Home / উপজেলা সংবাদ / হাজীগঞ্জ / হাজীগঞ্জে ফুটবল খেলা আয়োজনের নামে চাঁদাবাজির অভিযোগ   

হাজীগঞ্জে ফুটবল খেলা আয়োজনের নামে চাঁদাবাজির অভিযোগ   

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে ফুটবল খেলা আয়োজনের নামে বিএনপির নাম ভেঙ্গে কতিপয় এক যুবকের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ পাওয়া যায়। উপজেলার ১১ নং হাটিলা পশ্চিম ইউনিয়নে ঘটায় বিএনপির শীর্ষ স্থানীয় নেতাদের মধ্যে জনমনে প্রশ্ন হয়ে দাড়িয়েছে। গত কয়েকদিন ধরে হাটিলা পশ্চিম ইউনিয়ন বিএনপির নেতাদের ফেইসবুক জুড়ে দেখাযায় কতিপয় এক নেতা খেলার নামে পুরস্কার দিবে বলে বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে চাঁদা আদায় ও স্থানীয় ধড্ডা খালপাড়ের একাধিক দোকানে পানির কেইস নিয়ে টাকা না দেওয়ার অভিযোগ। অভিযুক্ত ঐ যুবকের বাড়ী গৌড়েশ্বর গ্রামের মৃত আলী আশ্রাফ মিয়ার ছেলে ইমান বেপারী ।

হাজীগঞ্জ শাহরাস্তি আসনের জনপ্রিয় সাংসদ ইঞ্জি মমিনুল হকের একান্ত কাছের ১১ নং হাটিলা পশ্চিম ইউনিয়ন বিএনপির নেতা মো. সোহেল রানা রুবেলের ফেইসবুক স্ট্যার্স সৃত্রে দেখা যায়,

গৌড়েশ্বর গ্রামে বিএনপির নাম ভেঙ্গে সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে আসছে ইমান বেপারী। যা নাকি যুবদলের নেতা মাসুম ফোন করে অভিযোগ জানাইছে ইমান বেপারী চাঁদাবাজি করতেছে ধড্ডা খাল পাড়ে বিভিন্ন দোকান থেকে । বিএনপির নাম ধরে দোকানদাররা আজেবাজে কথা বলতেছে। তার অভিযোগের ভিত্তিতে ইমান বেপারীকে ফোন দেয় বিএনপি নেতা সোহেল রানা রুবেল। জবাবে ইমান বেপারী বলেন তাকে নাকি সম্মান করে জিনিস পত্র দিতেছে দোকানদাররা, তাই টাকা নেয় নাই। ঈদের ছুটিতে দুইদিন পর বিএনপি নেতা সোহেল রানা রুবেলের সাথে ধড্ডা খাল পাড়ে দেখা হয় ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য সচিব কাঞ্চন মিয়া, ১ নং ওয়ার্ড বিএনপির সেক্রেটারি শাহআলম, ২ নং ওয়ার্ড বিএনপির সেক্রেটারি টিটু চৌধুরী, বিএনপির কর্মী মহিনসহ আরও অনেকের সাথে। তখন ইমানের চাঁদাবাজি বিষয় কথা উঠেছে উপস্থিত হার্ডওয়ার ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর মিয়াসহ কয়েকজন সাক্ষী দিয়েছে । ইমান বেপারীর ঘটনাটি তদন্ত করেছে ১ নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাহাআলম সহ কয়েকজন তদন্তের পর নিশ্চিত হয়েছেন ইমান টাকা ছাড়া সালাউদ্দিনের দোকানে ২ কেইস,

মিজানের দোকান থেকে ১ কেইস পানিসহ জিনিসপত্র নিয়েছে এবং ঘটনা সত্যি। তখন উপস্থিত সকলের সিদ্ধান্ত ইমানকে ডাকানো হয় খাল পাড়ে। বিষয়টি বাড়াবাড়ি না করে বিএনপি নেতা সোহেল রানা রুবেল তার পকেট থেকে যেই যেই দোকানদার টাকা পাবে তা নগদ পরিশোধ করতে ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য সচিব কাঞ্চনের মাধ্যমে পরিশোধ করে।

এ বিষয়ে স্থানীয় সাংসদ ইঞ্জি মমিনুল হকের একান্ত কাছের ১১ নং হাটিলা পশ্চিম ইউনিয়ন বিএনপির নেতা মো. সোহেল রানা রুবেল বলেন, আমার ইউনিয়নের ইমান বেপারী হঠাৎকরে এলাকায় এসে খেলার নামে মানুষের কাছ থেকে টাকা উত্তলন করেছে। আমার কাছ থেকেও দুই হাজার টাকা নিয়েছে পুরস্কার বিতরণ করবে বলে। পরে শুনি আরো ৭/৮ জনের কাছ থেকে খেলার নাম বলে টাকা নিয়েছে । এর আগে ধড্ডা খালপাড়ে কয়েকজন দোকানদারের কাছ থেকে পানির কেইস নিয়ে টাকা না দেওয়ায় আমার প্রকেট থেকে ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য সচিব কাঞ্চন ভাইয়ের মাধ্যমে সমাধান করেছি। এখন সে আমাদের নামে উল্টো ফেইসবুকে লেখালেখি করে বিএনপির সুনাম নষ্ট করে আসছে।

যুবদলের নেতা মাসুম বিল্লাহ বলেন, আমি ইমানের বিষয়ে জানতে পেরে আমাদের দলের নেতাকর্মীদের জানিয়েছি আর এতে ইমান বেপারী আমার উপর ক্ষিপ্ত হয়ে পড়েছে।

ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক মহিন মজুমদার বলেন, দলের সুসময় এলাকায় এসে ইমান বেপারী এলাকায় খেলার নামে টাকা উত্তলন করেছে। অথচ সে দীর্ঘদিন ঢাকায় থেকে চিটারী করে লক্ষ লক্ষ টাকা মেরে সে এখন গ্রামে এসে দলের নাম ভেঙে চাঁদাবাজি করে গৌশ্বড়র গ্রামের জনগনকে আতংকের মধ্যে রেখেছে।

১১ নং হাটিলা পশ্চিম ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য সচিব কাঞ্চন মিয়া বলেন, বিষয়টি সমাধান হয়েছে। বিশিষ্ট ব্যবসায়ী বিএনপি নেতা সোহেল রানা রুবেল তার পকেট থেকে উক্ত দোকানদারদের বিল পরিষদ করেছে। বিষয়টি মিমাংসা করার পরে দেখি ব্যক্তি আক্রমণ বেড়ে একে অপরের বিরুদ্ধে ফেইসবুকে নানান কথা লিখতেছে যা দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত ইমান বেপারী বলেন, গত ২৬ মার্চ উপলক্ষে খেলা হয়েছে সেখানে দোকানদারদের পানির বিল বাকী ছিল। বিষয়টি আওয়ামী মাইন্ডের কয়েকজন দোকানদার ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা করেছে। তখন আমি টাকা দিতে গেলে বিএনপি নেতা সোহেল রানা রুবেল টাকা দিয়ে সেই আবার বিষয়টি দূর থেকে ঘোলাটে করছে।

হাজীগঞ্জ করেসপন্ডেট/

৫ এপ্রিল ২০২৬