Home / আন্তর্জাতিক

আন্তর্জাতিক

বিশ্বে করোনায় মৃত্যু প্রায় ১৫ লাখ

বিশ্বে করোনাভাইরাসে সংক্রমিত শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ৬ কোটি ৪৮ লাখ ছাড়িয়েছে। অন্যদিকে মৃত মানুষের সংখ্যা প্রায় ১৫ লাখ।

পরিসংখ্যান নিয়ে কাজ করা ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডোমিটারের সর্বশেষ তথ্য বলছে, আজ বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় সকাল ১০টা নাগাদ বিশ্বে করোনায় সংক্রমিত শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ৬ কোটি ৪৮ লাখ ৩৮ হাজার ৮৯৬। একই সময় নাগাদ বিশ্বে করোনায় মোট মারা গেছেন ১৪ লাখ ৯৯ হাজার ২১৮ জন।

ওয়ার্ল্ডোমিটারের সর্বশেষ তথ্য বলছে, এখন পর্যন্ত বিশ্বে করোনা থেকে সেরে ওঠা মানুষের সংখ্যা ৪ কোটি ৪৯ লাখ ৩৬ হাজার ৯০৫।

বিশ্বে করোনায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশ যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্রে করোনায় সংক্রমিত শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ১ কোটি ৪৩ লাখ ১৩ হাজার ৯৪১। দেশটিতে করোনায় মারা গেছেন ২ লাখ ৭৯ হাজার ৮৬৫ জন।

ক্ষতিগ্রস্ত দেশের তালিকায় ভারতের অবস্থান দ্বিতীয়। ভারতে করোনায় সংক্রমিত শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ৯৫ লাখ ৩৩ হাজার ৪৭১। দেশটিতে করোনায় মারা গেছেন ১ লাখ ৩৮ হাজার ৬৫৭ জন।

ব্রাজিল আছে তৃতীয় অবস্থানে। ব্রাজিলে করোনায় সংক্রমিত শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ৬৪ লাখ ৩৬ হাজার ৬৫০। দেশটিতে করোনায় মারা গেছেন ১ লাখ ৭৪ হাজার ৫৩১ জন।

তালিকায় রাশিয়ার অবস্থান চতুর্থ। ফ্রান্স পঞ্চম। স্পেন ষষ্ঠ। যুক্তরাজ্য সপ্তম। ইতালি অষ্টম। আর্জেন্টিনা নবম। কলম্বিয়া দশম। তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান ২৬তম।

গত বছরের ডিসেম্বরে চীনের উহানে প্রথম করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়।

চীনে করোনায় প্রথম কোনো রোগীর মৃত্যু হয় চলতি বছরের ৯ জানুয়ারি। তবে তার ঘোষণা আসে ১১ জানুয়ারি।

চলতি বছরের ১৩ জানুয়ারি চীনের বাইরে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয় থাইল্যান্ডে। পরে বিভিন্ন দেশে করোনা ছড়িয়ে পড়ে।

করোনার প্রাদুর্ভাবের পরিপ্রেক্ষিতে ৩০ জানুয়ারি বৈশ্বিক স্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

গত ২ ফেব্রুয়ারি চীনের বাইরে করোনায় প্রথম কোনো রোগীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটে ফিলিপাইনে।১১ ফেব্রুয়ারি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা করোনাভাইরাস থেকে সৃষ্ট রোগের নামকরণ করে ‘কোভিড-১৯’। গত ১১ মার্চ করোনাকে বৈশ্বিক মহামারি ঘোষণা করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

বাংলাদেশ পরিস্থিতি

দেশে গতকাল বুধবার পর্যন্ত মোট ৬ হাজার ৭১৩ জনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। মোট রোগী শনাক্তের সংখ্যা ৪ লাখ ৬৯ হাজার ৪২৩।

গতকাল পর্যন্ত মোট শনাক্তের সংখ্যা বিবেচনায় দেশে করোনায় মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৪৩ শতাংশ।

বাংলাদেশে গত ৮ মার্চ প্রথম সংক্রমণ শনাক্তের কথা জানায় সরকার। এর ১০ দিনের মাথায় ১৮ মার্চ প্রথম মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করা হয়।

শুরুর দিকে দেশে করোনায় মৃত্যু ছিল অনিয়মিত। কিন্তু ৪ এপ্রিল থেকে গতকাল পর্যন্ত প্রতিদিন করোনায় মানুষের মৃত্যু হয়েছে। প্রথম দফায় জুন-জুলাই মাসে করোনায় মৃত্যু বেড়েছিল। আগস্টে তা কিছুটা কমে আসে। সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বরের মাঝামাঝি পর্যন্ত দৈনিক মৃত্যু তুলনামূলক কম ছিল। কিন্তু নভেম্বরের মাঝামাঝি থেকে দৈনিক মৃত্যু আবার বেড়েছে।

