Home / আন্তর্জাতিক

আন্তর্জাতিক

পাকিস্তানে প্রথম মেট্রোরেল চালু

পাকিস্তানে প্রথম মেট্রোরেলের যাত্রা শুরু হয়েছে। রোববার লাহোরে ‘অরেঞ্জ লাইন’ নামের মেট্রোরেল টির উদ্বোধন করা হয়। তবে যাত্রী পরিবহন শুরু হয়েছে সোমবার থেকে। এটি দক্ষিণ এশিয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন করল বলে দাবি পাকিস্তান সরকারের।

চীনের স্টেট রেলওয়ে গ্রুপ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করেছে। ২৭ দশমিক ১ কিলোমিটার এ রেলপথে লাহোরের উত্তর থেকে ও দক্ষিণ অংশে যেতে সময় লাগবে ৪৫ মিনিট। এই পথে স্টেশন রাখা হয়েছে ২৬টি, যার দুটি মাটির নিচে। ‘অরেঞ্জ লাইন’ মেট্রোরেলের একপথের ভাড়া ৪০ রুপি ঠিক করা হয়েছে।

দেশটির সরকার আশা করছে, পূর্ণ সক্ষমতায় মেট্রোরেল টি চালু হলে রোজ দুই লাখ ৪৫ হাজার যাত্রী পরিবহন করা সম্ভব হবে। এই প্রকল্পটি চলাকালে স্থানীয় সাত হাজার মানুষের কাজের সুযোগ হয়েছিল। দুই হাজার মানুষের চাকরির সুযোগ হবে এতে।

বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ এবং সিপিইসি পরিকল্পনার আওতায় এটিই পাকিস্তানে প্রযুক্তিগত দিক থেকে সবচেয়ে বড় প্রকল্প

বার্তাকক্ষ,২৭ অক্টোবর,২০২০;

বিশ্বে ১০ মাসে করোনায় মৃত্যু সাড়ে ১১ লাখের বেশি

চীনে করোনাভাইরাসে প্রথম রোগীর মৃত্যু হয় চলতি বছরের ৯ জানুয়ারি। তবে তার ঘোষণা আসে ১১ জানুয়ারি। চীনের বাইরে করোনায় প্রথম কোনো রোগীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটে ফিলিপাইনে, ২ ফেব্রুয়ারি। আজ ২৭ অক্টোবর নাগাদ বিশ্বে করোনায় মোট মৃত মানুষের সংখ্যা ১১ লাখ ৫৮ হাজার ছাড়িয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের জনস হপকিনস ইউনিভার্সিটির তথ্য অনুযায়ী, আজ মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় সকাল নয়টা নাগাদ বিশ্বে করোনায় মোট মারা গেছেন ১১ লাখ ৫৮ হাজার ৫৯৬ জন।

জনস হপকিনস ইউনিভার্সিটির তথ্য অনুযায়ী, একই সময় পর্যন্ত বিশ্বে করোনাভাইরাসে সংক্রমিত শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ৪ কোটি ৩৪ লাখ ৩৮ হাজার ৪৩।

বিশ্বে করোনা থেকে সেরে ওঠা মানুষের সংখ্যা প্রায় ২ কোটি ৯১ লাখ।

বিশ্বে করোনায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশ যুক্তরাষ্ট্র। দেশটিতে করোনায় সংক্রমিত শনাক্ত রোগীর সংখ্যা প্রায় ৮৭ লাখ। মারা গেছে প্রায় ২ লাখ ২৫ হাজার মানুষ।

ক্ষতিগ্রস্ত দেশের তালিকায় ভারতের অবস্থান দ্বিতীয়। দেশটিতে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা প্রায় ৭৯ লাখ। মারা গেছেন প্রায় ১ লাখ ১৯ হাজার মানুষ।

ব্রাজিল আছে তৃতীয় অবস্থানে। দেশটিতে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা প্রায় ৫৪ লাখ। মারা গেছেন প্রায় ১ লাখ ৫৭ হাজার মানুষ।

তালিকায় রাশিয়ার অবস্থান চতুর্থ। ফ্রান্স পঞ্চম। তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান ১৮তম। গত বছরের ডিসেম্বরে চীনের উহানে প্রথম করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়।

