Home / উপজেলা সংবাদ / হাজীগঞ্জ / হাজীগঞ্জ জিয়ানগরে বসতঘর পুড়ে যাওয়ার ঘটনায় আদালতে মামলা
প্রতীকী ছবি

হাজীগঞ্জ জিয়ানগরে বসতঘর পুড়ে যাওয়ার ঘটনায় আদালতে মামলা

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার জিয়ানগরে দিনমজুর শাহজাহান মিয়ার বসতঘর আগুনে পুড়ে যাওয়ার ঘটনায় আদালতে মামলা দায়ের করেন স্ত্রী সাজু বেগম। এতে ৬ জনকে আসামী করা হয় যার মামলা নং ৩৬০/২৬।

জানাযায়, গত ১০ মে রবিবার গভীর রাতে জিয়ানগরে দিনমজুর শাহজাহান মিয়ার বসতঘর আগুনে পুড়ে যায়। বিষয়টি বিভিন্ন গণমাধ্যম ও ফেইসবুকে ব্যাপক চাঞ্চল্যকর ঘটনায় রূপ নেয়। ঘটনাস্থলে পুলিশসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ পরিদর্শন করেন। শাহজাহানের একলা বাড়ীটি যে কেউ পূর্ব শত্রুতার জেরধরে এমন ঘটনা ঘটাতে পারে বলে পাশে পড়ে থাকা পেট্রোলের বতল প্রমান রেখে যায়। শাহজাহানের পরিবার পাশ্ববর্তী প্রতিপক্ষ ফয়সাল গংগদের সাথে সম্পত্তি নিয়ে পূর্ব শত্রুতা রয়েছে দাবি করে ঘটনার তিনদিন পর চাঁদপুর আদালতে মামলা দায়ের করেন।

মামলার আসামীরা হলেন, জিয়ানগরের মৃত ফজর আলীর ছেলে ফয়সাল, জাশেদ ও জাহেদ এবং নরু মিয়ার ছেলে মতিন, আনোয়ারের ছেলে মিরাজ। এদের বিরুদ্ধে দন্ডবিধির ৪৩৬, ১৪৩, ৩৪৭, ৩৫৩, ৩২৩, ৩২৪, ৩২৫, ৪২৭, ৫০৬(২) ধারায় অভিযুক্ত করা হয়।

মামলার বর্ননায় উল্লেখ, দিনমজুর শাহজাহানের পরিবারের সাথে আসামীদের সম্পত্তিগত বিরোধ চলে আসছে। ঘটনার এক সপ্তাহ আগে প্রতিপক্ষ লোকজনের সাথে কথা কাটাকাটি থেকে মারামারি রূপ নেয়। এসময় তারা বসতঘর পুড়ে দেওয়ার হুমকি দেয়। তারই সুবাদে গত ১০ মে গভীর রাতে দিনমজুর শাহজাহান মিয়ার বসতঘর আগুন লাগিয়ে পুড়ে ছাই করে দেয়। পরিবারের লোকজন আগুনের লীলা দেখে ডাকচিৎকার করে ঘর থেকে এক কাপড়ে বের হতে গিয়ে আহত হয়। একলা বাড়ী হওয়ায় আগুন নিভানোর ব্যবস্থা না থাকায় চোখের সামনে ঘরের খাট, আলমারি, পাকের ঘর, হাঁস মুরগী, ছাগল, স্বণলংকার, নগদ টাকাসহ প্রয়োজনীয় জমির দলিলপত্র সব পুড়ে ছাই হয়ে যায়। সব মিলিয়ে প্রায় ৯ লক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতি দাবি করেন ভুক্তভোগী পরিবার।

এ বিষয়ে মামলার বাদী দিনমজুর শাহজাহানের স্ত্রী সাজু বেগম বলেন, আমি স্বামী সন্তান নিয়ে অনেক কষ্টে গ্রামের বাহিরে মাঠে বাড়ী করে গত কয়েক বছর ধরে বসবাস করে আসছি। প্রতিপক্ষ আসামীরা এখানে এসেও আমাকে থাকতে দিলো না। আমি নিরুপা হয়ে বিচার চাইতে আদালতে মামলা দায়ের করেছি।

প্রতিপক্ষের মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগ করেও তাদের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। এদিকে আদালতের মামলার তদন্তের বার দেওয়া হয় হাজীগঞ্জ থানাকে। তাদের রিপোর্ট আদালতে আসার পরে মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে জানা যাবে।

হাজীগঞ্জ প্রতিনিধি/ ১৩ মে ২০২৬