ষপঞ্জি তৈরি করা হয়। সম্রাট আকবরের উপদেষ্টা আমির ফতেহউল্লাহ সিরাজীর হিজরি সনের চান্দ্রবছরের হিসেবের পরিবর্তে সৌরবর্ষের হিসাব সংযোজন করে বাংলা সনের উদ্ভাবন করেন।

১৫৭৬ খ্রিষ্টাব্দের বাংলা মুঘল সা¤্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পর ১৫৮৫ খ্রিষ্টাব্দের ১০ মার্চ স¤্রাট আকবর বাংলা সন সংক্রান্ত এক ফরমান জারি করেন। বাংলা নববর্ষ পালনের সূচনা হয় মূলত আকবরের সময় থেকেই। সে সময় বাংলার কৃষকেরা চৈত্র মাসের শেষ দিন পর্যন্ত জমিদার, তালুকদার এবং অন্যান্য ভূ-স্বামীর খাজনা পরিশোধ করত। পরদিন নববর্ষে ভূ-স্বামীরা তাদের মিষ্টিমুখ করাতেন।

বাংলা দিনপঞ্জীর সঙ্গে হিজরী ও খ্রিষ্টীয় সনের মৌলিক পার্থক্য হলো হিজরী সন চাঁদের হিসাবে এবং খ্রিষ্টীয় সন ঘড়ি হিসাবে চলে। এ কারণে হিজরী সনে নতুন তারিখ শুরু হয় সন্ধ্যায় নতুন চাঁদের আগমনে।

ইংরেজি দিন শুর হয় মধ্যরাতে। পহেলা বৈশাখ রাত ১২ টা থেকে শুরু না সূর্যদোয় থেকে থেকে শুরু এটা নিয়ে অনেকের মতবিরোধ রযেছে। ঐতিহ্যগত ভাবে সূর্যদোয় থেকে বাংলা দিন গণনার রীতি থাকলেও ১৪০২ সালের ১ বৈশাখ থেকে বাংলা একাডেমি এ নিয়ম বাতিল করে আন্তর্জাতিক রীতির সাথে সামঞ্জস্য রাখতে রাত ১২ টায় দিন গণনা শুরুর নিয়ম চালু হয়।

আমরা ছোট বেলায় গাঁয়ের মেলায় যেতাম। সেখানে মাটির হাঁড়ি, পাতিল,খেলনা ও মিষ্টি-মন্ডা কিনতাম। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলেই মেলায় এসে আনন্দ-ফূর্তিতে ফেটে পড়তাম। যা ধূসর স্মৃতির আয়নায় আজ অম্লান। পহেলা বৈশাখের আগের আমেজ এখন আর নেই বললেই চলে। আমরা নিজস্ব সংস্কৃতিকে তেমন একটা প্রাধান্য দিচ্ছি না নানা অযুহাতে।

ফলে রাষ্ট্রীয়ভাবে দু’বছর ধরে বাংলা শুভ নববর্ষ পহেলা বৈশাখ পালিত হয়ে আসছে। এতে বিভিন্ন কর্মসূচিও রয়েছে। সরকার সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ২০% বেশাখি ভাতা প্রদান করেছেন। দেশের সকল সরকারি,বেসরকারি স্কুল,কলেজ ও মাদ্রাসায় মঙ্গল যাত্রা ও বৈশাখের নানা কর্মসূচি পালনের নির্দেশ দিয়েছেন।

বিশ্বের সকল বাঙালি এ দিনে নতুন বছরকে বরণ করে নেন। ভুলে যাবার চেষ্টা করে অতীত বছরের সকল দুঃখ-গ্লানি। সবার কামনা থাকে যেন নতুন বছরটি সমৃদ্ধ ও সুখ হয়। তাই বলতে হয় স্বাগত বৈশাখ ।

প্রতিবেদক : আবদুল গনি
১৪ এপ্রিল, ২০১৯
এইউ

Leave a Reply