মাঝখানে সংক্রমণ কিছুটা কমে এসেছিল। দেশে শীত শুরু হওয়ার সঙ্গে করোনার সংক্রমণ বাড়ার প্রবণতা দেখা দিয়েছে।

বার্তা কক্ষ,৩ ডিসেম্বর ২০২০

ফাইজারের করোনা ভ্যাকসিনের অনুমোদন দিলো যুক্তরাজ্য

ফাইজার ও বায়োএনটেক উদ্ভাবিত করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিনটিকে প্রথম ইউরোপীয় দেশ হিসেবে অনুমোদন দিয়েছে যুক্তরাজ্য। দেশটিতে করোনা সংক্রমণের ‘সর্বোচ্চ ঝুঁকিতে’ থাকা ব্যক্তিদেরকে আগামী সপ্তাহ থেকে এই ভ্যাকসিন দেয়া হবে। খবর- গার্ডিয়ান

করোনাভাইরাসের তান্ডবে লন্ডভন্ড পুরো বিশ্ব। প্রতিদিনই বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা। এখন পর্যন্ত করোনার কোনো কার্যকরী ভ্যাকসিন বাজারে না এলেও এ নিয়ে নানা তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে বিশ্ব। এসবের মাঝেই এলো আরেক সুসংবাদ। পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে প্রথম করোনা ভ্যাকসিনের অনুমোদন দিয়েছে যুক্তরাজ্য।

জার্মানির বায়োএনটেক ও যুক্তরাষ্ট্রের ফাইজারের যৌথ উন্নয়ন করা ভ্যাকসিন অনুমোদন পাওয়ার মধ্যেই সরবরাহ শুরু হয়েছে। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগামী ৭ ডিসেম্বর থেকে ভ্যাকসিন দেওয়া শুরু হতে পারে। যুক্তরাজ্য এরই মধ্যে চার কোটি ভ্যাকসিন সরবরাহের আদেশ দিয়েছে। প্রসঙ্গত, ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) জন্য ইউরোপিয়ান মেডিসিনস এজেন্সি ভ্যাকসিনের অনুমোদন দিয়ে থাকে। ইইউ থেকে যুক্তরাজ্যের পুরোপুরি বের হয়ে যাওয়ার কার্যক্রম শেষ হবে ৩১ ডিসেম্বর। তাই জরুরি প্রয়োজনে সাময়িক অনুমোদনের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে যুক্তরাজ্যেও মেডিসিনস অ্যান্ড হেলথকেয়ার প্রোডাক্টস রেগুলেটরি এজেন্সিকে।

গত শুক্রবার ব্রিটিশ সরকার অক্সফোর্ড ও আস্ট্রাজেনেকার উন্নয়ন করার ভ্যাকসিন পর্যালোচনার জন্য নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে চিঠি দিয়েছে। ভ্যাকসিন পাওয়ার পরপর এর দ্রুত বিতরণ ও সমন্বিত ব্যবস্থাপনার জন্য নাদিম জাহাউইকে টিকামন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। নাদিম করোনার ভ্যাকসিনের উন্নয়ন ও বিতরণসহ ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকবেন। আগামী গ্রীষ্ম পর্যন্ত তিনি এ দায়িত্ব পালন করবেন।

এদিকে ব্রিটেনের হাসপাতালগুলোকে জানানো হয়েছে, ৭ থেকে ৯ ডিসেম্বরের মধ্যে ফাইজার/বায়োএনটেকের প্রতিষেধক পৌঁছতে পারে তাদের কাছে। হাসপাতালে পৌঁছানোর পাঁচ দিনের মধ্যে ভ্যাকসিন ব্যবহার করতে হবে। এই ভ্যাকসিন মাইনাস ৭৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে সংরক্ষণ করতে হয়। ফলে পথে যাতে ভ্যাকসিন নষ্ট না হয়, নজর থাকবে সেদিকেও

বার্তাকক্ষ, ০২ ডিসেম্বর,২০২০;

 করোনা শনাক্ত ৬ কোটি  ৪২ লাখ ছাড়াল

বিশ্বে কোভিড-১৯ মহামারী কিছুতেই নিয়ন্ত্রণে আসছে না। রোজ হাজার হাজার মানুষ আক্রান্ত হচ্ছেন। মৃত্যুর মিছিল দীর্ঘ হচ্ছে। এরই মধ্যে করোনা রোগীর সংখ্যা ৬ কোটি ৪২ লাখ ১৪ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। আর মৃত্যু ছাড়িয়েছে ১৪ লাখ ৮৭ হাজার।

