চাঁদপুর

শ্রমিকদের ধর্মঘট প্রত্যাহার হলেও মালিকদের সিদ্ধান্তে ফের লঞ্চ চলাচল বন্ধ

নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির সিদ্ধান্তে যাত্রীবাহী লঞ্চ চলাচলের ঘোষণা দেয়ার ৬ ঘণ্টা পার না হতেই মালিকদের সিদ্ধান্তে ফের লঞ্চ চলাচল বন্ধ রয়েছে। আর এ ঘোষণার পরিপ্রেক্ষিতে চাঁদপুর-ঢাকা নৌ-রূটে বৃহস্পতিবার ২৫ জুলাই সকাল থেকে লঞ্চ চলাচল পুনরায় বন্ধ রয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নৌযান শ্রমিক ফেডারেশন আঞ্চলিক কমিটির দায়িত্বশীল ও নৌযান শ্রমিক লীগের চাঁদপুর জেলা সভাপতি বিপ্লব সরকার।

তিনি জানান, শ্রমিকদের কেন্দ্রীয় সংগঠনের ঘোষণা অনুযায়ী চাঁদপুর, বরিশালসহ সব রূটে লঞ্চ চলাচল শুরু হয়েছিলো। এ প্রেক্ষিতে বুধবার দিবগাত রাতে বোগদাদিয়া লঞ্চটি চাঁদপুর থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা করে।

কিন্তু মালিকদের আপত্তির প্রেক্ষিতে পুনরায় লঞ্চ চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ সফরে থাকায় শ্রমিকরা শুধুমাত্র যাত্রীবাহী লঞ্চ থেকে ধর্মঘট প্রত্যাহার করে। তবে অন্যান্য নৌ-যানের ওপর ধর্মঘট অব্যাহত আছে।

মালিকদের আপত্তি প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মালিকরা শ্রমিকে আন্দোলনের ওপর ক্ষুব্দ। তাদের বক্তব্য হলো কিছুদিন পর পর নৌ-যান শ্রমিকরা ধর্মঘটের ঢাক দেয়। এতে সরকারসহ যাত্রী সাধারণের পক্ষ থেকে মালিকদের ওপর চাপ সৃষ্টি হয়। তাদের বক্তব্য হলো বেতন-ভাতা নিয়ে শ্রমিকদের আপত্তি থাকতে পারে। কিন্তু লঞ্চে কেবিন ভাড়াসহ একাধিক ‍সুযোগ-সুবিধা বেতনের বাইরে শ্রমিকরা ভোগ করছে। শ্রমিকরা সেসব সুবিধা ছেড়ে দিলে, মালিকরাও বেতন-ভাতার বিষয়টি ভাবতে পারে। দু’পক্ষের এরুপ দাবির বিষয়টি সুরাহা হয়নি। তাই মালিকরাও লঞ্চ চলাচল বন্ধ রেখেছেন।’

এদিকে লঞ্চ ছাড়ার ঘোষণার পরপরই চাঁদপুর লঞ্চঘাট পণ্টুন থেকে সরিয়ে মাঝ নদীতে রাখা লঞ্চগুলো ফের পণ্টুনে এনে বার্দিং করা হয়েছিলো বলে জানিয়েছেন বিআইডবিস্নউটিএ’র নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগ। কিন্তু পূর্বের ঘোষণা সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমসহ গণমাধ্যমে প্রচার হওয়ায় রাত্রীবেলা যাত্রীদের তেমন উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়নি।

এর আগে শ্রম অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে এক সভায় বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি মোঃ শাহআলম ও সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী আশিকুল আলম নৌযান ধর্মঘট প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন। শ্রম অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোঃ মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানান শ্রম মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা আকতারুল ইসলাম।

নৌ-পথে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, শ্রমিক নির্যাতন বন্ধ ও সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার, নৌযান শ্রমিকদের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, কর্মস্থলে দুর্ঘটনায় মৃত নৌ শ্রমিকদের পরিবারকে ১০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ প্রদান, বেতন-ভাতা বৃদ্ধিসহ ১১ দফা দাবিতে মঙ্গলবার (২৩ জুলাই) দিবাগত রাত ১২টা ১ মিনিট থেকে কর্মবিরতি শুরু করেন নৌযান শ্রমিকরা।

এদিকে সচেতন মহলের দাবি, ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে ১১ দফা দাবি আদায়ে বাংলাদেশ নৌ-যান শ্রমিক ফেডারেশনের ডাকা লাগাতার কর্মবিরতি যেহেতু স্থগিত হয়েছে, কিন্তু মালিক-শ্রমিক দ্বন্দ্বে এখন আবার লঞ্চ চলাচল বন্ধ করায় যাত্রীদের ভোগান্তির মাত্রা বৃদ্ধি পাবে।

চাঁদপুর টাইমস রিপোর্ট, ২৫ জুলাই ২০১৯

Share