চাঁদপুরের কচুয়ায় নিজেকে ব্যবসায়ী পরিচয় দিয়ে ইট বিক্রির কথা বলে এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে সুকৌশলে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে শাহিন মিয়া নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। ঘটনার ১৪ দিন পার হলেও অভিযুক্ত ব্যক্তির সন্ধান না পাওয়ায় এবং লিখিত অভিযোগ করেও কোনো সমাধান না হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী কামরুজ্জামান মানিক।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, কচুয়া বিশ্বরোড ও ঘাগড়া বাজারের রড ও সিমেন্ট ব্যবসায়ী কামরুজ্জামান মানিকের কাছে মুঠোফোনে নিজেকে ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচয় দেন শাহিন মিয়া। পরে তার কাছে ১০ হাজার ইট বিক্রির অর্ডার দেওয়া হয়। ইট সরবরাহের কথা বলে শাহিন মিয়া কৌশলে ব্যবসায়ী পালাখাল কলেজ গেইটের রড ও সিমেন্ট ব্যবসায়ী মতিউর রহমান মতিনের কাছ থেকে পৃথকভাবে প্রতি হাজার ইট ৮ হাজার টাকা করে হাতিয়ে নেয়। প্রকৃতপক্ষে ওই ইটের বাজার বর্তমান বাজারমূল্য ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী কামরুজ্জামান মানিকের দাবি, শাহিন মিয়া ইট বিক্রির কথা বলে তার কাছ থেকে প্রায় ১০ হাজার ইটের অর্ডার নেন। অর্ডারের বিপরীতে ইট সরবরাহ না করে বিভিন্নভাবে সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন। একপর্যায়ে তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এ ঘটনায় অভিযুক্ত শাহিন মিয়ার সঙ্গে ইট কেনাবেচার বিষয়ে যোগাযোগের ক্ষেত্রে কাদিরখিল গ্রামের আব্দুল খালেক মাস্টারের ছেলে মতিউর রহমান মতিন ও তার দোকানের কর্মচারী আবু সুফিয়ানের নামও সামনে এসেছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী। তবে তাদের ভূমিকা কী ছিল, সে বিষয়ে তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ঘটনার পর বিষয়টি নিয়ে কচুয়া থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন ব্যবসায়ী কামরুজ্জামান মানিক। কিন্তু অভিযোগ করার পর ১৪ দিন অতিবাহিত হলেও অভিযুক্ত শাহিন মিয়াকে শনাক্ত বা তার কাছ থেকে টাকা উদ্ধারে দৃশ্যমান কোনো সমাধান না পাওয়ায় ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন তিনি। কামরুজ্জামান মানিক বলেন, আমার কাছ থেকে ইট নেয়া হলেও, এখনো টাকাও ফেরত দেওয়া হয়নি। বর্তমানে অভিযুক্ত শাহিন মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যাচ্ছে না। আমি থানায় লিখিত অভিযোগ করেছি। দ্রুত তদন্ত করে টাকা উদ্ধারের পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।” তিনি আরও বলেন, প্রতারণার মাধ্যমে তার ব্যবসায়িকভাবে বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে। বর্তমানে আমার ইট ও কণা পালাখাল কলেজ গেইটের মোনতাহীনা ট্রেডার্স এর রড ও সিমেন্ট ব্যবসায়ী মতিউর রহমান মতিনের দোকানে রয়েছে। তিনি ইট ক্রয় না করলে এখানে এগুলো কীভাবে আসলো। অভিযুক্ত শাহিন মিয়াকে খুঁজে বের করে আইনগত প্রক্রিয়ার আওতায় আনতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
এ বিষয়ে পালাখাল কলেজ গেইটের রড ও সিমেন্ট ব্যবসায়ী মতিউর রহমান মতিন বলেন, আমি জনৈক গৌরিপুর এলাকার শাহিন মিয়ার কাছ থেকে ইট ক্রয় করে টাকা পরিশোধ করেছে। কচুয়ার ব্যবসায়ী মানিক ভাইয়ের সাথে আমার কোনো কথা-বার্তা কিংবা এ বিষয়ে কোনো লেন-দেন হয়নি।
কচুয়া প্রতিনিধি/
৯ আগস্ট ২০২৬
Chandpur Times | চাঁদপুর টাইমস Top Newspaper in Chandpur