Home / চাঁদপুর / অবশেষ চালু হচ্ছে চাঁদপুর পৌরসভার ১০৫ বছরের ঐতিহ্যবাহী দাতব্য চিকিৎসালয়
দাতব্য
ঐতিহ্যবাহী পুরান বাজার পৌর দাতব্য চিকিৎসালয়

অবশেষ চালু হচ্ছে চাঁদপুর পৌরসভার ১০৫ বছরের ঐতিহ্যবাহী দাতব্য চিকিৎসালয়

অবশেষে ফের চালু হতে যাচ্ছে চাঁদপুর পৌরসভার ১০৫ বছরের ঐতিহ্যবাহী পুরানবাজার দাতব্য চিকিৎসালয়। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে এর কার্যক্রম চালু করার নির্দেশ দিয়েছেন চাঁদপুর পৌর প্রশাসক ও স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক (ডিডি এলজিডি) মো. এরশাদ উদ্দিন। রোববার (৯ আগস্ট) বিকেলে শহরের পুরানবাজারে অবস্থিত চিকিৎসালয়টি পরিদর্শনে গিয়ে তিনি এই নির্দেশনা দেন।

মাত্র ২ টাকার বিনিময়ে গরিব রোগীদের চিকিৎসাপত্র এবং ঔষধ দিয়ে এই সেবা কেন্দ্রটি ‘মানবতার বাতিঘর’ হিসেবে দেশব্যাপী খ্যাতি অর্জন করে। অথচ তুচ্ছ কারণ দেখিয়ে গত বছর তৎকালীন পৌর প্রশাসক গোলাম জাকারিয়া ১০৫ বছরের প্রাচীন এই চিকিৎসালয় টি বন্ধ করে দেন। এ নিয়ে পুরানবাজার তথা চাঁদপুরের সচেতন মহলে চাপা ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। এরপর পুরানবাজার তথা নদী ভাংতি গরীব ও অসহায় মানুষের চিকিৎসা সেবার একমাত্র আশ্রয়কেন্দ্রটি ফরে চালু করার জন্য বিভিন্ন মহল থেকে জোর দাবি ওঠে।

অবশেষে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ঐতিহ্যবাহী ‘পৌর দাতব্য চিকিৎসালয়’ পুনরায় চালুর উদ্যোগ নিয়েছে পৌরসভা কর্তৃপক্ষ। রোববার চাঁদপুর পৌর প্রশাসক মো. এরশাদ উদ্দিন পরিদর্শনকালে শতবর্ষী ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় তা দ্রুত নিলামের নির্দেশ দেন।‌ একই সাথে চিকিৎসালয়টির কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখতে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে পাশেই একটি অস্থায়ী স্থাপনা নির্মাণ করে সেবা চালুর পরামর্শ দেন তিনি। এখানে নতুন করে একজন এমবিবিএস চিকিৎসক নিয়োগের পরিকল্পনার কথাও জানান পৌর প্রশাসক।

তিনি বলেন, চাঁদপুর পৌরসভার পক্ষ থেকে এই দাতব্য চিকিৎসালয়টি সুদীর্ঘ সময় ধরে চালু ছিল। মাঝখানে কিছু সমস্যার কারণে এটি সাময়িক বন্ধ রাখা হয়েছে। আমরা এটি আবার পুনরায় চালু করার উদ্যোগ নিয়েছি। যাতে করে পুরানবজারে পৌরসভার ৫টি ওয়ার্ডের মানুষরা এখানে বিনামূল্যে প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা পায়। পাশাপাশি পুরনো ভবনটিকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। এখানে ভবিষ্যতে আমরা একটি বহুতল ভবন করার পরিকল্পনা করব। আপাতত পাশে একটি অস্থায়ী স্থাপনা করে আমরা চিকিৎসা কার্যক্রম চালু করব। যাতে করে একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক প্রতিদিন এখানে রোগীদের চিকিৎসা দিতে পারেন। এছাড়া পৌরসভা পক্ষ থেকে বিনামূল্যে কিছু ঔষধ দেওয়ারও ব্যবস্থা করব।

এ সময় চাঁদপুর পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী সুজিত বড়ুয়া ও পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ নূর আজম শরীফসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, ১৯২০ সালে ব্রিটিশ আমলে পুরাণ বাজার এলাকায় দরিদ্র মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে এই চিকিৎসালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। এরপর ব্রিটিশ শাসনামল, পাকিস্তান সরকার এবং স্বাধীন বাংলাদেশের সরকার আমলে এই সেবা কার্যক্রম চালু থাকে। সবশেষ চাঁদপুর পৌরসভার অধ্যায়ন মাত্র ২ টাকার টিকিটে নিম্নআয়ের মানুষ এখান থেকে চিকিৎসাসেবা ও ওষুধ পেতেন। তবে গত বছর চিকিৎসক সংকটের অজুহাতে সেবা কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হলে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। বর্তমান পৌর প্রশাসকের প্রশংসনীয় ও মানবিক উদযোগে ফের এই প্রতিষ্ঠানটি চালুর উদ্যোগ নেওয়ায় সংবাদে পুরানবাজারবাসী বেশ আনন্দিত। তাদের দাবি, ‘এই মানবিক কাজের জন্য চাঁদপুর পৌরসভার বর্তমান প্রশাসককে আমরা সারা জীবন মনে রাখব।’ তাদের দাবি, ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানটি পুনরায় চালু হলে পুরান বাজারের দরিদ্র এলাকা তথা নদীভাঙন কবলিত ও দুঃস্থ মানুষের স্বাস্থ্যসেবার পথ সুগম হবে।

প্রতিবেদক: আশিক বিন রহিম,
৯ আগস্ট ২০২৬