১৩ জানুয়ারি চীনের বাইরে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয় থাইল্যান্ডে। পরে বিভিন্ন দেশে করোনা ছড়িয়ে পড়ে। করোনার প্রাদুর্ভাবের পরিপ্রেক্ষিতে ৩০ জানুয়ারি বৈশ্বিক স্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। গত ১১ ফেব্রুয়ারি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা করোনাভাইরাস থেকে সৃষ্ট রোগের নামকরণ করে ‘কোভিড-১৯’। ১১ মার্চ করোনাকে বৈশ্বিক মহামারি ঘোষণা করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

বাংলাদেশ পরিস্থিতি

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা চার লাখের বেশি—বিশ্বে এমন দেশের সংখ্যা এত দিন ছিল ১৭। গতকাল সোমবার বিশ্বের ১৮তম দেশ হিসেবে এই তালিকায় যুক্ত হয় বাংলাদেশ। এখন পর্যন্ত দেশে মোট ৪ লাখ ২৫১ জনের দেহে করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। এশিয়া মহাদেশের দেশগুলোর মধ্যে আক্রান্ত হওয়ার সংখ্যার দিক থেকে বাংলাদেশের অবস্থান চতুর্থ। এই অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের চেয়ে রোগী বেশি ভারত, ইরাক ও ইরানে।

দেশে সংক্রমণের ২৩৩তম দিন ছিল গতকাল। এ পর্যন্ত করোনায় মারা গেছেন ৫ হাজার ৮১৮ জন। আর সুস্থ হয়েছেন ৩ লাখ ১৬ হাজার ৬০০ জন। প্রায় ৭৮ হাজার মানুষ এখনো চিকিৎসাধীন। এখন পর্যন্ত দেশে প্রতি ১০ লাখ মানুষের মধ্যে ২ হাজার ৩৫০ জনের কোভিড-১৯ শনাক্ত হয়েছে। বেশ কিছুদিন ধরে সংক্রমণ কিছুটা কমে এলেও পরিস্থিতি এখনো নিয়ন্ত্রণে আসেনি।

বার্তা কক্ষ,২৭ অক্টোবর ২০২০

মহানবীর অবমাননা: ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূতকে তলব পাকিস্তানের

ইসলাম ও হজরত মুহাম্মদকে (সা.) অবমাননার ঘটনায় পাকিস্তানে নিযুক্ত ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূতকে তলব করছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ইসলামকে কটাক্ষ করে অবিবেচকের মতো মন্তব্য করে সম্প্রতি ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ মুসলিমদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়ায় সোমবার দেশটির রাষ্ট্রদূতকে তলব করে পাকিস্তান।

এর আগে ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর বিরুদ্ধে ‘ইসলামকে আক্রমণ’ করার অভিযোগ আনেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। এর একদিন পরই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করা হয়ে পাকিস্তানে নিযুক্ত ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূতকে।

এদিকে, ইসলাম ও হজরত মুহাম্মদকে (সা.) অবমাননার ইস্যুতে তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান দেশটির নাগরিকদের ফরাসি পণ্য বর্জনের আহ্বান জানিয়েছেন। অনেক আরব দেশেই ফরাসি জিনিস, বিশেষ করে মেক আপ সামগ্রী ও সুগন্ধী আর বিক্রি করা হচ্ছে না। শপিং মল বা দোকানের তাক খালি করে দেয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে ডয়েচে ভেলের বাংলা সংস্করনের এক প্রতিবেদনে।

সূত্র: রয়টার্স।

ফরাসি পণ্য বর্জনের ডাক দিলেন এরদোয়ান

মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর কার্টুন প্রদর্শন ও মুসলিমবিরোধী অবস্থানের প্রতিবাদে ফরাসি পণ্য-সামগ্রী বর্জনের ডাক দিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান।

ইসলামের বিরুদ্ধে প্যারিসের বিতর্কিত অবস্থানের কারণে ন্যাটো জোটের এই মিত্র দেশটির সঙ্গে তুরস্কের সম্পর্কের অবনতির মাঝে সোমবার তুর্কি প্রেসিডেন্ট এই ডাক দিয়েছেন।

তিনি বলেন, ফ্রান্সে বলা হয়েছে তুরস্কের লেবেলযুক্ত পণ্য-সামগ্রী কিনবেন না। আমি তুরস্কের সব নাগরিককে একই ধরনের আহ্বান জানিয়ে বলছি, কখনই কোনও ফরাসি ব্র্যান্ডকে সহায়তা করবেন না অথবা ফ্রান্সের লেবেলযুক্ত পণ্য সামগ্রী কিনবেন না।