বিশ্বের করোনায় আক্রান্ত ও মৃত্যুর পরিসংখ্যান রাখা আন্তর্জাতিক ওয়েবসাইটের তথ্যমতে, আজ বুধবার বাংলাদেশ সময় বেলা ২ টা পর্যন্ত করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ৬ কোটি ৪২ লাখ ১৪ হাজার ৪৪৯ জন। আর মৃত্যু হয়েছে ১৪ লাখ ৮৭ হাজার ১১২ জন। আর সুস্থ হয়ে উঠেছেন ৪ কোটি ৪৪ লাখ ৬২ হাজার ৭১৫ জন।

বিশ্বে করোনায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশ যুক্তরাষ্ট্র। দেশটিতে করোনায় সংক্রমিত শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ১ কোটি ৪১ লাখ ৮ হাজার ৬০৬ । দেশটিতে করোনায় মারা গেছেন ২ লাখ ৭৬ হাজার ৯৭৯ জন।

আক্রান্তের তালিকায় ভারতের অবস্থান দ্বিতীয়। ভারতে করোনায় সংক্রমিত শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ৯৪ লাখ ৯৯ হাজার ৭১০ । দেশটিতে করোনায় মারা গেছেন ১ লাখ ৩৮ হাজার ১৫৯ জন।

ব্রাজিল আছে তৃতীয় অবস্থানে। ব্রাজিলে করোনায় সংক্রমিত শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ৬৩ লাখ ৮৮ হাজার ৫২৬ । দেশটিতে করোনায় মারা গেছেন ১ লাখ ৭৩ হাজার ৮৬২ জন।

আন্তর্জাতিক ডেস্ক , ২ ডিসেম্বর ২০২০
এজি

স্পেনে করোনায় কুমিল্লার প্রবাসী মৃত্যু

স্পেনে বৈশ্বিক মহামারী করোনাভাইরাস কেড়ে নিল কুমিল্লার প্রবাসী প্রাণ। মৃত ব্যক্তির নাম দীপক বড়ুয়া (৫০)।

স্থানীয় সময় সোমবার বার্সেলোনার ডেল মার হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন তিনি। এ নিয়ে স্পেনে করোনায় আক্রান্ত হয়ে সাত বাংলাদেশি মৃত্যুবরণ করেছেন।

জানা যায়, দীপক বড়ুয়া দীর্ঘদিন ধরে স্পেনের বার্সেলোনায় বসবাস করছিলেন। গত ৫ নভেম্বর করোনার সংক্রমণ নিয়ে স্থানীয় ডেল মার হাসপাতালে ভর্তি হোন। দীর্ঘ ২৫ দিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় সোমবার মৃত্যুবরণ করেন তিনি।

দীপক বড়ুয়ার গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার বরুড়া থানায়। তিনি স্পেনের বার্সেলোনায় একা বাস করতেন। তিনি ১৬ বছরের এক কন্যাসন্তানের জনক। গত ছয় মাস আগে তার স্ত্রী বাংলাদেশে মৃত্যুবরণ করেন।

প্রসঙ্গত প্রাণঘাতী করোনায় স্পেনে গত ২৬ মার্চ হোসাইন মোহাম্মদ আবুল (৬৭), ৫ এপ্রিল জাকির হক ওরফে আনোয়ার হোসেন (৬৭), ৬ এপ্রিল আব্দুস শহীদ (৫৭), ২৩ মে সৈয়দা জামিলা খাতুন (৭৩), ২৪ আগস্ট হারুন উর রশিদ (৫৭), ৪ অক্টোবর মো. মাসুক আহমদ (৬০) ও সর্বশেষ দীপক বড়ুয়া (৫০) মারা যান।

বার্তা কক্ষ,২ ডিসেম্বর ২০২০

ওমানে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে ৩ প্রবাসীর মৃত্যু

ওমানে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে নোয়াখালীর সুবর্ণচরের দুই ভাইসহ একই উপজেলার ৩ প্রবাসীর মৃত্যু হয়েছে।

১ ডিসেম্বর মঙ্গলবার সকালের দিকে দেশটির আলওয়াফি নামক এলাকায় কূপে কাজ করতে গিয়ে তাদের মৃত্যু হয়।

