জাতীয়

আজ ঐতিহাসিক শিক্ষা দিবস

আজ ১৭সেপ্টেম্বর ঐতিহাসিক ‘শিক্ষা দিবস’। ১৯৬২’র শিক্ষা আন্দোলনের প্রতীক ১৭ সেপ্টেম্বর এ ‘শিক্ষা দিবস’। শিক্ষার জন্য সংগ্রাম, ত্যাগ, বিজয়, গৌরব ও ঐতিহ্যের প্রতীক এ শিক্ষা দিবসের এবার ৫৪ তম বার্ষিকী।

আজ থেকে ৫৪ বছর পূর্বে ১৯৬২ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর পাকিস্তান শাসকগোষ্ঠীর সামরিক শাসক জেনারেল আইয়ুব খানের চাপিয়ে দেয়া গণবিরোধী প্রতিক্রিয়াশীল তথাকথিত ‘জাতীয় শিক্ষানীতি’ বাতিল করে সকলের জন্য শিক্ষার অধিকার ও সুযোগ প্রতিষ্ঠা এবং একটি গণমুখী বিজ্ঞানমনস্ক অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক সহজলভ্য আধুনিক শিক্ষানীতি ও শিক্ষাব্যবস্থা অর্জনের লক্ষে ছাত্রসমাজ অপ্রতিরোধ্য আন্দোলন গড়ে তোলা হয়েছিল।

ফেব্রুয়ারি মাস থেকে শুরু হওয়া সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলনের পটভূমিতে আইয়ুবের শিক্ষানীতির বিরুদ্ধে আগস্ট মাস থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ধর্মঘটসহ বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্যে দিয়ে ১৭ সেপ্টেম্বরের প্রসÍুতি গ্রহণ করা হয়। ছাত্রসমাজের মধ্যে ব্যাপক বিক্ষোভ ও আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে। ছাত্রসমাজের আন্দোলনের প্রতি সাধারণ জনগণের সমর্থন ও সহানুভূতি ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেতে থাকে। সেই সঙ্গে পশ্চিম পাকিস্তানেও প্রগতিশীল ছাত্রসমাজ ও জনগণের মধ্যে বিক্ষোভ এবং আন্দোলন প্রসারিত হতে থাকে।

১৯৫৭ সালে প্রেসিডেন্ট ও সামরিক শাসক আইয়ুব খান তৎকালীন শিক্ষাসচিব এসএম শরিফকে চেয়ারম্যান করে ১১ সদস্যবিশিষ্ট ‘জাতীয় শিক্ষা কমিশন’ গঠন করেন। এই কমিশন পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর লক্ষ্য ও স্বার্থের প্রতিফলন ঘটিয়ে একটি গণবিরোধী শিক্ষানীতি প্রণয়ন করে। ১৯৬২ সালের মাঝামাঝি সময়ে এ কমিশন রিপোর্ট প্রকাশ করে এবং সঙ্গে সঙ্গে আইয়ুব সরকার এ কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করে।
এ তথাকথিত ‘জাতীয় শিক্ষানীতি’তে যে সকল বিষয় সুপারিশ করা হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে- শিক্ষাকে ব্যয়বহুল পণ্যের মতো করা এবং শুধু উচ্চবিত্তের সন্তানদের স্বার্থে উচ্চ শিক্ষাকে সীমিত করা। সাধারণের জন্য উচ্চ শিক্ষার সুযোগ একেবারেই সংকুচিত করে ফেলা।
এরই পরিণতিতে সার্বজনীন গণমুখী শিক্ষার দাবিতে ছাত্রসমাজের আন্দোলন ব্যাপক রূপ লাভ করে এবং ১৭ সেপ্টেম্বর অপ্রতিরোধ্য আন্দোলন আইয়ুব সরকারকে বাধ্য করে ঐ শিক্ষানীতি স্থগিত করতে। ১৯৫৮ সালে পাকিস্তানে সামরিক শাসন জারির পর সকল রাজনৈতিক দল ও কর্মকর্তা-, ছাত্রসংগঠনসহ সব ধরনের সাংস্কৃতিক-সামাজিক সংগঠনের তৎপরতা বেআইনি করে সকল ধরনের মৌলিক মানবাধিকার ও ন্যায়-বিচারের সুযোগ কেড়ে নেয়া হয়। চলে চরম দমননীতি।

লক্ষ্য অর্জনের জন্য প্রয়োজন একটি ‘আধুনিক অগ্রবাহিনী শক্তিগড়ে তোলা। আমাদের শিক্ষার তাই মূল লক্ষ্য হচ্ছে- আমাদের নতুন প্রজন্মকে আধুনিক উন্নত বাংলাদেশের নির্মাতা হিসেবে গড়ে তোলা। আমাদের দেশের প্রচলিত গতানুগতিক শিক্ষায় তা সম্ভব নয়। আমরা এ শিক্ষা ব্যবস্থার আমূল মৌলিক পরিবর্তন চাই। ‘জাতীয় শিক্ষানীতি-২০১০-এ শিক্ষার সার্বিক লক্ষ্য ও সুনির্দিষ্ট করণীয় নির্ধারণ করা হয়েছে

আমাদের নতুন প্রজন্মকে আধুনিক ও উন্নত বাংলাদেশের নির্মাতা হিসেবে গড়ে তোলার জন্য বর্তমান যুগের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ বিশ্বমানের শিক্ষা-জ্ঞান, প্রযুক্তি ও দক্ষতা।

বর্তমান যুগে সারাবিশ্ব একাকার। তাই আমাদের নতুন প্রজন্মকে নিজের দেশ গড়ে তুলতে হবে আমাদের নির্ধারিত লক্ষ্যে, তেমনি তাদের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব দেয়ার যোগ্য নাগরিক হিসেবেও গড়ে তুলতে হবে। আর একথাও মনে রাখতে হবে- আমাদের নতুন প্রজন্মকে জগতের সকল দেশের নতুন প্রজন্মের সঙ্গে প্রতিযোগিতার মাধ্যমে নিজের স্থান করে নিতে হবে, দেশ গড়ে তুলতে হবে, দেশের স্থানও করে নিতে হবে।

নিউজ ্িডিটর : আপডেট, বাংলাদেশ সময় ৫:০০ পিএম, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৬, শনিবার
ডিএইচ

Share