হাজীগঞ্জে ১৪৪ ধারা জারি : পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মাঠে পুলিশ ও বিজিবি

কুমিল্লায় পূজামণ্ডপে পবিত্র কুরআন শরীফ অবমাননার ঘটনায় চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে। পুলিশ ও স্থানীয়দের মধ্যে চলা এ সংঘর্ষে কমপক্ষে ৫০ জন আহত হয়েছে। স্থানীয়ভাবে সংঘর্ষে ৩ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেলেও পুলিশ-প্রসাশন বিষয়টি নিশ্চিত নয় বলে জানিয়েছে।

এদিকে এ ঘটনায় পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত হাজীগঞ্জ পৌর এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করেছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোমেনা আক্তার। পুলিশের পাশাপাশি মোতায়েন করা হয়েছে বিজিবি ও ম্যাজিস্ট্রেট ।

এ ঘটনা তদন্তে আজ বৃহস্পতিবার জেলা প্রশাসন পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। চাঁদপুর জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশ প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছি। সেখানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে দুই প্লাটুন বিজিবি ও র‍্যাব মোতায়েন করা হয়েছে।’

১৩ অক্টোবর বুধবার এশার নামাজের পর হাজীগঞ্জে পুলিশ ও বিক্ষুব্ধ জনতার মাঝে সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ফাঁকা গুলি ও টিয়ার শেল ছোড়ে। এ সময় ঘটনাস্থলেই নিহত হয় ৩ জন। সংঘর্ষে ২১ জন পুলিশ, ২ জন সাংবাদিক ও বিক্ষুব্ধ জনতাসহ প্রায় ৫০ জন কমবেশি আহত হয়েছে।

হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, নিহতরা হলেন- হাজীগঞ্জ উপজেলার বড়কুল ইউনিয়নের রায়চোঁ গ্রামের আলামিন (১৮), উপজেলার রান্ধুনীমুড়া সেকান্দার আলী বেপারীবাড়ির ফজলুল হকের একমাত্র ছেলে ইয়াছিন হোসেন হৃদয় (১৫) ও চাপাইনবাবগঞ্জ এলাকার বাবলু (২৮) নামের এক ব্যক্তি।

প্রত্যক্ষদর্শী মানিক হোসেন, জনি ও দেলোয়ার জানায়, বুধবার এশার নামাজের পর হাজীগঞ্জ বিশ্বরোড চৌরাস্তা এলাকা থেকে স্থানীয়রা বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। বিক্ষোভ মিছিলটি হাজীগঞ্জ বাজারের প্রধান সড়কে দু’বার প্রদক্ষিণ শেষে ৩য় বার বাজারের পূর্ব দিকে যাওয়ার পথে হঠাৎ মিছিল থেকে লক্ষ্মী নারায়ণ জিউর আখড়া (ত্রীনয়নী) পূজামণ্ডপে হামলা চালানো হয়। পরে পুলিশ ও মুসল্লিদের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়।

বিক্ষোভকারীরা পরে প্রায় ৮ টি মন্দিরে হামলা চালায়। জিউর আখড়া, নবদূর্গা, ত্রিশুল, ত্রী নয়নী, জমিদার বাড়ি মন্দির এবং বলাখাল ও রামপুর এলাকার মন্দিরে হামলা ও ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে।

হাজীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হারুনুর রশিদ বলেন, আমাদের ২১ জন পুলিশ আহত হয়েছে। বিক্ষোভকারীরা রাতে থানায় হামলা চালায়।

হাজীগঞ্জের উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোমেনা আক্তার আহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করেছেন। নিহতের বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন বলে জানান।

চাঁদপুরের পুলিশ সুপার মিলন মাহমুদ জানান, আহত কয়েকজনকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ১৫-২০ জন পুলিশ আহত হয়েছে। তবে মৃত্যুর বিষয়টি তিনি নিশ্চিত করেননি।

এদিকে হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও থানার সামনে হতাহতদের স্বজনরা ভিড় করতে দেখা যায়।

প্রতিবেদক: জহিরুল ইসলাম জয়, ১৪ অক্টোবর ২০২১

Share