বাংলাদেশে ধর্মীয় অনুশীলন ও সামাজিক জীবনে মসজিদের ভূমিকা দীর্ঘদিন ধরেই গুরুত্বপূর্ণ। নামাজ আদায়ের স্থান ছাড়াও ধর্মীয় শিক্ষা, নৈতিক মূল্যবোধ তৈরি, সামাজিক সম্প্রীতি, মানবিক সহায়তা ও দাওয়াতি কার্যক্রমের অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে মসজিদগুলো সমাজে অবদান রাখছে।
দেশজুড়ে নতুন নতুন মসজিদ নির্মাণের ধারাবাহিকতায় বর্তমানে বাংলাদেশে মসজিদের সংখ্যা সাড়ে তিন লাখ ছাড়িয়েছে। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সমন্বয় বিভাগের সর্বশেষ বিভাগভিত্তিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে মোট মসজিদের সংখ্যা ৩ লাখ ৫০ হাজার ৪৬৫টি।
সোমবার (৬ জুলাই) ইসলামিক ফাউন্ডেশন এ তালিকা প্রকাশ করে। প্রতিষ্ঠানটির সমন্বয় বিভাগের পরিচালক মো. মহিউদ্দিন স্বাক্ষরিত তথ্যপত্রে মহাপরিচালক ও উপপরিচালক (সমন্বয়)-এর অনুমোদন রয়েছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশের আট বিভাগের মধ্যে সবচেয়ে বেশি মসজিদ রয়েছে ঢাকা বিভাগে। এ বিভাগে মোট মসজিদের সংখ্যা ৭৫ হাজার ৯৫৬টি। জনসংখ্যার ঘনত্ব, বিস্তৃত জনপদ এবং নগরায়ণের কারণে এ বিভাগে মসজিদের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি।
মসজিদের সংখ্যার দিক থেকে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগ। এ বিভাগে মোট ৬৩ হাজার ৭০৩টি মসজিদ রয়েছে।
বিভাগভিত্তিক মসজিদের সংখ্যা: ঢাকা বিভাগ: ৭৫ হাজার ৯৫৬টি, চট্টগ্রাম বিভাগ: ৬৩ হাজার ৭০৩টি, রংপুর বিভাগ: ৪৫ হাজার ৭৯২টি, রাজশাহী বিভাগ: ৪৫ হাজার ৬৭৯টি, বরিশাল বিভাগ: ৩৫ হাজার ৬৯১টি, খুলনা বিভাগ: ৩৪ হাজার ৫৮৬টি, ময়মনসিংহ বিভাগ: ৩১ হাজার ২১২টি ও সিলেট বিভাগ: ২২ হাজার ৬টি্ ।
তালিকা অনুযায়ী, আট বিভাগের মধ্যে সবচেয়ে কম মসজিদ রয়েছে সিলেট বিভাগে।
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দেশের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সঠিক তথ্য সংরক্ষণ, প্রশাসনিক কার্যক্রম সহজ করা এবং ইসলামের প্রচার-প্রসারসংক্রান্ত পরিকল্পনা গ্রহণের সুবিধার্থে নিয়মিতভাবে এসব তথ্য হালনাগাদ করা হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশে মসজিদ শুধু ইবাদতের স্থান নয়, এটি সমাজ গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানও। মসজিদকেন্দ্রিক কোরআন শিক্ষা, শিশুদের নৈতিক শিক্ষা, ইসলামি আলোচনা, দাতব্য কার্যক্রম, রমজানে ইফতার ও তারাবির আয়োজন, যাকাত ও সদকা বিতরণসহ বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
গ্রামীণ সমাজে অনেক ক্ষেত্রে সামাজিক ঐক্য প্রতিষ্ঠা, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং স্থানীয় বিরোধ নিষ্পত্তিতেও মসজিদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী ইসলাম রাষ্ট্রধর্ম। দেশের অধিকাংশ মানুষ মুসলিম হওয়ায় ধর্মীয় অবকাঠামো হিসেবে মসজিদের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। নতুন আবাসিক এলাকা, গ্রামীণ জনপদ ও নগর সম্প্রসারণের সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে নতুন মসজিদ নির্মাণের সংখ্যাও।
প্রসঙ্গ চাঁদপুর
চাঁদপুর জেলার ৮ উপজেলা, ৭টি পৌরসভা, ৮৯টি ইউনিয়ন ও ১ হাজার ৩৬৫টি গ্রামে ২৫ লাখ মুসলমানের জন্যে ৪ হাজার ৮৪২টি মসজিদ রয়েছে। এসব মসজিদে সারা বছর ৫ ওয়াক্ত আজান ও নামাজ আদায় করা হলেও পবিত্র মাহে রমজানে মুসল্লিদের সমাগম বাড়ে। নামাজ আদায়ের সুবিধার্থে গ্রাম ও শহরের কিছু মসজিদে রয়েছে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থা। প্রতিটি মসজিদে রয়েছে একজন খতিব বা পেশ ইমাম ও একজন বা একাধিক মুয়াজ্জিন। এসব মসজিদের বেশিরভাগ ইমাম বা খতিব ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ কর্তৃক প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত ও কওমি মাদরাসার আলেম।
চাঁদপুর ইসলামিক ফাউন্ডেশন (ইফা)-এর দেয়া পরিসংখ্যান মতে, চাঁদপুর সদরে ৬৬৭টি, মতলব দক্ষিণে ৪৫৫টি, মতলব উত্তরে ৫৭৬টি, হাজীগঞ্জে ৬ ২৬টি, ফরিদগঞ্জে ৯৬০টি, কচুয়ায় ৮ ৭১টি, শাহরাস্তিতে ৪৩৩টি এবং হাইমচরে ২৫৪টি মসজিদ রয়েছে। অধিকাংশ মসজিদেই জুমার নামাজ হয়।
সম্পাদনায় : আবদুল গনি
১৬ জুলাই ২০২৬
এ জি
Chandpur Times | চাঁদপুর টাইমস Top Newspaper in Chandpur