নিহতরা হলেন- উপজেলার চর আমানুল্লাহ ইউনিয়নের সাতাইশ দ্রোন গ্রামের দরবেশের বাজারের পশ্চিম পাশে জরুর বাপের বাড়ির মোস্তফা ও নাসির (আপন দুইভাই) এবং ৭নং পূর্ব চরবাটা ইউনিয়ন আনছার মিয়ার হাটের পূর্বপাশের আলমগীর।

ওমান প্রবাসী নিহতের বড় ভাই মো. ইব্রাহীম এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ১৫ বছর আগে ওমানে পাড়ি জমান তারা। দেশটির আলওয়াফাতে একটি কোম্পানিতে ইলেকট্রিকের কাজ করতেন তারা। এই বছরের মার্চের প্রথম সপ্তাহে পরিবারের সুখের আশায় দেশটিতে যান তারা।

এদিকে মর্মান্তিক মৃত্যুর খবরে স্বজন ও এলাকাবাসীর মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

বার্তা কক্ষ ২ ডিসেম্বর ২০২০

ঝুঁকি বাড়াচ্ছে আকাশপথ

ইউরোপ-আমেরিকায় শুরু হয়েছে করোনা মহামারির দ্বিতীয় ঢেউ। এই ঢেউ যাতে বাংলাদেশে আছড়ে পড়তে না পারে, সে ব্যাপারে সতর্কতামূলক কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার। এর অংশ হিসেবে আকাশপথে আগত যাত্রীদের জন্য করোনার নেগেটিভ সনদ বাধ্যতামূলক করার কথা বলা হয়েছে সরকারের শীর্ষপর্যায় থেকে। তবে প্রায় প্রতিদিনই বিভিন্ন এয়ারলাইনসের ফ্লাইটে সনদ ছাড়াই যাত্রী দেশে আসছে।

এ অবস্থায় দেশের করোনা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। উদ্বেগ জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরও। সনদ ছাড়া যাতে বিমান সংস্থাগুলো যাত্রী পরিবহন না করে সে বিষয়ে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষকে (বেবিচক) অনুরোধ জানিয়েছে তারা।

তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, সরকারের শীর্ষপর্যায় থেকে করোনার সনদ বাধ্যতামূলক করার কথা বলা হলেও এসংক্রান্ত নির্দেশনা জারি হয়নি। ফলে আগের নির্দেশনা মেনে বাংলাদেশিদের সনদ ছাড়াই পরিবহন করছে বিমান সংস্থাগুলো।

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের হেলথ ডেস্ক সূত্র জানায়, শুধু নভেম্বরেই চার হাজার ১০৭ জন যাত্রীকে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে পাঠানো হয়েছে। গত শনিবার ২৮ নভেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন বিমান সংস্থায় আসা যেসব যাত্রীর করোনার সনদ ছিল না, তাদের আশকোনায় হজ ক্যাম্প ও দিয়াবাড়িতে স্থাপিত কোয়ারেন্টিন সেন্টারে পাঠানো হয়েছে। দেশে করোনাভাইরাসের আবির্ভাবের পর থেকে এ পর্যন্ত ১৮ হাজার ৫৮১ জনকে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।

করোনামুক্ত সনদ ছাড়া যাত্রীদের যাতে কোনো বিমান কর্তৃপক্ষ পরিবহন না করে, সে বিষয়ে বেবিচককে বারবার বলা সত্ত্বেও তারা কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার পরিচালক অধ্যাপক ডা. শাহনীলা ফেরদৌসী। ‘কভিড-১৯ এবং স্বাস্থ্যবিষয়ক হালনাগাদ তথ্য অবহিতকরণ সভায়’ তিনি এ অভিযোগ করেন।

ডা. শাহনীলা বলেন, ‘করোনামুক্ত সনদ ছাড়া বিদেশ থেকে যাঁরা আসছেন, সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে তাঁদের দিয়াবাড়িতে কোয়ারেন্টিন করা হয়। তবে আগামীতে যাত্রীর সংখ্যা এতই বেশি হবে যে তাঁদের প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত করা একটি চ্যালেঞ্জ। এ ক্ষেত্রে এসব যাত্রীকে আন্তর্জাতিক প্রবশপথে করোনা পরীক্ষা করাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’

করোনামুক্তির সনদ না নিয়ে আসা যাত্রী বাড়ছে উল্লেখ করে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কর্মরত স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক ডা. শাহরিয়ার সাজ্জাদ গতকাল রবিবার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘করোনামুক্তির সনদ বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্ত আমরা বাস্তবায়ন করছি। যারা সনদ ছাড়া আসছে, তাদের আমরা প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে পাঠাচ্ছি। ইতিমধ্যে কোয়ারেন্টিন সেন্টারের সিট পূর্ণ হয়ে গেছে। খালি না হলে কাউকে রাখা যাবে না।’