তুরস্কের পরিসংখ্যান ইনস্টিটিউটের তথ্য বলছে, তুরস্কের আমদানির দশম এবং রফতানির সপ্তম বৃহত্তম উৎস হলো ফ্রান্স। তুরস্ক যেসব পণ্য ফ্রান্স থেকে আমদানি করে সেসবের মধ্যে সর্বাধিক বিক্রিত অটো-সামগ্রী।

মুসলিমদের বিরুদ্ধে ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁর অবস্থানের সমালোচনাও করেন এরদোয়ান। এর আগে শনিবার তুর্কি এই প্রেসিডেন্ট বলেন, মুসলিমদের নিয়ে এমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সমস্যা আছে। এ জন্য তার মানসিক স্বাস্থ্যের পরীক্ষা দরকার।

তুর্কি প্রেসিডেন্টের এই মন্তব্যের পর আঙ্কারা থেকে রাষ্ট্রদূত প্রত্যাহার করে নিয়েছে ফ্রান্স।

গত ১৬ অক্টোবর প্যারিসের উপকণ্ঠে দেশটির এক স্কুল শিক্ষকের শিরশ্ছেদ করে ১৮ বছর বয়সী এক কিশোর। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর বিতর্কিত কার্টুন শিক্ষার্থীদের প্রদর্শনের কারণে ক্ষুব্ধ ওই কিশোর স্কুল শিক্ষককে হত্যা করেন।

পরে ফ্রান্সের সরকার ওই স্কুল শিক্ষককে দেশটির সর্বোচ্চ মরণোত্তর পদকে ভূষিত এবং বিভিন্ন ভবনের গায়ে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর বিতর্কিত সেই কার্টুনের প্রদর্শন শুরু করে। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় এই কার্টুনের প্রদর্শনের ব্যবস্থার নির্দেশ দেন।

গতকাল এক টুইট বার্তায় এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বলেন, ‘আমরা কখনোই ইসলামী মৌলবাদীদের কাছে নতি স্বীকার করবো না।’ তিনি মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে সমর্থনের নামে ইসলামবিরোধী ব্যঙ্গাত্মক কার্টুন প্রদর্শন ও বক্তব্যকে উসকানি দিয়ে বলেন, ‘আমরা বিদ্বেষপূর্ণ বক্তব্য গ্রহণ ও যুক্তিযুক্ত মতামতকে প্রতিহত করি না।’

ফরাসি প্রেসিডেন্টর এই অবস্থানের প্রতিবাদে আরব উপসাগরীয় অঞ্চলসহ মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ফ্রান্সের পণ্য বর্জনের হিড়িক পড়ে গেছে। অনেক খ্যাতনামা চেইন শপসহ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ফরাসি পণ্য বিক্রি বন্ধ করে দিয়েছে। করোনাকালে এই বর্জনের সুদূরপ্রসারী প্রভাব আঁচ করতে পেরে আরব দেশগুলোর প্রতি পণ্য বর্জন বন্ধের অনুরোধ জানিয়েছে ফ্রান্স।

রোববার (২৫ অক্টোবর) এক বিবৃতিতে ফ্রান্সের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, মহানবী (সা.) এর ব্যঙ্গাত্মক কার্টুন প্রকাশের পর সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কয়েকটি দেশে ফ্রান্সের পণ্য, বিশেষ করে খাদ্যপণ্য বয়কটের ডাক দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি ফ্রান্সের বিরুদ্ধে বিক্ষোভের ডাকও পড়েছে বেশ কয়েকটি মুসলিম দেশে।

‘বয়কটের এসব আহ্বান ভিত্তিহীন এবং অবিলম্বে এগুলো বন্ধ হওয়া উচিৎ। সেই সঙ্গে সব ধরনের আক্রমণাত্মক মনোভাব, যা একটি উগ্র সংখ্যালঘু সম্প্রদায় উস্কে দিচ্ছে, সেগুলো বন্ধ করতে হবে।’

সূত্র: রয়টার্স, এএফপি।

শুধু সৌদিতে করোনায় ৮৫০ জন বাংলাদেশির মৃত্যু

মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের দেশগুলোয় করোনাভাইরাসের সংক্রমণে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মৃত্যু আগের চেয়ে কমে এসেছে। বিশেষ করে গত দুই মাসে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোয় প্রবাসীদের মৃত্যুর হার জুন ও জুলাই মাসের তুলনায় অনেকটাই কম।

