Home / চাঁদপুর / চাঁদপুরে প্রতারণার ঘটনায় ব্যবসায়ীকে হত্যা চেষ্টার অভিযোগ, গ্রেপ্তার ১
প্রতারণার
অভিযুক্ত মোহাম্মদ আলী

চাঁদপুরে প্রতারণার ঘটনায় ব্যবসায়ীকে হত্যা চেষ্টার অভিযোগ, গ্রেপ্তার ১

চাঁদপুর শহরের বকুলতলা এলাকায় জমিসহ বাড়ি বিক্রির সময় লাইনের গ্যাস সংযোগ রয়েছে-এমন তথ্য দিয়ে ক্রেতার কাছ থেকে অতিরিক্ত কয়েক লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘদিনেও বিষয়টির সমাধান না হওয়ায় বিক্রেতার কাছে এ বিষয়ে জানতে গেলে আবু বকর সিদ্দিক (৩৭) নামে এক ব্যবসায়ীকে দেশীয় ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বাড়ির ক্রেতা সালাউদ্দিন সরদার (৫০) ও তার ছোট ভাই গিয়াস উদ্দিন (৩৭) আহত হয়েছেন।

এ ঘটনায় চাঁদপুর সদর মডেল থানায় মামলা হয়েছে। মামলার পর মোহাম্মদ আলী প্রধানিয়া (৫০) নামে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

সোমবার (৫ অক্টোবর) বিকেলে আহত আবু বকর সিদ্দিক, বাড়ির ক্রেতা সালাউদ্দিন সরদার এবং চাঁদপুর সদর মডেল থানা পুলিশের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

পুলিশ জানায়, মামলার পর সোমবার দুপুরে সদর মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আওলাদ হোসেন শহরের বকুলতলা এলাকায় মোহাম্মদ আলীর নিজ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে তাকে গ্রেপ্তার করেন। পরে তাকে থানায় নেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন।

মামলার এজাহার ও আহতদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মোহাম্মদ আলী ও বাড়ির ক্রেতা সালাউদ্দিন সরদার মেঘনার পশ্চিম পাড়ে সদর উপজেলার রাজরাজেশ্বর এলাকার বাসিন্দা। মোহাম্মদ আলী বকুলতলা এলাকায় বসবাস করেন এবং সেখানে তার হার্ডওয়্যারের ব্যবসা রয়েছে। অন্যদিকে সালাউদ্দিন সরদার কোড়ালিয়া রোড এলাকায় বসবাস করেন।

পরিচয়ের সূত্র ধরে ২০১৫ সালের শেষ দিকে মোহাম্মদ আলীর কাছ থেকে জমিসহ একটি বাড়ি কেনেন সালাউদ্দিন। তাদের অভিযোগ, বাড়িটিতে লাইনের গ্যাস সংযোগ রয়েছে বলে জানিয়ে বাড়ির মূল্যের সঙ্গে অতিরিক্ত কয়েক লাখ টাকা নেওয়া হয়। তবে প্রায় দুই বছর পর সালাউদ্দিন জানতে পারেন, ওই গ্যাস সংযোগটি অবৈধ। এরপর বিষয়টি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। কয়েক দফা মৌখিকভাবে আলোচনা হলেও এর কোনো সমাধান হয়নি বলে দাবি করেন সালাউদ্দিন।

সর্বশেষ গত ৩ অক্টোবর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে গ্যাস সংযোগের বিষয়টি সমাধানের জন্য সালাউদ্দিন তার ছোট ভাই গিয়াস উদ্দিন এবং আত্মীয় আবু বকর সিদ্দিককে সঙ্গে নিয়ে বকুলতলায় মোহাম্মদ আলীর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে যান।

সালাউদ্দিনের দাবি, সেখানে তারা মোহাম্মদ আলীকে বলেন, গ্যাস সংযোগ থাকার কথা বলে তাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা নেওয়া হয়েছে। বিষয়টির সমাধান কী হবে-এ নিয়ে কথা বলার একপর্যায়ে মোহাম্মদ আলী উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। পরে তিনি আবু বকর সিদ্দিককে হত্যার উদ্দেশ্যে দেশীয় ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালান।

অভিযোগ অনুযায়ী, পরপর তিনবার কোপ দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এ সময় আবু বকর সিদ্দিকের পায়ে কোপ লাগে এবং কপালসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত লেগে তিনি রক্তাক্ত হন। একই ঘটনায় সালাউদ্দিন ও গিয়াস উদ্দিনও আহত হন।

সালাউদ্দিন সরদার বলেন, ঘটনার সময় হঠাৎ মোহাম্মদ আলী এলাকার ৫০ থেকে ৬০ জন লোক এনে আমাদের চোর বলে মব তৈরির চেষ্টা করেন এবং মারধর করেন।

পরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মধ্যে ফয়সাল আহমেদ বাহার, মেরাজ চোকদার, বাকি বিল্লাহ ও রাসেল পারভেজসহ কয়েকজন খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে আহতদের উদ্ধার করেন। পরে তাদের চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। গুরুতর আহত আবু বকর সিদ্দিক হাসপাতালে ভর্তি থেকে চিকিৎসা নেন।

আবু বকর সিদ্দিক বলেন, গ্যাস সংযোগের বিষয়টি নিয়ে মোহাম্মদ আলীর সঙ্গে এর আগেও কয়েকবার মৌখিকভাবে কথা হয়েছে। কিন্তু তিনি বিষয়টির কোনো সমাধান করেননি। সর্বশেষ ঘটনার সময় তিনি উত্তেজিত হয়ে তাকে হত্যার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ করেন আবু বকর।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, ঘটনাটিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার জন্য মোহাম্মদ আলী তার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মালামাল এলোমেলো করে পরিকল্পিতভাবে ভিন্ন পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করেন। এ ঘটনায় তিনি ঘটনার রাতেই মোহাম্মদ আলীসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৪ থেকে ৫ জনকে আসামি করে থানায় মামলা করেন।
চাঁদপুর সদর মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আওলাদ হোসেন বলেন, এ ঘটনায় অভিযুক্ত একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

ঘটনার সময় সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফয়েজ আহমেদ চাঁদপুরের বাইরে ছিলেন বলে জানা গেছে। তবে ঘটনার বিষয়ে আহত ব্যক্তিরা ওসিকে জানিয়েছেন।