সনদ নিয়ে এলে যাত্রীদের প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে পাঠানোর দরকার পড়ত না মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে পরিস্থিতি জানানো হয়েছে। নতুন করে এখন আদেশ দেওয়া হয়েছে, কোয়ারেন্টিন সেন্টারে এখন নমুনা সংগ্রহের বুথ ও ল্যাব স্থাপন করা হবে। ওখানেই করোনা পরীক্ষা করে যদি রিপোর্ট নেগেটিভ হয়, বাসায় হোম কোয়ারেন্টিনে চলে যাবে। আর পরিজিভ হলে হাসপাতালে পাঠানো হবে।’

বুথ ও ল্যাব স্থাপন হওয়ার আগ পর্যন্ত যেসব যাত্রী আসবে তাদের জন্য কী ব্যবস্থা করা হবে জানতে চাইলে ডা. শাহরিয়ার বলেন, ‘কাজ শুরু হয়েছে, সপ্তাহখানেকের মধ্যে হয়ে যাবে বলে আশা করছি। কোয়ারেন্টিন সেন্টার থেকে মেয়াদ শেষ করে কেউ কেউ বেরও হয়ে যাচ্ছে। খালি হলে সেখানে পাঠানো হবে।’

করোনা সনদ ছাড়া কেন যাত্রী পরিবহন করা হচ্ছে জানতে চাইলে টার্কিশ এয়ারলাইনস বাংলাদেশের সেলস অ্যান্ড ট্রাফিক এজেন্ট এজাজ কাদরি গতকাল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এখন পর্যন্ত বিদেশি নাগরিকদের জন্য করোনামুক্তির সনদ বাধ্যতামূলক। বাংলাদেশি কেউ সনদ নিয়ে না এলে তাদের বহন করা যাবে না, এমন কোনো নির্দেশনা নেই।’

তবে তাঁরা সনদ ছাড়া না আসতে উৎসাহিত করেন দাবি করে তিনি বলেন, ‘কেউ সনদ ছাড়া এলে সেটা বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ প্রয়োজন অনুসারে ব্যবস্থা নিচ্ছে।’

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ এইচ এম তৌহিদ উল আহসান বলেন, ‘কভিড-১৯ নেগেটিভ সনদ ছাড়া বাংলাদেশি নাগরিকদের দেশে আসায় বাধা নেই। যদি কেউ আসে তাকে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে পাঠাতে হবে—এখন পর্যন্ত এটাই নির্দেশনা।’ সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

করোনা সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবেলায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও করণীয় নিয়ে গত ১২ অক্টোবর বেবিচক ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের এক নির্দেশনায় বলা হয়, ‘বিদেশ থেকে বাংলাদেশে আগমনকারী সব যাত্রীর করোনা নেগেটিভ সনদ যাচাই করতে হবে। প্রয়োজন অনুসারে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনের ব্যবস্থা নিতে হবে।’ ওই চিঠিতে আরো বলা হয়, গত ২২ সেপ্টেম্বর মন্ত্রিপরিষদসচিবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভার সিদ্ধান্তের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বেবিচকসহ বিভিন্ন সরকারি সংস্থাকে বলা হয়েছে।

বার্তাকক্ষ,৩০ নভেম্বর,২০২০;

করোনা শনাক্ত ৬ কোটি ৩০ লাখ ছাড়াল

বিশ্বে কোভিড-১৯ মহামারী কিছুতেই নিয়ন্ত্রণে আসছে না। রোজ হাজার হাজার মানুষ আক্রান্ত হচ্ছেন। মৃত্যুর মিছিল দীর্ঘ হচ্ছে। এরই মধ্যে করোনা রোগীর সংখ্যা ৬ কোটি ৩০ লাখ ছাড়িয়ে গেছে। আর মৃত্যু ছাড়িয়েছে ১৪ লাখ ৬৫ হাজার।

বিশ্বের করোনায় আক্রান্ত ও মৃত্যুর পরিসংখ্যান রাখা আন্তর্জাতিক ওয়েবসাইটের তথ্যমতে, সোমবার সকাল ১০টা পর্যন্ত করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ৬ কোটি ৩০ লাখ ৭২ হাজার ৪৭৫ জন। আর মৃত্যু হয়েছে ১৪ লাখ ৬৫ হাজার ১৮১ জন। আর সুস্থ হয়ে উঠেছেন ৪ কোটি ৩৫ লাখ ৪৫ হাজার ৮২৯ জন।