রোববার পর্যন্ত বিদেশের মাটিতে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে সবচেয়ে বেশি বাংলাদেশি মারা গেছেন উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদভুক্ত (জিসিসি) ছয়টি দেশে। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, ওমান, কাতার ও বাহরাইন—জিসিসিভুক্ত এই ছয় দেশে এখন পর্যন্ত করোনায় ১ হাজার ২৮৩ জন বাংলাদেশি মারা গেছেন।

মধ্যপ্রাচ্যের ছয়টি দেশের বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তা, সেসব দেশের বিভিন্ন প্রবাসী সংগঠন থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, সৌদি আরবে ৮৫০ জন, সংযুক্ত আরব আমিরাতে ১৯৮ জন, কুয়েতে ১০৩ জন, ওমানে ৭০ জন, কাতারে ৩৫ জন ও বাহরাইনে ২৭ জন বাংলাদেশি করোনাভাইরাসের সংক্রমণে মারা গেছেন।

অন্যদিকে যুক্তরাজ্যে ৩৪০ জন, যুক্তরাষ্ট্রে ২৯২, ইতালিতে ১৬, কানাডায় ৯, সুইডেনে ৮, ফ্রান্সে ৭, স্পেনে ৫, বেলজিয়ামে ৩ জন, পর্তুগাল ও দক্ষিণ আফ্রিকায় ২ জন করে এবং ভারত, মালদ্বীপ, কেনিয়া, লিবিয়া ও গাম্বিয়ায় ১ জন করে বাংলাদেশি মারা গেছেন। অর্থাৎ এই ১৫ দেশে ৬৮৯ জন বাংলাদেশি করোনাভাইরাসের সংক্রমণে মারা গেছেন।

সব মিলিয়ে করোনা সংক্রমণে বিশ্বের ২১ দেশে এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৯৭২ জন বাংলাদেশির মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

বিশ্বের ২০০টির বেশি দেশ ও অঞ্চলের করোনা সংক্রমণের হালনাগাদ তথ্য প্রকাশ করে আসছে ওয়ার্ল্ডোমিটারস ওয়েবসাইট। তাদের গতকালের তথ্য অনুযায়ী, সৌদি আরবে এ পর্যন্ত মারা গেছেন ৫ হাজার ২৯৬ জন। এর মধ্যে ৮৫০ জনই বাংলাদেশি। দেশের বাইরে সবচেয়ে বেশি প্রায় ২০ লাখ বাংলাদেশি কর্মী থাকেন সৌদি আরবে। সেখানে বেশির ভাগ কর্মী গাদাগাদি করে ডরমিটরিতে থাকতে বাধ্য হন।

বাংলাদেশি কর্মীদের আক্রান্ত হওয়ার অন্যতম কারণ এটি। আবার যেসব জায়গায় তাঁরা কাজ করেন, সেখানে লোকসমাগমও বেশি। এর পাশাপাশি স্বাস্থ্যবিধি অগ্রাহ্য করা, চাকরি নিয়ে শঙ্কা আর অনিশ্চয়তাও প্রবাসী কর্মীদের মৃত্যুঝুঁকি বাড়িয়েছে। এ ছাড়া করোনায় মারা যাওয়া প্রবাসী কর্মীদের একটি বড় অংশের নানা ধরনের শারীরিক সমস্যা ছিল বলে দূতাবাস সূত্রে জানা গেছে।

সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কুয়েত—এই তিন দেশের দূতাবাসের কর্মকর্তারা জানান, করোনাভাইরাসে মারা যাওয়া কর্মীদের অধিকাংশই হৃদ্‌রোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, কিডনি রোগসহ নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন। হাসপাতালে ভর্তির পর তাঁদের অনেকের করোনা শনাক্ত হয়।

তবে করোনার সংক্রমণ আর মৃত্যুর সংখ্যা দুই মাস আগের তুলনায় কমলে বাংলাদেশির মূল সংকটটা তাঁদের জীবিকা তথা ভবিষ্যৎ নিয়ে। বিশেষ করে যাঁরা ছুটিতে কিংবা ব্যক্তিগত প্রয়োজনে বাংলাদেশে ফিরেছিলেন, তাঁদের ফেরা নিয়ে অনিশ্চয়তা এখনো পুরোপুরি কাটেনি। এমনকি দেশে থাকা কর্মীদের ইকামা (কাজের অনুমতিপত্র) ও ভিসার মেয়াদ বাড়ানো হলেও উড়োজাহাজের টিকিট না পাওয়ায় তাঁদের একটি অংশ এ মাসের শুরুতে ঢাকার রাজপথে ছিলেন দিনের পর দিন।

