Home / উপজেলা সংবাদ / কচুয়া / কচুয়া পশ্চিম বিতারা ইউনিয়নের নাম ৩নং শিলাস্থান মডেল ইউনিয়ন করার দাবি
বিতারা

কচুয়া পশ্চিম বিতারা ইউনিয়নের নাম ৩নং শিলাস্থান মডেল ইউনিয়ন করার দাবি

চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার বৃহত্তম ইউনিয়ন গুলোর অন্যতম ৩নং বিতারা ইউনিয়নকে দুই ভাগে বিভক্ত করার উদ্যোগের মধ্যেই নতুন করে আলোচনায় এসেছে পশ্চিম অংশের ইউনিয়নের নামকরণ। স্থানীয়দের একটি বড় অংশের দাবি, প্রস্তাবিত পশ্চিম বিতারা ইউনিয়নের নাম পরিবর্তন করে ৩নং শিলাস্থান মডেল ইউনিয়ন পরিষদ করা হোক। তাদের মতে, ঐতিহ্যবাহী শিলাস্থান গ্রামের ইতিহাস, এলাকার কৃতী ব্যক্তিত্ব এবং সাবেক সংসদ সদস্য আলফাজ উদ্দিন আহমেদের স্মৃতির প্রতি সম্মান,এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানকে সন্মান জানাতে এ নামকরণ সময়ের দাবি।
স্থানীয়দের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে বিতারা ইউনিয়নকে দুই ভাগে বিভক্ত করার দাবি জানিয়ে আসছেন ইউনিয়নবাসী।

ইউনিয়নের আয়তন, গ্রামসংখ্যা ও বিপুল ভোটারের কারণে প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা এবং সাধারণ মানুষের সেবা গ্রহণে সুবিধা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এ দাবি আরও জোরালো হয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় ইউনিয়ন বিভক্তির প্রস্তাবের পাশাপাশি এখন নামকরণের বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে। ২৯ গ্রাম নিয়ে গঠিত বিতারা ইউনিয়ন কচুয়া উপজেলার ১২টি ইউনিয়নের মধ্যে বিতারা ইউনিয়ন অন্যতম বৃহৎ একটি ইউনিয়ন।

জানা গেছে, ২৯টি গ্রাম নিয়ে গঠিত এ ইউনিয়নে মোট ভোটার ৩৮ হাজার ৩২৫ জন। পশিশ্চমে মতলব ও পূর্বে চান্দিনা উপজেলা ঘিরে বিশাল জনসংখ্যা ও বিস্তৃত এলাকাজুড়ে ইউনিয়নটির অবস্থানের কারণে দীর্ঘদিন ধরেই এটিকে দুটি পৃথক ইউনিয়নে বিভক্ত করার দাবি জানিয়ে আসছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এরই অংশ হিসেবে গত ৯ অক্টোবর কচুয়ার তেগুরিয়া ওবায়েদুল হক উচ্চ বিদ্যালয়ের মিলনায়তনে উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় বাসিন্দাদের অংশগ্রহণে একটি গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে ইউনিয়ন বিভক্তির বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়।

প্রস্তাব অনুযায়ী, পশ্চিম অংশের ১৯টি গ্রাম নিয়ে পশ্চিম বিতারা ইউনিয়ন এবং পূর্ব অংশের ১০টি গ্রাম নিয়ে ১৩নং পূর্ব বিতারা ইউনিয়ন গঠনের বিষয়টি সামনে আসে। এ ছাড়া এর আগে বিভিন্ন সময়ে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে ইউনিয়নকে দুই ভাগে বিভক্ত করার বিষয়ে আলোচনা ও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে প্রস্তাবিত ইউনিয়নগুলোর চূড়ান্ত নামকরণ ও প্রশাসনিক বিভক্তির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে বিবেচিত হবে। কেন শিলাস্থান ইউনিয়ন নামকরণের দাবি? পশ্চিম বিতারা ইউনিয়নের নাম ৩নং শিলাস্থান মডেল ইউনিয়ন পরিষদ করার দাবি জানিয়েছেন কচুয়া উপজেলা যুবদলের সহসভাপতি, শিলাস্থান গ্রামের বাসিন্দা ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মুন্সী সাখাওয়াত হোসেন আজাদ। তিনি বলেন, বিতারা ইউনিয়নের অন্তর্গত শিলাস্থান একটি ঐতিহ্যবাহী, আদর্শ ও পরিচিত গ্রাম। এ গ্রামের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে এলাকার ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং গুণী ব্যক্তিদের স্মৃতি। দীর্ঘদিন ধরে শিলাস্থান গ্রাম স্থানীয়ভাবে জিয়ানগর হিসেবেও পরিচিত বলে উল্লেখ করেন তিনি। মুন্সী সাখাওয়াত হোসেন আজাদের মতে, ইউনিয়ন বিভক্তির মাধ্যমে নতুন প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে ওঠার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এ সময় শুধু ভৌগোলিক অবস্থান বিবেচনা না করে এলাকার ঐতিহ্য ও ইতিহাসকেও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। সে বিবেচনায় পশ্চিম অংশের ইউনিয়নের নাম শিলাস্থান মডেল ইউনিয়ন পরিষদ রাখা হলে তা এলাকার মানুষের কাছে বিশেষ তাৎপর্য বহন করবে। সাবেক সংসদ সদস্য আলফাজ উদ্দিন এর স্মৃতি সংরক্ষণের প্রত্যাশা শিলাস্থান গ্রামের নামকরণের দাবির পেছনে অন্যতম যুক্তি হিসেবে উঠে এসেছে সাবেক সংসদ সদস্য আলফাজ উদ্দিন আহমেদের অবদান ও স্মৃতি।

