Home / উপজেলা সংবাদ / মতলব দক্ষিণ / মাদক মানব সভ্যতার চরম শত্রু- মুফতি গোলাম সারোয়ার ফরিদী 

মাদক মানব সভ্যতার চরম শত্রু- মুফতি গোলাম সারোয়ার ফরিদী 

সমাজ ব্যবস্থা ধ্বংসের জন্য মাদক যখন চারিদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে, ঠিক তখনই   ভয়ানক এ ব্যাধি থেকে  উত্তরণের পথ খুঁজতে থাকে সচেতন মহল। তাই প্রতিটি গ্রামে গঞ্জে এবং মহল্লার মসজিদগুলোতে মাদকের বিরুদ্ধে  আলোচনার অনুরোধ জানানো হয়।

আজ শুক্রবার (১৯ জুন) মতলব দক্ষিণ উপজেলার কেন্দ্রীয় মসজিদ অর্থাৎ মতলব বাজার শাহী জামে মসজিদে খুৎবার পূর্বে মাদকের কুফল সম্পর্কে কোরআন ও হাদীসের আলোকে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেন অত্র মসজিদের ইমাম ও খতিব মুফতি আলহাজ্ব হযরত মাওলানা গোলাম সারোয়ার ফরিদী। তিনি বলেন,নেশা ও মাদক মানব-সভ্যতার চরম শত্রু। এটা জীবন ও সম্ভাবনাকে নষ্ট করে, শান্তির পরিবারে অশান্তির আগুন প্রজ্জ্বলিত করে এবং সমাজে অনাচার,ব্যাবিচার ও অস্থিরতা সৃষ্টি করে। নেশা ও মাদক সভ্যতার চাকা পিছনের দিকে ঘুরিয়ে দেয়। তাই কল্যাণের ধর্ম ইসলামে নেশা ও মাদক সম্পূর্ণ হারাম।

তিনি আরো বলেন, ইসলামে সব ধরনের মাদক (নেশাজাতীয় দ্রব্য) সেবন, ক্রয়-বিক্রয়, উৎপাদন ও পরিবহন সম্পূর্ণরূপে হারাম। মাদককে মানবজাতি ও সমাজের জন্য ‘মায়ের মতো সব পাপের মূল’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

পবিত্র কোরআনে মাদককে ‘শয়তানের কাজ’ ও ‘অপবিত্র’ বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে। আল্লাহ তা’আলা বলেন, “হে মুমিনগণ! নিশ্চয়ই মদ, জুয়া, প্রতিমা ও ভাগ্যনির্ধারক শরগুলো হলো ঘৃণ্য বস্তু এবং শয়তানের কাজ। সুতরাং তোমরা এগুলো পরিহার কর, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পার।

হাদিসে মাদকের ব্যাপারে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হয়নি। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “যে কোনো নেশা উদ্রেককারী জিনিসই হলো ‘খামর’ (মাদক) আর প্রত্যেক ‘খামর’ই হলো হারাম। তিনি বলেছেন, “যে বস্তুর অধিক পরিমাণ নেশা সৃষ্টি করে, তার সামান্য পরিমাণও হারাম।”

মাদক মানুষের বিবেক-বুদ্ধি ও চিন্তাশক্তি লোপ করে। এর ফলে পারিবারিক ও সামাজিক বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। ইসলামের অন্যতম মূল লক্ষ্য হলো মানুষের জীবন, সম্পদ, বংশ ও বুদ্ধিমত্তা সংরক্ষণ করা, যার সবগুলোই মাদকের কারণে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

মাদক সেবনকারী ছাড়াও এর সাথে পরোক্ষভাবে জড়িতদেরও ইসলামে অভিসম্পাত করা হয়েছে. রাসুলুল্লাহ (সা.) মাদক সংশ্লিষ্ট ১০ শ্রেণির মানুষকে (যেমন: উৎপাদক, বিক্রেতা, বহনকারী, পরিবেশনকারী এবং যার জন্য কেনা হয়) অভিসম্পাত করেছেন।

সম্প্রতি কয়েকটি শিশু ধর্ষণ ও হত্যাকান্ডের বিষয়ে বলেন,এসব কর্মকান্ডের সাথে জড়িত সবাই মাদকাসক্ত। সমাজ এবং রাষ্ট্রকে বাঁচাতে হলে প্রথমত মাদক নির্মল করতে হবে।এ ব্যপারে প্রত্যেকে নিজ নিজ পরিবার থেকে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।

প্রতিবেদক: মাহফুজ মল্লিক/ ১৯ জুন ২০২৬