শীর্ষ সংবাদ

চাঁদপুরের চরাঞ্চল মানুষের জীবনমান বদলে দিচ্ছে সৌর বিদ্যুৎ

চাঁদপুর জেলার মতলব উত্তর, মতলব দক্ষিণ, চাঁদপুর সদর ও হাইমচর উপজেলার পদ্মা-মেঘনা নদীর উপকূলীয় এলাকায় প্রায় ৩০টি চরাঞ্চল রয়েছে। এসব এলাকায় বিদ্যুতের কোন ব্যবস্থা না থাকার কারণে সোলার বিদ্যুৎই তাদের একমাত্র ভরসা।

সৌর বিদ্যুৎ প্যানেল বাজারজাত কোম্পানীগুলো থেকে কিস্তিতে কিংবা নগদ মূল্যে কম বেশী মূল্যের প্যাকেজ ক্রয় করে বিদ্যুতের আলোয় আলোকিত চরাঞ্চলের হাজার হাজার বাসিন্দা।

সৌর বিদ্যুৎ পাওয়ার কারণে সুবিধাবঞ্চিত এসব মানুষ এখন প্রযুক্তির নূন্যতম সুফল ভোগ করছেন। সদর উপজেলার রাজরাজেশ্বর ইউনিয়ন, ইব্রাহীমপুর ইউনিয়নের চরপতেজংপুর ও হাইমচর উপজেলার নীলকমল ইউনিয়নের ইশানবালা চরের অধিকাংশ গ্রাম ও কান্দিতে সোলার বিদ্যুতের সংযোগ দেখাগেছে। বাকি চরগুলোতেও একই ধরনের ব্যবস্থা রয়েছে।

সৌর বিদ্যুৎতের সুবিধা নিয়ে কথায় হয় রাজরাজেশ্বর ইউনিয়নের বাসিন্দা স্বাস্থ্য কর্মী সফিউল্লাহর সাথে। তিনি জানান চরাঞ্চলের মানুষ পেশায় অধিকাংশ মৎস্যজীবী ও কৃষক। আগে কুপি (চেরাগ বাতি), হারিকেন জ্বালিয়ে বেশীরভাগ রাত্রি যাপন করতেন। কিন্তু ৮-১০ বছর পূর্ব থেকে ক্রমান্বয়ে সোলার বিদ্যুৎ ব্যবহার শুরু হয়। চরাঞ্চলের মানুষের আর্থিক অবস্থা স্বচ্ছল না থাকায় অনেকেই প্রথম সোলার লাগাতে পারেননি।

কিন্তু এখন মানুষের আয় রোজগার বাড়ার কারণে অনেকেই ঘরে চাহিদানুযায়ী সোলার বিদ্যুতের ব্যবস্থা করেছেন। যার কারণে তাদের মোবাইল ফোন, টর্স লাইট ইত্যাদি সোলার বিদ্যুতের মাধ্যমেই চার্জ দিতে পারছেন। এছাড়াও সোলার বিদ্যুতের আলোতে এখন তাদের সন্তানরাও পড়া-লেখা করতে পারছেন।

হাইমচর উপজেলার নীলকমল ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য মো. স্বপন মিয়া জানান, আমাদের খুব কাছেই শরীয়তপুর জেলা। কিন্তু সরকারি নিয়ম-কানুনের কারণে বিদ্যুৎ সংগযোগ পাইনি। তাই ইশানবালা চরের ৪ ওয়ার্ডের কয়েক শত পরিবার এখন সৌর বিদ্যুতের উপর নির্ভরশীল। এখানকার পুলিশ ফাঁড়ি, মসজিদ, মাদ্রাসা, বাজার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সবকিছুই সোলার বিদ্যুতের বিদ্যুৎ দিয়ে চলে। তবে প্রতিষ্ঠানগুলোতে সরকারিভাবে সৌর বিদ্যুতের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বসতবাড়িতে নিজ খরচেই অনেকে সৌর বিদ্যুৎ প্যানেল লাগিয়েছেন। সৌর বিদ্যুৎ ব্যবস্থার কারণে আমাদের চরাঞ্চলের মানুষ এখন বিদ্যুতের আলোয় আলোকিত।

রাজরাজেশ্বর ইউনিয়নের ওমর আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ সফিউল্লাহ জানান, চাঁদপুর জেলা সদর থেকে সৌর বিদ্যুৎ কোম্পানীর লোকজন কিস্তিতে এবং নগদ মূল্যে এসব সোলার বিদ্যুৎ সংযোগ দিচ্ছেন। তবে প্যানেলের ব্যাটারীগুলো ভালো না হলে বিপাকে পড়তে হয়। এছাড়াও এখানকার মোবাইল কোম্পানীর টাওয়ারগুলোও সোলার বিদ্যুতের মাধ্যমে পরিচালনা করছেন। আমাদের বিদ্যালয়ে সরকারি ভাবে সোলার দেয়া হয়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় সোলারের আলোতে শিক্ষার্থীদের পাঠদান ও দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে হয়। তবে সরকারিভাবে শক্তিশালী সোলার প্যানেল তৈরি করলে চরাঞ্চলও আরো উন্নতির ছোঁয়া পাবে।

সদর উপজেলার ইব্রাহীমপুর ইউনিয়নের ইউপি সচিব সালামত উল্যাহ খান শাহীন জানান, সরকারের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে ইউনিয়ন পর্যায়ে টিআর কাবিখার যে সব বরাদ্দ আসে সে সব বরাদ্দের পরিপত্রেই উল্লেখ করা হয়েছে বরাদ্দের অর্ধেক টাকা মাটি কাটা এবং বাকি টাকা সোলার (সৌর) বিদ্যুতের জন্য ব্যয় করার জন্য। সে আলোকে মন্ত্রণালয় থেকে নির্ধারিত কয়েকটি সোলার বিদ্যুৎ কোম্পানী এ কাজ বাস্তবায়ন করছেন। তবে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জন্য এখন চরাঞ্চলসহ সকল এলাকায় সোলার বিদ্যুতের ব্যবস্থা শুরু হয়েছে।

হাইমচর উপজেলার নীলকমল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সালাউদ্দিন সর্দার জানান, গত ২ অর্থ বছর ইটকল নামক একটি প্রতিষ্ঠান সরকারিভাবে আমাদের ইউনিয়নের বিভিন্ন সেবামূলক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সোলার (সৌর) বিদ্যুৎ দিয়েছে।

জনপ্রতিনিধিদের নির্ধারণ করা প্রতিষ্ঠানেই তারা এ সোলার প্যানেল সংযুক্ত করেন। ৫ বছরের গ্যারান্টি দেয়া হয়। এর মধ্যে কোন ত্রুটি দেখা দিলে তারা মেরামত করেন। আর ব্যাক্তিগতভাবে অনেকেই গত ১০-১২ বছর পূর্ব থেকে সোলার বিদ্যুৎ ব্যবহার করে আসছেন। আমাদের ইউনিয়নের মাঝের চরে অর্থনৈতিক জোন ঘোষণা করেছে সরকার। সেখানেও শাক্তিশালী সৌর বিদ্যুৎ প্যানেল ব্যবহারের মাধ্যমে শিল্পকারখানা গড়ে তোলা হবে। বর্তমান সরকারের উন্নয়ন মুখি প্রচেষ্টায় চরাঞ্চলগুলো আর বেশীদিন অবহেলিত থাকবে না বলে আশা করি।

স্টাফ করেসপন্ডেট
৮ এপ্রিল,২০১৯

Share