চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে সিজারিয়ান অপারেশনের পর এক প্রসূতির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
মঙ্গলবার (২৩ মার্চ) বিকেলে উপজেলার ডায়াবেটিক সেন্টার এন্ড জেনারেল হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় নিহতের স্বজনদের সঙ্গে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের লোকজনের দফায় দফায় সংঘর্ষ হয় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে হস্তক্ষেপ করতে হয়।
নিহত প্রসূতির নাম তানজিনা আক্তার (২০)। তিনি উপজেলার রূপসা দক্ষিণ ইউনিয়নের কাউনিয়া গ্রামের প্রবাসী রবিনের স্ত্রী।
পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা বলে যান যায়, সোমবার (২২ মার্চ) রাত প্রায় ১১টার দিকে প্রসবব্যথা উঠলে তানজিনাকে দ্রুত ফরিদগঞ্জের ডায়াবেটিক সেন্টার এন্ড জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যান।
প্রসূতিকে সিজারিয়ান অপারেশন করান ফরিদগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের গাইনি বিভাগের চিকিৎসক নাজমুন নাহার। তিনিই সিজারিয়ান অপারেশন সম্পন্ন করেন।
অভিযোগ রয়েছে, অপারেশনের পর বেডে আনার মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যেই তানজিনা বুকে ব্যথা অনুভব করেন ও দ্রুত অচেতন হয়ে পড়েন এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ শুরু হয় । পরে তার অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকরা তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। সেখানে নেওয়ার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের স্বজনদের দাবি করে বলেন, ভুল চিকিৎসা ও অবহেলার কারণেই তানজিনার মৃত্যু হয়েছে।
এ ঘটনার প্রতিবাদে মঙ্গলবার বিকেলে নিহতের স্বজনরা হাসপাতালের সামনে অবস্থান নিলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে তাদের সঙ্গে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের লোকজনের বাকবিতণ্ডা ও সংঘর্ষে রূপ নেয়। উভয় পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, তৃতীয় একটি পক্ষও সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে, ফলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
সংঘর্ষ চলাকালে গণমাধ্যমকর্মীদের ক্যামেরা, মাইক্রোফোন ও যানবাহন ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে বলে অভিযোগ উঠেছে।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ করে বলেন, মরদেহ ঢাকা থেকে হাসপাতালে আনার আগেই বহিরাগত লোকজন দিয়ে তাদের অবরুদ্ধ করা হয় এবং মারধর করা হয়। পরে তারা বাধ্য হয়ে মরদেহ নিয়ে বাড়িতে চলে যান। সোমবার রাতেই তানজিনার দাফন সম্পন্ন হয়।
এ বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
ফরিদগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) মোহাম্মদ এমদাদুল হক জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আসাদুজ্জামান জুয়েল বলেন, সিজারিয়ান অপারেশনের পর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে রোগীর অবস্থা আশঙ্কাজনক হয়ে পড়লে তাকে দ্রুত ঢাকায় পাঠানো হয়। পরে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। অভিযোগ পাওয়া গেলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে, চাঁদপুর সিভিল সার্জনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) দুপুরে নিহতের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, বিষয়টি নিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনায় রয়েছেন। লিখিত অভিযোগ দায়েরের বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি।
প্রতিবেদক: শিমুল হাছান,
২৪ মার্চ ২০২৬
Chandpur Times | চাঁদপুর টাইমস Top Newspaper in Chandpur