চাঁদপুরের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্কুল ফিডিং বা টিফিন কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীদের জন্য নিম্নমানের খাবার সরবরাহের অভিযোগ উঠেছে। পচা বা আধাপাকা কলা, বাসি পাউরুটি, নিম্নমানের বিস্কুট এবং সেদ্ধ ডিমের পরিবর্তে কাঁচা ডিম দেওয়ার অভিযোগ করেছেন অভিভাবক ও সংশ্লিষ্টরা।
অভিযোগ রয়েছে, অনেক সময় নির্ধারিত সময়ে খাবার সরবরাহ করা হয় না। আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দকৃত খাবারের পরিমাণও কম দেওয়া হচ্ছে বলে দাবি অভিভাবকদের।
অভিভাবকদের অভিযোগ, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পুষ্টিকর ও নিরাপদ খাবার নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে স্কুল ফিডিং কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। কিন্তু খাবারের মান নিয়ে অভিযোগ সত্য হলে তা কোমলমতি শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যঝুঁকিতে ফেলতে পারে।
নিম্নমানের বা নষ্ট খাবার খেয়ে পেটব্যথা, বমি ও ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দিতে পারে বলেও আশঙ্কা করছেন তারা। মধ্য ইছলী এলাকার ১০৭ নম্বর মধ্য ইছলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোসাম্মৎ আয়েশা আক্তার বলেন, “কিছু দিন যাবত বিস্কুট পাইনি, এখন পাচ্ছি।
এদিকে হামানকদি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোঃ মাহবুব আলম বলেন, “এক মাসে একবার বিস্কুট পেয়েছি। মাঝেমধ্যে কিছু সমস্যা দেখা দেয়।
সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, স্কুল ফিডিং কর্মসূচির আওতায় বিভিন্ন খাদ্যপণ্য সরবরাহ করছে তিনটি প্রতিষ্ঠান। প্যারাগন ডেইরি দুধ সরবরাহ করছে, প্রাণ ডেইরি বিস্কুট সরবরাহ করছে এবং ডিম, বনরুটি ও কলা সরবরাহের দায়িত্বে রয়েছে প্রত্যাশী এনজিও।
তবে খাবারের মান, পরিমাণ ও নির্ধারিত সময়ে বিতরণ নিয়ে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ও কর্তৃপক্ষের বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অভিভাবকরা বলেন, সরকারি অর্থে পরিচালিত শিশুদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই কর্মসূচিতে কোনো ধরনের অনিয়মের সুযোগ থাকা উচিত নয়। খাবারের মান, পরিমাণ ও সরবরাহের সময়সূচি যথাযথভাবে নিশ্চিত করতে নিয়মিত তদারকির দাবি জানান তারা।
তাদের দাবি, অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করতে হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানান অভিভাবকরা।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বিদ্যালয় পর্যায়ে শিক্ষক, অভিভাবক, স্থানীয় প্রশাসন ও শিক্ষা কর্মকর্তাদের সমন্বিত নজরদারি বাড়ানো হলে স্কুল ফিডিং কর্মসূচির খাবারের মান ও সরবরাহব্যবস্থা আরও কার্যকরভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
প্রতিবেদক: মুহাম্মদ বাদশা ভূঁইয়া,
১৩ আগস্ট ২০২৬
Chandpur Times | চাঁদপুর টাইমস Top Newspaper in Chandpur