আর জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বশেষ তথ্য বলছে, সোমবার পর্যন্ত বিশ্বে করোনায় সংক্রমিত শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ৬ কোটি ৩০ লাখ ৫১ হাজার ৯০৬। একই সময়ে বিশ্বে করোনায় মোট মারা গেছেন ১৪ লাখ ৬৪ হাজার ৭৫৭ জন। করোনা থেকে সেরে ওঠা মানুষের সংখ্যা ৪ কোটি ৩৫ লাখ ৩০ হাজার ৮৬৭ জন।

বিশ্বে করোনায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশ যুক্তরাষ্ট্র। দেশটিতে করোনায় সংক্রমিত শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ১ কোটি ৩৭ লাখ ৪৬ হাজার ৪৮৪। দেশটিতে করোনায় মারা গেছেন ২ লাখ ৭৩ হাজার ৬৫ জন।

আক্রান্তের তালিকায় ভারতের অবস্থান দ্বিতীয়। ভারতে করোনায় সংক্রমিত শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ৯৪ লাখ ৩২ হাজার ৩৯। দেশটিতে করোনায় মারা গেছেন ১ লাখ ৩৭ হাজার ১৭৭ জন।

ব্রাজিল আছে তৃতীয় অবস্থানে। ব্রাজিলে করোনায় সংক্রমিত শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ৬৩ লাখ ১৪ হাজার ৭৪০। দেশটিতে করোনায় মারা গেছেন ১ লাখ ৭২ হাজার ৮৩৩ জন।

করোনার উৎপত্তি চীনের উহানে। গত ১১ মার্চ এটিকে বৈশ্বিক মহামারী হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এটি ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্বের ২১৩ দেশ ও অঞ্চলে।

বার্তা কক্ষ,৩০ নভেম্বর ২০২০

‘বিশ্বকে বিবর্ণ ভবিষ্যতের দিকে নিতে চায় চীন’

ভারতীয় সংবাদপত্র সানডে গার্ডিয়ান লাইভে ‘China set for a dark, turbulent, ostracized and bleak future’ শিরোনামের একটি নিবন্ধ লিখেছেন অভিনব পান্ডিয়া (Abhinav Pandya)। তিনি ভারত ভিত্তিক ভূ-রাজনৈতিক এবং নিরাপত্তা বিষয়টি থিং ট্যাংক ওসানাস ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী। ‘রেডিক্যালাইজেশন ইন ইন্ডিয়া: এন এক্সপ্লোরেশন’ শিরোনামে একটি বইও তিনি লিখেছেন। অভিনব পান্ডিয়ার লেখা ‘China set for a dark, turbulent, ostracized and bleak future’ গত ২৮ নভেম্বর প্রকাশিত হয়েছে। এতে তিনি বিশ্বে চীনের মোড়ল হিসেবে আবির্ভূত হওয়ার বিষয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

অভিনব পান্ডিয়া লিখেছেন, বেইজিংয়ের নেকড়ে যোদ্ধা কূটনীতির (wolf-warrior diplomacy) বৈশিষ্ট্য হলো করোনাভাইরাস মহামারীর উৎসে এ ভূমিকা নিয়ে প্রশ্নকারীদের ওপর বলপ্রয়োগ এবং হুমকি প্রদান। দক্ষিণ চীন সাগরে চীনের আগ্রাসন, লাদাখ সীমান্তে আগ্রাসন ও হংকংয়ের বিষয়ে চীনের নীতির তীব্র সমালোচনাও করেছেন তিনি।

তিনি লিখেছেন, চীন বিশ্ব ব্যবস্থা, বিশ্ব মানচিত্রকে পাল্টে দিতে চায়। মধ্যযুগীর গৌরব দাবি করতে গিয়ে বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানকে অকার্যকর করে দিতে চায়। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যপদ থেকে চীনকে বহিষ্কারের পক্ষেও যুক্তি তুলে ধরেছেন তিনি।
গত নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জো বাইডেনের জয় এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের হারে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন অভিনব পান্ডিয়া। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘ মেয়াদি কৌশলগত পরিকল্পনার অভাব, অগ্রাধিকারের বিষয় নির্বাচনে ভুল এবং নিরর্থক বিনিয়োগের কারণে বিশ্ব রাজনীতিতে পিছিয়ে পড়েছে। বাইডেনের নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্র তার চেনা রূপে ফিরবে বলেও অভিনব পান্ডিয়ার প্রত্যাশা।

বার্তাকক্ষ,২৯ নভেম্বর,২০২০;

রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় ওআইসি দেশগুলোর সহায়তা চেয়েছে বাংলাদেশ

রোহিঙ্গাদের তাদের নিজ দেশ মিয়ানমারে মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন না হওয়া পর্যন্ত অরগানাইজেশন অব ইসলামিক কো-অপারেশনের (ওআইসি) সদস্য দেশগুলোর প্রতি রাজনৈতিক ও মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ। এ ছাড়া ফিলিস্তিনসহ মুসলিম উম্মাহর বিভিন্ন বিষয়ে আরও সুসংহত পদক্ষেপের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

নাইজারের রাজধানী নিয়ামিতে ওআইসির দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলনে সৌদি আরবে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ও ওআইসির স্থায়ী প্রতিনিধি ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী বাংলাদেশের হয়ে এ আহ্বান জানান। গতকাল রোববার সৌদি আরবের রিয়াদে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

ওআইসির পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের ৪৭তম কাউন্সিলের উদ্বোধন করেন নাইজারের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ ইসউফউ। ‘শান্তি ও উন্নয়নের জন্য সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে একতাবদ্ধ হওয়া’ প্রতিপাদ্যে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন ও পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ায় এ সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী। এ ছাড়া সম্মেলনে আরো যোগ দিয়েছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক ওয়াহিদা আহমেদ ও রিয়াদ দূতাবাসের মিশন উপপ্রধান এস এম আনিসুল হক।

সম্মেলনে মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী ‘ইসলামোফোবিয়ার’ বিষয়টি সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্টদের কার্যকরভাবে জড়িত হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি ওআইসির সদস্য দেশগুলোর জন্য করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিনের প্রাপ্যতা, অর্থনীতি পুনর্নির্মাণের জন্য সদস্য দেশগুলোর আন্তঃবাণিজ্য বৃদ্ধি এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সদস্য দেশগুলোর জন্য মানবিক সহায়তার ওপর জোর দেন।

ওআইসির মহাসচিব ড. ইউসুফ আল ওথাইমিন উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দেওয়া তার ভাষণে বলেন, ‘মত প্রকাশের স্বাধীনতা মানে কোনো ধর্মীয় প্রতীককে অপমান করা নয়। আমরা ইসলাম বিরোধী বক্তব্যের নিন্দা জানাই।’

তিনি বলেন, ‘সন্ত্রাসবাদ প্রত্যাখ্যাত হয়েছে এবং এর যে কোনো ন্যায্যতাও অগ্রহণযোগ্য। সন্ত্রাসবাদ এ অঞ্চল ও বিশ্বব্যাপী এক অন্যতম বিপজ্জনক হুমকি। সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় শান্তি ও উন্নয়নের জন্য মুসলিম দেশগুলোকে একতাবদ্ধ হতে হবে।’
বার্তাকক্ষ,২৯ নভেম্বর,২০২০;

করোনা ভ্যাকসিনের যেসব পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে

মহামারি করোনাভাইরাস প্রতিরোধে বিশ্বের কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ভ্যাকসিন তৈরির ক্ষেত্রে বেশ সাফল্য দেখিয়েছে। সেগুলোর ট্রায়াল পরিচালনার পর ফলাফল নিয়ে গবেষণা হয়েছে। সে ক্ষেত্রে শতভাগ সফল না হলেও ৯৫ শতাংশ পর্যন্ত কার্যকর হয়েছে। এসব ভ্যাকসিন বিশ্বকে আশা জাগলেও হতাশারও কারণ রয়েছে। আর তা হলো ভ্যাকসিন গুলোর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া।

আমেরিকান অ্যাসোসিয়েশন ফর অ্যাডভান্সমেন্ট অব সায়েন্স’র (এএএএস) সাময়িকীতে এ ব্যাপারে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। গত শুক্রবারের (২৭ নভেম্বর) ওই প্রতিবেদনে ভ্যাকসিন নিয়ে হতাশার কারণগুলো উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বলা হয়, ‘ভ্যাকসিনগুলোর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ব্যাপারে জনগণকে প্রস্তুতি নিতে হবে।’

এএএএস’র প্রতিবেদনে বলা হয়, করোনাভাইরাস প্রতিরোধে মডার্নার আবিষ্কৃত ভ্যাকসিনের যে ট্রায়াল পরিচালনা করা হয় সেখানে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে ভ্যাকসিন নেন কম্পিউটেশনাল বায়োলোজিস্ট লুক হাচিসন।

