ধূমপান ছাড়ার সহজ ৪ উপায়
৩১ মে ছিল বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস। এ বছরের প্রতিপাদ্য-‘প্রলোভনের মুখোশ উন্মোচন করি, তামাক ও নিকোটিনের আসক্তি প্রতিরোধ করি’। এ দিবসকে সামনে রেখে ধূমপানের ক্ষতিকর প্রভাব এবং তা থেকে মুক্তির কিছু কার্যকর উপায় নিয়ে সচেতন হওয়া জরুরি।
ধূমপান হলো তামাকজাত দ্রব্য আগুনে পুড়িয়ে তার ধোঁয়া শ্বাসের মাধ্যমে শরীরে গ্রহণ করার প্রক্রিয়া। দীর্ঘদিন ধূমপানের কারণে হৃদ্রোগ, হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক, দীর্ঘস্থায়ী ফুসফুসের রোগ এবং বিভিন্ন ধরনের ক্যানসারের ঝুঁকি বেড়ে যায়। পাশাপাশি উচ্চ রক্তচাপ ও রক্তনালিজনিত নানা সমস্যার সঙ্গেও এর সম্পর্ক রয়েছে। তাই সুস্থ জীবনযাপনের জন্য যত দ্রুত সম্ভব এ অভ্যাস থেকে বেরিয়ে আসা প্রয়োজন।
গবেষণায় দেখা গেছে, আমিষ ও মাংসজাতীয় খাবার খাওয়ার পর অনেকের কাছে ধূমপান বেশি উপভোগ্য মনে হয়। ফলে ধূমপান ছাড়ার চেষ্টা করলে কিছুদিন ফলমূল ও শাকসবজি বেশি খাওয়া উপকারী হতে পারে। নিয়মিত শরীরচর্চা, যোগব্যায়াম ও প্রাণায়ামও আসক্তি নিয়ন্ত্রণে সহায়ক ভূমিকা রাখে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ধূমপান ছাড়ার সিদ্ধান্ত হঠাৎ বাস্তবায়ন না করে ধীরে ধীরে পরিমাণ কমানো ভালো। একই সঙ্গে জীবনযাপনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনলে সফল হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে।
ধূমপান কমানোর ৪ সহজ উপায়
১. বিকল্প হিসেবে চুইংগাম বা চকলেট
হঠাৎ সিগারেট খাওয়ার তীব্র ইচ্ছা হলে চুইংগাম বা চকলেট খেতে পারেন। এতে মনোযোগ অন্যদিকে সরানো সহজ হয়।
২. মদ, চা ও কফি সীমিত করুন
বিশেষজ্ঞদের মতে, মদ্যপান এবং চা-কফির মতো কিছু পানীয় ধূমপানের আকাঙ্ক্ষা বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই ধূমপান ছাড়ার সময়ে এসব পানীয় কমিয়ে দেওয়া উপকারী।
৩. বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন
ধূমপান ত্যাগের সময় অনেকেই মানসিক ও শারীরিক অস্বস্তির মুখোমুখি হন। এ ক্ষেত্রে মনোবিদ বা চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে। কাউন্সেলিং, সহায়তামূলক কর্মসূচি কিংবা পুনর্বাসন সেবাও কাজে আসতে পারে।
৪. চিকিৎসকের পরামর্শে ওষুধ ব্যবহার
ধূমপান ছাড়তে প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নন-নিকোটিন ওষুধ বা নিকোটিন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপির সহায়তা নেওয়া যেতে পারে। নিকোটিন গাম বা লজেন্সও অনেক ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়।
দৃঢ় সংকল্পই সফলতার চাবিকাঠি
ধূমপান কিছুদিন বন্ধ রেখে আবার শুরু করলে শারীরিক ও মানসিক জটিলতা আরও বাড়তে পারে। তাই এ অভ্যাস ত্যাগের সিদ্ধান্তে অটল থাকা জরুরি। নিজের পছন্দের কাজে সময় দেওয়া, পরিবার-পরিজনের সঙ্গে সময় কাটানো, ভ্রমণে যাওয়া কিংবা প্রিয় খাবার খাওয়ার মাধ্যমে মন ভালো রাখার চেষ্টা করতে পারেন। ইতিবাচক মানসিকতা ও দৃঢ় ইচ্ছাশক্তিই ধূমপানমুক্ত জীবনের সবচেয়ে বড় সহায়ক।
এ জি
১০ জুন ২০২৬