করোনা পরিস্থিতির প্রসঙ্গে সৌদি আরবের রিয়াদে বাংলাদেশের উপরাষ্ট্রদূত এস এম আনিসুল হক গতকাল সন্ধ্যায় বলেন, লোকজন আস্তে আস্তে কাজে ফিরছেন। তবে পুরোদমে সবকিছু করোনার আগের পরিস্থিতিতে ফেরেনি। ফলে অভিবাসীদের জীবিকা নিয়ে একধরনের অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।

করোনা সংক্রমণে সৌদি আরবের পর সবচেয়ে বেশি বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতে। ওয়ার্ল্ডোমিটারসের গতকালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশটিতে এখন পর্যন্ত ৪৭৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। প্রবাসী বাংলাদেশি ও কূটনৈতিক সূত্রগুলোর কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, তাঁদের মধ্যে ১৯৮ জনই বাংলাদেশি।

দুবাইয়ের একটি নির্মাণপ্রতিষ্ঠানের কর্মী মোস্তফা আলী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ছিলেন বেশ কিছুদিন। সুস্থ হওয়ার পর তাঁর সব দুশ্চিন্তা চাকরি নিয়ে। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘কয়েক লাখ টাকা খরচ করে এসেছি। করোনার ছোবল থেকে মুক্ত হয়ে যখন শুনি পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে অনেকের চাকরি থাকবে না, তখন তো চোখের সামনে অন্ধকার দেখি।’

ওয়ার্ল্ডোমিটারের তথ্য অনুযায়ী, ওমানে গতকাল পর্যন্ত মারা গেছেন ১ হাজার ১৭৪ জন। তাঁদের মধ্যে ৭০ জন বাংলাদেশি। জানতে চাইলে ওমানে বাংলাদেশ সোশ্যাল ক্লাবের সভাপতি সিরাজুল হক গতকাল বিকেলে মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, জনসংখ্যার আনুপাতিক হারে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মধ্যে ওমানে করোনার সংক্রমণ আর মৃত্যুর হারটা অনেক বেশি।

অন্যদিকে ইউরোপের দেশগুলো বিশেষ করে ইতালি, স্পেনে করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ শুরুর সঙ্গে সঙ্গে সেসব দেশে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও সংক্রমণ বাড়তে শুরু করেছে।

ইউরোপের বাংলাদেশ মিশনগুলোর বরাত দিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা জানান, গত দুই মাসে প্রবাসীদের মৃত্যুর সংখ্যা কমলেও সংক্রমণের হারটা এখন খুব বেশি।

বার্তা কক্ষ,২৬ অক্টোবর ২০২০

‘ইসলামবিদ্বেষী কনটেন্ট’ বন্ধে ফেসবুক সিইওকে ইমরান খানের চিঠি

ফেসবুকে ইসলামবিদ্বেষী কন্টেন্টগুলো বন্ধ করার দাবি জানিয়ে ফেসবুকের প্রধান নির্বাহী মার্ক জুকারবার্গকে চিঠি লিখেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। চিঠিতে ইমরান লিখেছেন– এ ধরনের পোস্টগুলো মুসলমানদের মনে ক্ষোভের জন্ম দিচ্ছে। এমনকি মুসলিমদের মধ্যে চরমপন্থাও উসকে দিচ্ছে।

টুইটারে পাকিস্তান সরকারের অ্যাকাউন্ট থেকে চিঠিটি প্রকাশ করা হয়েছে। খবর এনডিটিভি ও রয়টার্সের।

চিঠিতে ইমরান খান লিখেছেন, সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম বিশেষ করে ফেসবুকে ক্রমবর্ধমান ইসলামোফোবিক পোস্টগুলো শেয়ারের ফলে বিশ্বব্যাপী চরমপন্থা ও সহিংসতা উসকে দিচ্ছে। এ ধরণের পোস্ট ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানছে।

মার্ক জুকারবার্গের কাছে ইমরান খানের আর্জি, হলোকাস্ট নিয়ে বিভিন্ন পোস্টের বিষয়ে ফেসবুকে যেমন বিধিনিষেধ আছে, ইসলামবিদ্বেষী পোস্টগুলোর ক্ষেত্রেও যেন একই ধরনের বিধি আরোপ করা হয়।

ইমরানের লেখা এ চিঠির বিষয়ে জানতে রয়টার্সের পক্ষ থেকে ফেসবুকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাদের তরফ থেকে কিছু জানানো হয়নি।