তিনি বলেন, ‘যখন করোনা টিকার দ্বিতীয় ইনজেকশন নেই তখন আমার বাহু ফুলে গিয়েছিল। ফোলা স্থান এমন আকার ধারণ করে, মনে হচ্ছিলো একটি হাসের ডিম।‘

৪৩ বছর বয়সী সুস্থ লুক হাচিসন ভ্যাকসিন নাকি প্লাসবো নিয়েছিলেন তা নিশ্চিত করেননি। তিনি বলেন, ‘ইনজেকশন নেওয়ার কয়েক ঘণ্টা পরে আমার হাঁড় ও মাংসপেশীতে প্রচণ্ড ব্যথা হয়েছিল। ৩৮ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত জ্বর উঠলো। আমি কাঁপতে লাগছিলাম। কখনো ঠাণ্ডা আবার কখনো হঠাৎ করেই গরম লাগছিলো। সারারাত ফোনের কাছে বসে ছিলাম। আমি বুঝতে পারছিলাম জরুরি সহায়তা নম্বর ৯১১ তে কল করবো কি না।’

লুক হাচিসনের এই লক্ষণগুলো ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত ছিলো। তিনি বলেন, ‘ভ্যাকসিনের পাশ্বপ্রতিক্রিয়া সম্পর্কে আমাকে পূর্বে কেউ ধারণা দেয়নি। আর জনগণকে আরও সতর্ক হয়ে পূর্ব প্রস্তুতি নিতে হবে।’

আমেরিকান ওই সাময়িকীতে বলা হয়, ‘ওয়াশিংটনের সিয়াটল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভ্যাকসিনোলজিস্ট দেবোরা ফুলারের ল্যাবে কোভিড-১৯ প্রতিরোধে দ্বিতীয় প্রজন্মের আরএনএ ভ্যাকসিন তৈরি করা হচ্ছে। তাকে জিজ্ঞেস করা হয়, ভ্যাকসিনের এ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া যদিও দীর্ঘমেয়াদী না কিন্তু জনগণ যখন ভ্যাকসিন নেওয়া শুরু করবে তখন তাদের উপলব্ধি কী হবে? উত্তরে দেবোরা ফুলারও একটি অনিশ্চয়তা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কারণে জনগণ ভ্যাকসিন নিতে দ্বিধা-দ্বন্দ্বে পড়তে পারেন।

করোনা ভ্যাকসিনগুলো নিয়ে সুখবর দেওয়ার এক সপ্তাহ পরেই এ উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন এর প্রতিবেদনে বলা হয়, সব মিলিয়ে গড়ে ৭০ শতাংশ কার্যকর অ্যাস্ট্রাজেনেকার ভ্যাকসিন। অ্যাস্ট্রাজেনেকা ভ্যাকসিনের যে সফলতার কথা বলা হয়েছে ওই একই সময়ের মধ্যে ফাইজার এবং মডার্নার ভ্যাকসিন ৯৫ শতাংশ পর্যন্ত কার্যকর।

মডার্নার ভ্যাকসিন এমআরএনএ ভিত্তিক। এমআরএনএ হলো সেলের সফটওয়্যারের মতো। প্রতিষ্ঠানটি তাদের ওয়েবসাইটে এ তথ্য জানিয়েছে। ফাইজার এবং বায়োএনটেকের ভ্যাকসিনের মতো এটি ‘স্পাইক প্রোটিন’ গঠনে সেলগুলোর জন্য কোড তৈরি করে। বিজ্ঞানিরা খুব সতকর্তার সঙ্গে ভাইরাসটির একটি ক্ষুদ্র অংশ বেছে নেন ভ্যাকসিন তৈরির ক্ষেত্রে।

তারা ভেবেছিলেন সময়ের পরিবর্তনে হয়তো তার খুব বেশি মিউটেশন কিংবা পরিবর্তন হবে না। কিন্তু দেখা গেছে ভাইরাসটি স্পাইক প্রোটিন ব্যবহার করে সেলগুলোর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে এবং প্রজন্মের পর প্রজন্ম তা সচল থাকে।

সারাবিশ্বে এসব ভ্যাকসিনের ছয়টি যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সমর্থন পাচ্ছে। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে আরও ডজনখানেক করোনার টিকা ডেভেলপ হচ্ছে। ফাইজার ও বায়োএনটেক, মডার্না, অ্যাস্ট্রাজেনেকার ভ্যাকসিনগুলো যে আশা নিয়ে আসছে তার পাশাপাশি এসব ভ্যাকসিন নিয়ে যাতে হতাশায় পড়তে না হয় সে বিষয়েই সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

বার্তাকক্ষ,২৯ নভেম্বর,২০২০;