মুন্সী সাখাওয়াত হোসেন আজাদ বলেন, শিলাস্থান গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন সর্বজন শ্রদ্ধেয় সাবেক সংসদ সদস্য আলফাজ উদ্দিন আহমেদ। তিনি ১৯৭৯ সালে তৎকালীন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তাঁর দাবি অনুযায়ী, তিনি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরাসরি শিক্ষকও ছিলেন। এমন একজন সম্মানিত ব্যক্তিত্বের জন্মস্থান হিসেবে শিলাস্থান গ্রামের পরিচিতি ও ঐতিহ্যকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে তুলে ধরার সুযোগ রয়েছে। পশ্চিম বিতারা ইউনিয়নের নাম পরিবর্তন করে শিলাস্থান মডেল ইউনিয়ন পরিষদ রাখা হলে একদিকে যেমন ঐতিহ্যবাহী গ্রামটির পরিচিতি বাড়বে, অন্যদিকে সাবেক সংসদ সদস্য আলফাজ উদ্দিন আহমেদের স্মৃতির প্রতিও সম্মান প্রদর্শন করা হবে।এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের বিশেষ দৃষ্টি আকর্ষণ করা যাবে। এলাকার ব্যাপক উন্নয়ন সাধিত হবে।

তিনি মনে করেন, ইউনিয়নের নামকরণ কেবল প্রশাসনিক পরিচয়ের বিষয় নয়, এর সঙ্গে এলাকার ইতিহাস, সামাজিক পরিচিতি ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে ঐতিহ্য তুলে ধরার বিষয়টিও জড়িত। তাই ইউনিয়ন বিভক্তির প্রক্রিয়ায় নামকরণের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করার আহ্বান জানান তিনি। প্রশাসনিক সুবিধার পাশাপাশি ঐতিহ্য সংরক্ষণের প্রত্যাশা স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা, বিতারা ইউনিয়ন বিভক্ত হলে প্রশাসনিক সেবা জনগণের আরও কাছাকাছি পৌঁছাবে। ইউনিয়নের বিস্তৃত এলাকা ও বিপুল ভোটারের কারণে জন্মনিবন্ধন, নাগরিক সনদ, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, স্থানীয় উন্নয়নসহ বিভিন্ন সেবা কার্যক্রমে মানুষের ভোগান্তি কমানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে ইউনিয়ন বিভক্তির উদ্যোগের পাশাপাশি নতুন ইউনিয়নের নাম কী হবে, তা নিয়েও স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

তাদের মতে, নামকরণের ক্ষেত্রে এলাকার ঐতিহাসিক গুরুত্ব, জনমত, প্রশাসনিক বিধিবিধান এবং স্থানীয় জনগণের প্রত্যাশার সমন্বয় থাকা জরুরি। এ ক্ষেত্রে ৩ নং শিলাস্থান মডেল ইউনিয়ন পরিষদ নামকরণের দাবি বাস্তবায়িত হলে তা শিলাস্থান গ্রামের ঐতিহ্যকে আরও পরিচিত করে তুলতে পারে-এমন প্রত্যাশা করছেন দাবির সমর্থকেরা। সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় স্থানীয়রা বিতারা ইউনিয়নকে দুই ভাগে বিভক্ত করার প্রস্তাব এবং পশ্চিম অংশের নাম শিলাস্থান মডেল ইউনিয়ন পরিষদ করার দাবি-দুটি বিষয়ই এখন স্থানীয় আলোচনার অংশ।

একদিকে প্রশাসনিক সুবিধা নিশ্চিত করার প্রত্যাশা, অন্যদিকে ঐতিহ্যবাহী গ্রামের নামে নতুন ইউনিয়নের পরিচিতি প্রতিষ্ঠার আকাক্ষা রয়েছে এলাকাবাসীর মধ্যে। এখন দেখার বিষয়, ইউনিয়ন বিভক্তির চূড়ান্ত প্রক্রিয়ায় স্থানীয়দের এ নামকরণের দাবি কতটা গুরুত্ব পায় এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, প্রশাসনিক বাস্তবতা ও জনমতের সমন্বয়ে এমন একটি সিদ্ধান্ত আসবে, যা কচুয়ার পশ্চিম বিতারা অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণের পাশাপাশি এলাকার ইতিহাস ও ঐতিহ্য সংরক্ষণেও ভূমিকা রাখবে।

কচুয়া প্রতিনিধি/
১৮ অক্টোবর ২০২৬