সম্প্রতি ফ্রান্সে নবী মুহাম্মদ (স.) কে ব্যাঙ্গ করে কার্টুন প্রকাশের ঘটনার প্রসঙ্গ চিঠিতে তুলেছেন ইমরান খান। ইমরান খান অভিযোগ করেন, ব্যঙ্গকারীদের সমর্থন দিয়ে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ইসলামের ওপর আক্রমণ করছেন।

বার্তাকক্ষ,২৬ অক্টোবর,২০২০;

বাংলাদেশি হ্যাকারদের ভয়ে ফ্রান্সে সতর্কতা জারি

মহানবী হজরত মোহাম্মদ (সা.)কে নিয়ে কটূক্তির প্রতিবাদে ফ্রান্সের বেশ কয়েকটি বাণিজ্যিক ওয়েবসাইট হ্যাক করেছে বাংলাদেশি হ্যাকার কমিউনিটি ‘সাইবার ৭১’ সহ বিভিন্ন দেশের হ্যাকাররা। ক্রমাগত হ্যাকারদের আক্রমণে বিপর্যস্ত ফ্রান্সের বিভিন্ন ওয়েবসাইট। ফলে বাধ্য হয়ে দেশটিতে জরুরি সাইবার সিকিউরিটি অ্যালার্ট জারি করেছে।

শনিবার মধ্যরাত থেকে এই সাইবার হামলা চালানো হয় বলে জানিয়েছেন কমিউনিটির একাধিক সদস্য।

সাইবার হামলা চালানো কয়েকটি ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে দেখা যায়, ওয়েবসাইটের মূল কন্টেন্ট কিছুই নেই। সেখানে লেখা আছে মহানবী (সা.) কে নিয়ে প্রকাশ্যে কটূক্তির প্রতিবাদে এই অপারেশন চালিয়েছে মুসলমান হ্যাকাররা। ফ্রান্সের সাইবার স্পেসে খুব বিপজ্জনক হামলার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। যতক্ষণ পর্যন্ত ক্ষমা চাওয়া হবে না এইরকম হামলা চলতেই থাকবে।

‘সাইবার ৭১’ এর ফেসবুক পেজেও লিংকগুলো পোস্ট করে হ্যাক করার দাবি জানানো হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, যে দেশে আমাদের রাসুল (সা.) কে নিয়ে ব্যঙ্গ করা হয়েছে সেই দেশের ওয়েবসাইটেই বাজছে এখন রাসুলের সম্মানে সঙ্গীত। ফ্রান্সের বিরুদ্ধে সম্মিলিত সাইবার আক্রমণে ফ্রান্সের কিছু গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক কোম্পানির ওয়েবসাইটে সাইবার আক্রমণ পরিচালনা করেছে ‘সাইবার ৭১’ ফ্রান্স এই ন্যক্কারজনক কাজের জন্য ক্ষমা না চাওয়া পর্যন্ত সম্মিলিত এই আক্রমণ চলতেই থাকবে। সকলের আক্রমণই আমরা আপনাদের জন্য আপডেট করতে থাকবো।

সাইবার ৭১ হ্যাকিং কমিউনিটির একজন সদস্য বলেন,এখন পর্যন্ত ৪০-৫০টি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক ওয়েবসাইটে আক্রমণ করা হয়েছে। তবে সবগুলো আমরা প্রকাশ করিনি এখনও। সর্বশেষ মোট ৮টি ওয়েব সাইট প্রকাশ করেছি আমাদের অফিশিয়াল পেজে।

রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় মহানবী হযরত মোহাম্মদ (সা.) কে অবমাননা করার প্রতিবাদে এই সাইবার আক্রমণ করা হয়েছে। আমরা আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ ওয়েবসাইট টার্গেটে রেখেছি সেগুলোতেও হামলা করা হবে।

বার্তা কক্ষ,২৬ অক্টোবর ২০২০

করোনার দ্বিতীয় ঢেউ: স্পেনে কারফিউ জারি

চলমান মহামারি করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হয়েছে ইউরোপের দেশগুলোতে। স্পেন, ফ্রান্স, জার্মানি ও পোলান্ডের মতো দেশগুলোতে এখন প্রতিদিনই সংক্রমণ বেড়েই চলেছে। যার ফলে নতুন করে কড়াকড়ি আরোপ করতে বাধ্য হচ্ছে বিভিন্ন দেশ।

করোনার দ্বিতীয় ঢেউ লেগেছে স্পেনেও। সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে কারফিউয়ের পাশাপাশি দেশটিতে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে।

