চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলায় নিখোঁজ হওয়ার ৮ দিন পর নাসির উদ্দিন আলমাছ প্রধানের (৬৫) গলিত লাশ একটি ডোবা থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ।সে কাশিমপুর পুরণ গ্রামের মৃত ওসমান আলী প্রধানের ছেলে।
স্থানীয় কাশিমপুর পুরণ উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির একাধিকবারের সাবেক সদস্য ছিলেন। এছাড়া তিনি কৃষিকাজ করতেন। তাঁর পাঁচ মেয়ে ও দুই ছেলে রয়েছে। গত ২১ জুন রাত থেকে নিখোঁজের পর ২৯ জুন বিকেলে বাড়ীর পাশে ডোবায় কচুরিপানার নীচ থেকে মতলব দক্ষিণ থানা পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে।
পুলিশ ও স্থানীয় এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, গত ২১ জুন রাতে তার স্ত্রীকে ঘরে রেখে বাড়ি থেকে বের হন নাসির উদ্দিন আলমাস প্রধান। এরপর আর বাড়ি ফেরেননি। অনেক খোঁজাখুঁজির পর তাঁর সন্ধান না পেয়ে তার ভাতীজা মামুন প্রধানীয়া মতলব দক্ষিণ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
সোমবার বিকেলে পার্শ্ববর্তী বাড়ীর বিল্লাল হোসেন প্রধানের ছেলে তাদের গরুর খাবারের জন্য ওই ডোবায় কচুরিপানা কাটতে যায়।কচুরিপানা কাটতে গিয়ে দুর্গন্ধ পেয়ে সামনে এগিয়ে গিয়ে দেখতে পায় একটি লুঙ্গি ও গলিত লাশ। তা দেখেই ডাকচিৎকার দিলে আশপাশের লোকজন এসে চিহ্নিত করে এটি নাসির উদ্দিন আলমাছ প্রধানের লাশ। বিষয়টি মতলব দক্ষিণ থানা পুলিশকে জানানো হলে ওইদিন সন্ধ্যায় পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে ডোবা তাঁর লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চাঁদপুর মর্গে পাঠানো হয়।
লাশের পিঠে ও ঘাড়ে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বজনরা। পরিবারের দাবি, হত্যা করে তাঁর লাশ দুর্বৃত্তরা ডোবায় ফেলে রাখে।
নাসির উদ্দিনের স্ত্রী নাসিমা আক্তার ও ভাগীনা নজরুল ইসলাম বলেন, যেদিন রাতে সে নিখোঁজ হয় ওইসময় তার কাছে ৩৫ হাজার টাকা ছিল।তাদের ধারনা পূর্ব শত্রুতার জেরে অথবা সঙ্গে থাকা টাকা ছিনিয়ে নিতে নাসির উদ্দিনকে দুর্বৃত্ত বা প্রতিপক্ষরা হত্যা করে লাশ ডোবায় ফেলে গেছেন । তবে এ ব্যাপারে নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারছেন না। পুলিশের তদন্তে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ বের হবে।
লাশটির পিঠ ও ঘাড়ে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলেও তারা জানান।
কাশিমপুর পুরণ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দীপঙ্কর চন্দ দাস বলেন,নাসির উদ্দিন আলমাছ প্রধান এ বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির ২ বার সদস্য ছিলেন। সদস্যের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তিনি নিজেদের জমিজমায় ফসলাদী নিয়েই ব্যস্ত থাকতেন।তিনি একজন ভাল মনের মানুষ ছিলেন।
মতলব দক্ষিণ থানার ওসি হাফিজুর রহমান মানিক বলেন, ময়নাতদেন্তর জন্য ওই ব্যক্তির লাশ চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছেন। এটি হত্যাকান্ড না কী ধরণের মৃত্যু তা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে। থানায় করা জিডির সূত্র ধরে ঘটনার তদন্ত চলছে। তাঁর সঙ্গে আশপাশের কারো পূর্ব শত্রুতা বা বিরোধ আছে কি না তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় থানায় এখনো মামলা হয়নি।
প্রতিবেদক: মাহফুজ মল্লিক/
৩০ জুন ২০২৬
Chandpur Times | চাঁদপুর টাইমস Top Newspaper in Chandpur