হাজীগঞ্জ

হাজীগঞ্জের ভন্ড কোয়াক ডাক্তার মাহফুজের জ্বালায় অতিষ্ঠ

‎Wednesday, ‎15 ‎April, ‎2015  01:48:30 PM

মিজানুর রহমান রানা :

চাঁদপুর জেলার হাজীগঞ্জ উপজেলার কোয়াক ডাক্তার মাহফুজের জ্বালায় অতিষ্ঠ তার প্রবাসী ছোট ভাই তাফাজ্জলের স্ত্রী শাবানা। এ নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদে বেশ ক’বার দেনদরবার হলেও বিষয়টি মিমাংসা করতে পারেনি কেউ।

জানা যায়, হাজীগঞ্জ উপজেলার ৪নং কালোচোঁ দক্ষিণ ইউনিয়নের রামপুর স্কুল এলাকার কোয়াক ডাক্তার মাহফুজের ছোট ভাই তাফাজ্জল বেশ কয়েক বছর আগে জীবন জীবিকা নির্বাহের জন্য প্রবাসে পাড়ি জমায়। তাদের পৈত্রিক বাড়ি সিদলা গ্রামের মজুমদার বাড়ি। রামপুর গ্রামে বসবাসের জন্য নিরাপদ এ বিবেচনায় বিদেশে থেকে তার আয়কৃত টাকা তার বড় ভাই মাহফুজের নিকট পাঠানো হলে ওই টাকা দিয়ে তার বড় ভাই মাহফুজ নিজের নামে রামপুর স্কুলের পেছনে জায়গা ক্রয় করে চেম্বার এবং বাসাবাড়ি গড়ে তোলে।

ছোট ভাই তাফাজ্জল প্রবাসে থেকে কষ্টার্জিত টাকা বড় ভাই মাহফুজের নিকট পাঠালে ওই টাকা দিয়ে সেখানে ওই ডাক্তার ভাইয়ের টাকায় নিজের নামে জায়গা সম্পত্তি খরিদ করে। ওই জায়গায় ছোট ভাই বাড়ি করে তার স্ত্রী শাবানা ও ছোট দু’সন্তানকে রেখে আবারও প্রবাসে পাড়ি জমায়।

এর মধ্যে তার বড় ভাই কুচক্রি মাহফুজের নজর পড়ে ছোট ভাইয়ের স্ত্রীর ওপর। তিনি ছোট ভাইয়ের স্ত্রীকে নানাভাবে বিয়ে করার জন্য ফুসলাতে থাকে। কিন্তু তাতে তার ছোট ভাইয়ের স্ত্রী রাজি না হলে গত ক’দিন আগে রাতে ছোট ভাইয়ের ঘরের দরজায় ধাক্কা দিলে তার ছোট ভাইয়ের স্ত্রী দরজা খুলে দিলে বড় ভাই মাহফুজ হঠাৎ করেই বাসায় প্রবেশ করে অন্ধকারে তার ছোট ভাইয়ের স্ত্রীকে জড়িয়ে ধরে ধর্ষণের জন্য চেষ্টা চালায়।

ছোট ভাইয়ের স্ত্রী চিৎকার চেঁচামেচি করলে লম্পট কোয়াক ডাক্তার মাহফুজ পালিয়ে যায়।

বিষয়টি নিয়ে তার ছোট ভাইয়ের স্ত্রীর নিকট জানতে চাইলে তিনি জানান, ‘আমি তাকে বড় ভাইয়ের মতো শ্রদ্ধা করতাম। কিন্তু তিনি আমাদেরকে এ জায়গা থেকে উৎখাত করার ষড়যন্ত্র করে সফল না হতে পেরে আমাকে শ্লীলতাহানি করার চেষ্টা করে। যাতে আমরা ভয়ে এ জায়গা থেকে চলে যাই। বিষয়টি আমি স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মিন্টু পাটওয়ারীকে অবহিত করেছি।’

এ বিষয়ে ডাক্তার মাহফুজের নিকট জানতে চাইলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘বিষয়টি আসলে ষড়যন্ত্র। একটি মহল আমাদের দু’ভাইয়ের মধ্যে ফ্যাসাদ লাগানোর জন্য এ সকল কথা আমাদের নামে প্রচার চালাচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে পত্র পত্রিকায় খবর প্রকাশ না করার জন্য তিনি এ প্রতিবেদকে চা খাওয়ারও আমন্ত্রণ জানান। তিনি বলেন, আসলে এ সকল খবর পত্রিকায় প্রকাশ না করে আপনি আমার সাথে যোগাযোগ করুন। আমি আপনার (প্রতিবেদকের) কোনো চাহিদা (উৎকোচ) থাকলে তা পূরণের চেষ্টা করবো।’

এ বিষয়ে এলাকাবাসী জানান, তাফাজ্জল আসলে একজন ভন্ড ডাক্তার। তিনি বিয়ের জন্য পাগল। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গা পরিচয় গোপন রেখে ৭/৮টি বিয়ে করেছে। এমনকি তার মেয়ের সমান বয়সী মেয়েকে পর্যন্ত নানা কলাকৌশলে বিয়ে করেছে।

এ ব্যাপারে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মিন্টু পাটওয়ারীর মুঠোফোনে তার বক্তব্য জানার চেষ্টা করে তার ফোনটি বন্ধ পাওয়া গেছে।

চাঁদপুর টাইমস : এমআরআর/২০১৫

নিয়মিত আপনার ফেসবুকে নিউজ পেতে লাইক দিন : https://www.facebook.com/chandpurtimesonline/likes

Share