২৫ অক্টোবর,রোববার থেকেই রাত্রিকালীন কারফিউ কার্যকরের ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ। রাত ১১টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত কারফিউ জারি থাকবে বলে জানানো হয়েছে।

এছাড়া স্থানীয় প্রশাসন এক অঞ্চল থেকে অন্য অঞ্চলে লোকজনের ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে পারবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। ১৫ দিনের জন্য জরুরি অবস্থা এবং কারফিউ জারি করা হয়েছে। তবে পার্লামেন্টে এ সময় বাড়িয়ে ছয় মাস করার প্রস্তাব তুলবেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ।

রোববার টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে প্রধানমন্ত্রী সানচেজ বলেন, পরিস্থিতি চরম পর্যায়ের দিকে ধাবিত হচ্ছে। এ পরিস্থিতি অর্ধশতাব্দীর মধ্যে সবচেয়ে গুরুতর বলে উল্লেখ করেন তিনি।

স্পেনের অর্ধেকের বেশি রাজ্যেই কঠোর বিধি-নিষেধ জারি করা হয়েছে। একই ধরনের কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছিল গত এপ্রিলে যখন করোনার প্রথম প্রাদুর্ভাব শুরু হয় তখন। দেশটিতে ইতোমধ্যেই সংক্রমণ ১০ লাখ ছাড়িয়ে গেছে। অপরদিকে মারা গেছে ৩৫ হাজারের বেশি মানুষ। সূত্র: বিবিসি

আরব বিশ্বে ফরাসি পণ্য বর্জনের হিড়িক

ধর্ম ও বিশ্বনবী হজরত মোহাম্মদ (সা.) সম্পর্কে প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সাম্প্রতিক মন্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে বেশ কয়েকটি আরব বাণিজ্য সমিতি ফরাসি পণ্য বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে।

চলতি মাসের শুরুতে ম্যাক্রোঁ ‘ইসলামপন্থী বিচ্ছিন্নতাবাদ’ বিরোধী লড়াইয়ের নামে ইসলাম নিয়ে কটূক্তি করার জেরে গোটা আরব জুড়েই ফরাসি পণ্য বর্জনের হিড়িক পড়েছে।

ম্যাক্রোঁ বিশ্বব্যাপী ইসলামকে একটি ‘সংকটের’ ধর্ম হিসেবে বর্ণনা করেছেন। বিশ্বনবী হজরত মোহাম্মদ (সা.)কে নিয়ে ব্যাঙ্গচিত্র প্রদর্শন বন্ধ করা হবে না বলেও সাফ জানিয়ে দিয়েছেন ম্যাক্রোঁ। বিশ্বনবীকে নিয়ে একটি বিতর্কিত কার্টুন দেখানোর জেরে খুন হওয়া ফরাসি শিক্ষক স্যামুয়েল প্যাটিকে সম্মান জানাতে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তিনি এ কথা বলেছেন।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি গ্রুপ থেকে আরব দেশ এবং তুরস্কের সুপারমার্কেট থেকে ফরাসি পণ্য বর্জন করার আহ্বান জানিয়েছে।

কুয়েতে আল-নাইম সমবায় সমিতির পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যরা ফরাসি সব পণ্য বর্জন করার এবং সেগুলো সুপারমার্কেট থেকে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দাহিয়াত আল-থুহর সমিতি একই পদক্ষেপ নিয়েছে এবং বলেছে, ‘ম্যাক্রোঁর অবস্থান এবং আমাদের প্রিয় নবীর বিরুদ্ধে আপত্তিকর কার্টুনের পক্ষে তাঁর সমর্থনের ভিত্তিতে, আমরা ফরাসি সব পণ্য বাজার থেকে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

কাতারে ওয়াজবাহ ডেইরি সংস্থা ফরাসি পণ্য বর্জনের ঘোষণা করেছে এবং বিকল্প সরবরাহ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। কাতারের যৌথ স্টক সংস্থা আল মিরা কনজিউমার গুডস সংস্থা টুইটারে ঘোষণা করেছে, ‘আমরা পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত আমাদের তাক থেকে তৎক্ষণাত ফরাসি পণ্য প্রত্যাহার করে নিয়েছি।’

কাতার বিশ্ববিদ্যালয়ও এই প্রচারে অংশ নিয়েছে। টুইটারে এক বিবৃতিতে বিশ্ববিদ্যালয় বলেছে, ‘ইসলামী বিশ্বাস, পবিত্রতা এবং প্রতীকগুলোর বিরুদ্ধে যেকোনো কুসংস্কার সম্পূর্ণভাবে অগ্রহণযোগ্য, কারণ এই অপরাধ সর্বজনীন মানবিক মূল্যবোধ এবং উচ্চতর নৈতিক নীতিকে ক্ষতি করে।’

