Home / চাঁদপুর / চাঁদপুরে মা ইলিশ সংরক্ষণে মৎস্যজীবী দলের নৌ-র‍্যালি
elish

চাঁদপুরে মা ইলিশ সংরক্ষণে মৎস্যজীবী দলের নৌ-র‍্যালি

“সবাই মিলে শপথ করি, মা ইলিশ ধরা বন্ধ করি”—এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান-২০২৬ উপলক্ষে চাঁদপুরে নৌ-র‍্যালি ও সচেতনতামূলক মাইকিং করেছে জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দল চাঁদপুর জেলা, উপজেলা ও পৌরসভা শাখা।

বৃহস্পতিবার ৮ অক্টোবর সকাল ১১টায় চাঁদপুর বড় স্টেশন মোলহেড থেকে এ নৌ-র‍্যালি শুরু হয়। র‍্যালিটি নদীপথে চাঁদপুরের নদীর তীরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ স্থান,জেলে পল্লী,মাছ ঘাট, মৎস্য আড়ত ও বাজার এলাকায় গিয়ে জেলেদের মা ইলিশ সংরক্ষণে সচেতন করে।

এ সময় নৌযান থেকে মাইকিং করে জেলেদের ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা চলাকালে ইলিশ আহরণ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে সরকারি নির্দেশনা মেনে চলার জন্য জেলেদের প্রতি আহ্বান জানান আয়োজকরা।

নৌ-র‌্যালিতে উপস্থিত ছিলেন চাঁদপুর জেলা মৎস্যজীবী দলের সভাপতি মোস্তফা কামাল,জেলা মৎস্যজীবী দলের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান, পৌর মৎস্যজীবী দলের সভাপতি আমিন হোসেন জিলানী এবং সদর উপজেলা মৎস্যজীবী দলের সাধারণ সম্পাদক কামাল হোসেনসহ সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

নেতৃবৃন্দরা বলেন,ইলিশ বাংলাদেশের জাতীয় সম্পদ। মা ইলিশ রক্ষা করা গেলে আগামী দিনে নদীতে ইলিশের উৎপাদন আরও বৃদ্ধি পাবে। তাই সাময়িক সময়ের জন্য জেলেদের কষ্ট হলেও দেশের বৃহত্তর স্বার্থে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা মেনে চলতে হবে।

তারা আরও বলেন,চাঁদপুরের নদী ও ইলিশের সঙ্গে এখানকার হাজার হাজার জেলে পরিবারের জীবন-জীবিকা জড়িত। নিষেধাজ্ঞার সময় জেলেদের যেন কোনোভাবেই নদীতে নামতে না হয়, সে বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি প্রশাসনের পক্ষ থেকে দেয়া সহায়তা যথাযথভাবে জেলেদের কাছে পৌঁছানো প্রয়োজন।

নেতৃবৃন্দ জানান,২২ দিনের নিষেধাজ্ঞার সময়ে জেলেদের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে চাল বরাদ্দ দেওয়া হলেও শুধু চালের পাশাপাশি নিত্যপ্রয়োজনীয় অন্যান্য সামগ্রী দেওয়ার বিষয়টি নিয়েও তারা জেলা প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলেছেন। এতে নিষেধাজ্ঞার সময়ে জেলে পরিবারগুলোর দৈনন্দিন কষ্ট কিছুটা কমবে বলে তারা মনে করেন।

সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী নিষেধাজ্ঞার সময়ে ইলিশ আহরণ,পরিবহন, মজুদ, বাজারজাতকরণ, ক্রয়-বিক্রয়সহ ইলিশ সংক্রান্ত নিষিদ্ধ কার্যক্রম থেকে সবাইকে বিরত থাকতে হবে।

আয়োজকরা বলেন,শুধু প্রশাসনের অভিযান দিয়ে মা ইলিশ রক্ষা সম্ভব নয়; এজন্য জেলে,মৎস্য ব্যবসায়ী,আড়তদার,স্থানীয় জনগণ ও সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে একযোগে কাজ করতে হবে। জেলেদের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করতেই তাদের এ নৌ-র‍্যালি ও মাইকিং কার্যক্রম।

তারা আরও জানান, মা ইলিশ সংরক্ষণে তাদের এ সচেতনতামূলক কার্যক্রম ২২ দিনই চলমান থাকবে। নদীতে কোনো জেলে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ ধরতে গেলে কিংবা নিষিদ্ধ জাল ও নৌকা ব্যবহার করতে দেখলে বিষয়টি প্রশাসনকে অবহিত করা হবে। প্রয়োজনে প্রশাসনের হাতে জেলে,নিষিদ্ধ জাল বা নৌকা তুলে দিয়ে সরকারি অভিযানকে সহযোগিতা করবেন তারা।

নেতৃবৃন্দ বলেন, চাঁদপুরের নদীতে মা ইলিশের অবাধ প্রজনন নিশ্চিত করা গেলে আগামী মৌসুমে জেলেদের জালে আরও বেশি ইলিশ ধরা পড়বে। এতে একদিকে দেশের ইলিশ সম্পদ সমৃদ্ধ হবে, অন্যদিকে দীর্ঘমেয়াদে জেলে পরিবারগুলোর আয়-রোজগারও বাড়বে। তারা চাঁদপুরের সব জেলে, মাছ ব্যবসায়ী,আড়তদার ও সাধারণ মানুষের প্রতি মা ইলিশ সংরক্ষণে সরকারের নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানান।

৮ অক্টোবর ২০২৬
এ জি