নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতে ফরিদগঞ্জে জমজমাট হা-ডু-ডু খেলার আয়োজন
আধুনিক ডিজিটাল বিনোদন আর স্মার্টফোনের ভার্চ্যুয়াল জগতের ভিড়ে গ্রামবাংলার এককালের প্রাণ হা-ডু-ডু খেলা যেন রূপকথার গল্পে পরিণত হতে বসেছে। হারিয়ে যেতে বসা সেই আবহমান গ্রামীণ ঐতিহ্যকে সতেজ করতে এবং নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতে ফরিদগঞ্জে আয়োজিত হলো এক উৎসবমুখর হা-ডু-ডু প্রতিযোগিতা।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) বিকেলে উপজেলার বালিথুবা পূর্ব ইউনিয়নের ওয়াপদা অফিস সংলগ্ন মাঠে এলাকাবাসীর যৌথ উদ্যোগে এই জমজমাট হা-ডু-ডু খেলার আয়োজন করা হয়। খেলাকে কেন্দ্র করে আশেপাশের এলাকা ছাড়াও দূরদূরান্ত থেকে আসা কয়েক হাজার ক্রীড়াপ্রেমী নারী-পুরুষ ও শিশুর পদচারণায় পুরো এলাকা মুখরিত হয়ে ওঠে।
মাঠে টানটান উত্তেজনার এই লড়াইয়ে মুখোমুখি হয় কৃষ্ণপুর একাদশ’ ও ‘সকদি রামপুর মা চটপটি একাদশ। প্রতিটি দলে ১০ জন করে খেলোয়াড় অংশ নেন। রেফারির বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই শুরু হয় দুই দলের খেলোয়াড়দের দুর্দান্ত আক্রমণ, চতুর ছাঁটাই ও কৌশলী রক্ষণভাগ। প্রতিপক্ষের সীমানায় কবাডি বা হা-ডু-ডু ধ্বনিতে দম ধরে রেখে পয়েন্ট ছিনিয়ে আনার কৌশল দেখে দর্শকরা করতালিতে ফেটে পড়েন।
শুরু থেকেই মাঠের নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখে শেষ পর্যন্ত ৩৬-২৩ পয়েন্টের দাপুটে ব্যবধানে জয় ছিনিয়ে নেয় কৃষ্ণপুর একাদশ। অপরদিকে সকদি রামপুর মা চটপটি একাদশ ২৩ পয়েন্ট পেয়ে রানার্সআপ হওয়ার গৌরব অর্জন করে।
খেলা দেখতে আসা প্রবীণ দর্শকরা আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, আজকের তরুণরা যখন মাঠ থেকে মুখ ফিরিয়ে স্ক্রিনে বন্দি, তখন এই হা-ডু-ডু প্রতিযোগিতা আমাদের শৈশবের মধুর স্মৃতি মনে করিয়ে দিল। খেলাধুলার এমন সুন্দর পরিবেশ গ্রামের মানুষের মাঝে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও মিলনমেলা বাড়ায়।
আয়োজকদের এই প্রশংসনীয় উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে স্থানীয়রা বলেন, যুবসমাজকে মাদক ও মোবাইল আসক্তি থেকে দূরে রাখতে নিয়মিতভাবে এ ধরনের দেশীয় ও ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলার চর্চা অব্যাহত রাখা প্রয়োজন।
প্রতিবেদক: শিমুল হাছান,
১৪ আগস্ট ২০২৬