উপসাগরীয় সহযোগিতা কাউন্সিল (জিসিসি) ম্যাক্রোঁর বক্তব্যকে দায়িত্বজ্ঞানহীন হিসেবে বর্ণনা করেছে এবং বলেছে, তাদের লক্ষ্য মানুষের মধ্যে ঘৃণার সংস্কৃতি ছড়িয়ে দেওয়া।

বার্তা কক্ষ,২৬ অক্টোবর ২০২০

মহানবীকে অবমাননায় কুয়েতে ফ্রান্সের পণ্য বয়কটের ডাক

শেষ নবী হযরত মোহাম্মদকে (সা.) অবমাননার কারণে ফ্রান্সের পন্য বয়কটের ডাক দিয়েছে কুয়েতের অধিবাসীরা।

ফ্রান্সের পণ্য বয়কটের ডাক দিয়ে হ্যাশ ট্যাগ (#বয়কট ফ্রেঞ্চ প্রডাক্টস) ব্যবহার করছেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীরা। তাদের এ আন্দোলনে ব্যাপক সাড়া মিলেছে বিশ্বব্যাপী।

ইতিমধ্যে কুয়েতের বিভিন্ন মার্কেট থেকে ফ্রান্সের পণ্য সরিয়ে নেয়া হচ্ছে। এর নানা ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। অনেকেই হ্যাশ ট্যাগের সঙ্গে জুড়ে দিচ্ছেন এসব ছবি ও ভিডিও।

আন্দোলনকারীরা ফেসবুক পোস্টে ফ্রান্সের বিভিন্ন কোম্পানির একটি তালিকাও প্রকাশ করছেন। যেখানে ফ্রান্সের মালিকানাধীনা কোম্পানিগুলোর লোগো ও নাম ব্যবহার করা হয়েছে। খবর ডেইলি সাবাহ’র।

গত ১৬ অক্টোবর ফ্রান্সের প্যারিসের শহরতলী এলাকায় এক স্কুলশিক্ষককে গলা কেটে হত্যা করা হয়।

পুলিশের উদ্ধৃতি দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, হামলাকারীর বয়স ১৮ বছর। তিনি চেচেন জাতিগোষ্ঠীর এবং জন্ম রাশিয়ার মস্কোতে। নিহত ওই শিক্ষক রাষ্ট্রবিজ্ঞান পড়াতেন।

‘মতপ্রকাশের স্বাধীনতা’ ক্লাসে তিনি শিক্ষার্থীদের মহানবী মুহাম্মদ (সা.)-এর কার্টুন দেখিয়ে ছিলেন। তারপর তাকে হত্যা করা হয়।

এ ঘটনার পর ফ্রান্সের পুলিশ দেশটির অন্তত ৫০টি মসজিদ ও মুসলিম-অধ্যুষিত এলাকায় ভয়াবহ অভিযান চালায়।

সাড়ে পাঁচ বছর আগে হজরত মোহাম্মদ (সা.) বিতর্কিত কার্টুন ছাপানোর পর ফ্রান্সের ব্যঙ্গাত্মক ম্যাগাজিন শার্লি এবদোতে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটে। আবারও সেটি ছাপিয়েছে ম্যাগাজিনটি।

এ নিয়ে সমালোচনার ঝড় উঠলেও এর পক্ষে শক্ত অবস্থান নিয়েছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ।
প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন, হজরত মুহাম্মদের (সা.) বিতর্কিত কার্টুন ছাপানো নিয়ে নিন্দা জানাবেন না। একই সঙ্গে বিচ্ছিন্নতাবাদী ও এসব হামলার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার ঘোষণা দেন তিনি।

মোহাম্মদ (সা.)-এর কার্টুন বন্ধে ব্যবস্থা না নেয়া এবং শার্লি এবদোর পক্ষে অবস্থান নেয়ার পর মুসলিম বিশ্বে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। ক্ষোভে ফেটে পড়ছে মুসলিম দেশগুলো।

তারই বহিঃপ্রকাশ হিসেবে ফ্রান্সের সব ধরনের পণ্য বয়কটের ডাক দিয়েছে কুয়েত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারী বিশেষ করে টুইটার ও ফেসবুকে ফ্রান্সের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

বার্তা কক্ষ,২৪ অক্টোবর ২০২০